(বাঁ দিকে) সুদীপা চট্টোপাধ্যায় , (ডান ডিকে) অগ্নিদেব চট্টোপাধ্য়ায়। ছবি: সংগৃহীত।
সুদীপা চট্টোপাধ্যায় যা-ই করেন, তা নিয়েই সমালোচনার সম্মুখীন হন। দিনকয়েক আগেই সঞ্চালিকা তথা অভিনেত্রী জানান যে, তাঁর ছোট ননদকে হারিয়েছেন। মাঝে একটা লম্বা সময় অসুস্থ ছিলেন সুদীপার স্বামী পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। এ বার সমাজমাধ্যম জুড়ে অগ্নিদেবের ভুয়ো মৃত্যুসংবাদ। একেই স্বজনবিয়োগের যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা, এর মাঝে স্বামীকে নিয়ে এমন পোস্ট— এ সব প্রভাব ফেলে সুদীপার উপর?
গত কয়েক বছর ধরে সমাজমাধ্যমে সক্রিয় সুদীপা। প্রায় সাড়ে চার লক্ষ লোক তাঁকে অনুসরণ করেন। এখন সমাজমাধ্যমের এমন ধারা নাকি তাঁর গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে। সুদীপার কথায়, ‘‘এখন আমি সমাজমাধ্যমেই কাজ করি। তাই এই ধরনের জিনিস আর খুব একটা প্রভাব ফেলে না। আগে এই ধরনের খবর দেখলে কেঁদে ফেলতাম। কিন্তু, এখন যেটা অসুবিধে হয়, আমাদের অনেক বর্ষীয়ান আত্মীয়-পরিজনেরা আছেন। তাঁরা বিচলিত হয়ে পড়েন। আমাদের বার বার ফোন করে জিজ্ঞাসা করেন যে, অগ্নির স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু লুকিয়ে যাচ্ছি কি না! তবে আমি আজকাল সমাজমাধ্যমকে খুব যে গুরুত্ব দিই, তেমন নয়। আসলে সমাজমাধ্যমটা অর্ধশিক্ষিত মানুষে ভরে গিয়েছে।’’
স্বামী ও ননদের সঙ্গে সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
সুদীপা জানান, তাঁকে কিংবা তাঁর পরিবারকে নিয়ে এই ধরনের কুৎসা এই প্রথম রটছে না। বাংলাদেশে একটি অনুষ্ঠান করতে গিয়ে গরুর মাংস রান্না নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়। সেই সময়টা সুদীপার সঙ্গে ছিল তাঁর ছোট ছেলে আদিদেব। সুদীপার কথায়, ‘‘ওই সময় ছেলেকে স্কুলে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, আমরা বাড়িতে গরুর মাংস খাই কি না? আসলে আমাদের সন্তানেরা তো ‘জেন আলফা’। ওদের এ সব জিনিস বিচলিত করে না, যতটা আমাদের করে।’’
সুদীপা জানান, একটা সময়ে এই ধরনের সমালোচনা দেখলে চুপ করে থাকতেন। কিন্তু, এখন পাল্টা জবাব দিতে শিখে গিয়েছেন। সুদীপার কথায়, ‘‘এখন তো লোকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এত কষ্ট করে উঠে আসা মানুষকে যে ভাষায় গালিগালাজ করে, তা দেখেও বিস্মিত হই। যদি তারা একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে এই ভাষায় বিদ্ধ করতে পারে, তা হলে আমি কোন ছাড়!’’