নতুন ছবি শুরু করতে চলেছেন শুভ্রজিৎ মিত্র। ফাইল চিত্র।
শুভ্রজিৎ মিত্র নতুন ছবি বানাতে চলেছেন। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পর এ বার তাঁর পছন্দ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শোনা গিয়েছিল, ছবির পটভূমিকায় দুই বোন। এ-ও শোনা গিয়েছিল, দুই খ্যাতনামী রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুচিত্রা মিত্রের জীবনের ছায়া নাকি থাকছে সেখানে।
নতুন বছরে নতুন ছবি ‘মায়ামৃগয়া’র পোস্টার প্রকাশ্যে আনলেন শুভ্রজিৎ। একমাত্র সাক্ষী আনন্দবাজার ডট কম। সাদা-কালো পোস্টারটিতে দুই নারীকে ঘিরে রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং জনৈক পুরুষ। দুই নারীর একজন সেতার বাজাচ্ছেন। অন্যের হাতে বাঁশি। “পোস্টারের মতো পুরো ছবিটিও সাদা-কালো!” ডিজিটাল যুগে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ট হোয়াইট’ যুগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা পরিচালকের। ছবিটি মুক্তি পাবে এ বছরের শীতে।
নতুন ছবি প্রসঙ্গে পরিচালক সবিস্তার তথ্য দিলেন এর পরেই। জানালেন, তাঁর ছবি রবীন্দ্রনাথের ‘দুই বোন’ অবলম্বনে তৈরি হবে। কোনও দুই খ্যাতনামী রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীর জীবন নিয়ে নয়। পরিচালকের কথায়, “সম্ভবত রবীন্দ্রনাথের ‘মালঞ্চ’ উপন্যাস দুই কিংবদন্তি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীর জীবনের ছায়ায় রচিত।” তাঁর মতে, ‘দুই বোন’ উপন্যাসটি সম্ভবত এখনও ‘ভার্জিন’। কেউ এই উপন্যাসটিকে নিয়ে কাজ করেননি বলেই তিনি আগ্রহী। রবীন্দ্রনাথের শেষের দিকের তিনটি উপন্যাসের একটি এটি। পাশাপাশি, ঔপন্যাসিকের ‘নষ্টনীড়’ উপন্যাসের ‘অ্যান্টিথিসিস’ উপন্যাস এটি। ‘নষ্টনীড়’ উপন্যাসে এক নারীতে আবর্তিত দুই পুরুষ। ‘দুই বোন’ উপন্যাসে ঠিক তার উল্টো। দুই বোনকে ঘিরে এক পুরুষের কাহিনি। যে স্ত্রীর মধ্যে মা এবং প্রেমিকা, দুই সত্তাকে খোঁজে।
মূলত, ১৯৩০ সালকে পর্দায় ধরতে চলেছেন শুভ্রজিৎ। ইতিহাস মেনে ছবিতে দেখা যাবে যুবক সুভাষচন্দ্র এবং ষাটোর্ধ্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে!
এর আগে আনন্দবাজার ডট কমকে শুভ্রজিৎ বলেছিলেন, তাঁর আগামী ছবিও যথারীতি তারকাখচিত।
নতুন বছরের নতুন ছবি ‘মায়ামৃগয়া’র পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত।
পরিচালকের হেঁয়ালি, “বাংলার ‘সুপারস্টার’রা তো থাকবেনই। বলিউডে যে সমস্ত তারকার বাংলার সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে যোগ রয়েছে, তাঁরাও থাকতে পারেন ছবিতে। তবে এখনও অভিনেতা চূড়ান্ত হননি। রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র কারা হবেন? প্রসেনিজৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কি বাংলা ছবিতে পর্দাভাগ করবেন কাজল, রানি মুখোপাধ্যায়? চওড়া হাসিতেই আপাতত সব উত্তর ঢেকেছেন পরিচালক। প্রতি বারের মতো এই ছবিতেও রূপটানের দায়িত্বে সোমনাথ কুণ্ডু। পোশাকশিল্পী পৌলমী গুপ্ত। গানের দায়িত্বে বিক্রম ঘোষ। ন’টি রবীন্দ্রগান থাকবে তাতে। ক্যামেরা সামলাবেন অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়।
গানের ক্ষেত্রেও পরীক্ষানীরিক্ষা করবেন পরিচালক। চিরাচরিত রবীন্দ্রসঙ্গীত ছবিতে ব্যবহার করবেন না তিনি। “যেমন, রবীন্দ্রগানের সঙ্গে মোৎজ়ার্টকে জুড়ে ছবিতে পরিবেশন করতে পারি।” এই ভাবনা বাস্তবায়িত করতে ইউরোপে গান রেকর্ডিং করা হবে। বিদেশি বাদ্যযন্ত্রী এবং কণ্ঠশিল্পীরাও হয়তো সে ক্ষেত্রে থাকবেন। ছবির আরও চমক, পরিচালনার পাশাপাশি এই ছবির প্রযোজকও শুভ্রজিৎ। পাশাপাশি, গায়ক দুর্নিবার সাহা এই ছবিতে নতুন ভূমিকায়। তিনি এই ছবির সহকারী পরিচালক! সব ঠিক থাকলে পয়লা বৈশাখের পর কাজ শুরু হবে। সেট ছাড়াও হিমাচল প্রদেশ, দার্জিলিং, কলকাতা-সহ নানা অঞ্চল ঘুরে শুটিং করবেন শুভ্রজিৎ। তখন জানাবেন অভিনেতাদের নাম।