Joyjit Banerjee marriage controversy

‘রঙিন জীবন নিয়ে এতটাই মত্ত ছিল জয়জিৎ, যে ভুলে গিয়েছিল বৌ-সংসার আছে’ তোপ শ্রেয়ার, কী জবাব অভিনেতার?

ডিসেম্বরে স্ত্রী শ্রেয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ হয়েছে অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিচ্ছেদের পর কী অভিযোগ অভিনেতার প্রাক্তনের?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৮
জয়জিতের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ শ্রেয়ার?

জয়জিতের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ শ্রেয়ার? ছবি: সংগৃহীত।

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ! কিছু দিন আগে আনন্দবাজার ডট কম-কে অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরে স্ত্রী শ্রেয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ হয়েছে তাঁর। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরেও অভিনেতার প্রাক্তন স্ত্রী কোনও মন্তব্য করেননি। তার মধ্যেই জোরালো হয়েছে শ্রেয়ার সঙ্গে ঈশান মিত্রের প্রেমের গুঞ্জন। বিতর্কের মাঝে প্রাক্তন স্বামী সম্পর্কে একগুচ্ছ অভিযোগ উগরে দিলেন শ্রেয়া।

Advertisement

শ্রেয়া এবং জয়জিতের ১৯ বছরের ছেলে আছে। আর তাঁদের একটি পোষ্যও রয়েছে। যদিও ছেলে যশোজিৎ সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি তাঁর ঠাকুরদা এবং ঠাকুমার কাছেই থাকবেন। এ কথা আগে জয়জিৎও জানিয়েছিলেন। শ্রেয়াও এই কথা বলেন। তিনি বলেন, “ছেলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও ঠাকুরদা-ঠাকুমার কাছে থাকবে। ওঁদের বয়স হয়েছে। ও মা-বাবা কারও সঙ্গেই থাকতে চায়নি।” ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখানে মা শ্রেয়া বা বাবা জয়জিতের কোনও প্রভাব নেই। সপ্তাহের শেষে মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে আসেন যশোজিৎ। এ কথাই জানিয়েছেন শ্রেয়া।

শ্রেয়া এ কথা বলতে বলতেই যোগ করেন, “জয়জিৎ আর একটা ভুল করেছে। আমাদের কনিষ্ঠ সন্তান আছে। সে আমাদের পোষ্য কুকুর। তার কোনও খবর নেয় না জয়জিৎ। প্রায় আড়াই বছর ধরে ও আমার কাছে আছে। আমাদের আলাদা হওয়ার দিন থেকে ও আমার সঙ্গে আছে।” প্রায় ১৯ বছর সংসারের পরে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। এই প্রেক্ষিতে শ্রেয়া আরও বলেন, “জয়জিৎ আমার সঙ্গে খুব ভাল ব্যবহার করেনি, যে কারণে আমাকে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়। আমাকে মাঝরাতে বলেছে ‘তুই আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা।’ তার পরেই ওই বাড়ি ছেড়েছি আমি। শেষ দিন অবধি চেষ্টা করেছিলাম বিয়েটা টিকিয়ে রাখতে। আমি যখন জয়জিৎকে বিয়ে করেছি তখন ও জ়িরো ছিল। আমরা মাটিতে ঘুমোতাম। বিয়ের পরে যেমন পড়াশোনা, চাকরি করতে ও আমাকে সাহায্য করে তেমনই ওর মা-বাবারও অনেক অবদান রয়েছে আমার জীবনে। যা আমি ভুলতে পারব না কখনও।”

এত অশান্তি, বিতর্কের মাঝে শ্বশুরবাড়ির অবদান তিনি কখনও ভুলবেন না। সেই সঙ্গে ঠাকুরদা, ঠাকুমা হিসাবে নাতিকে খুব যত্নে বড় করার কথাও স্বীকার করেন শ্রেয়া। তিনি আরও যোগ করেন, “আমার দুঃখের জায়গা হল, আমার শ্বশুর-শাশুড়িও শেষ আড়াই বছরে কোনও যোগাযোগ করেননি। আমি তো ওঁদের সঙ্গেও ২০ বছর কাটিয়েছি। এ দিকে ওঁদের ৫০ বছরের বিবাহবার্ষিকীতে ডেকেছিলেন লোক দেখাতে। যাতে সবাই বোঝে আমাদের মধ্যে সব ঠিক আছে। কিন্তু তার পর থেকে কেউ খোঁজ নেননি, আমি কেমন আছি।’’

শ্রেয়া আরও যোগ করেন, ‘‘জয়জিৎও বলেনি, তুই আমার বাড়িতে ফিরে চল। কারণ, জয়জিতের তো খুব রঙিন জীবন। সেটা সবার জানা। সেই রঙিন জীবন নিয়ে এতটাই মত্ত ছিল যে, ও ভুলে গিয়েছিল ওর বৌ আছে, সংসার আছে। আমাকে লোকে যা-ই বলুক না কেন আমি সংসার টেকানোর চেষ্টা করেছি। তবে এ ক্ষেত্রে বলব, আমারই অক্ষমতা। কারণ, একটা সময় পর্যন্ত জয়জিতের অসভ্যতা আমি নিয়েছি, তার পরে আর নিতে পারছিলাম না।”

শ্রেয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে যোগাযোগ করা হয় জয়জিতের সঙ্গে। যদিও দাম্পত্যকলহ, বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে সে ভাবে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন অভিনেতা। তিনি বললেন, “আমি এই সব কাদা ছোড়াছুড়ি করতে চাই না। শ্রেয়া আমার সন্তানের মা, আমার সম্পর্কে যা খুশি বলতে পারে। কে ঠিক, কে ভুল আগামী দিনে ঠিক জানা যাবে।”

উল্লেখ্য, ডিসেম্বরে আইনি বিচ্ছেদের আগে আড়াই বছর ধরে আলাদা থাকছিলেন তাঁরা। শ্রেয়া নিজে প্রতিষ্ঠিত সংস্থায় কর্মরত। অন্য দিকে শোনা যাচ্ছে, জয়জিৎকে দেখা যেতে পারে নতুন কোনও চরিত্রে।

Advertisement
আরও পড়ুন