রাহুলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে তালসারি গিয়েছিলেন। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। পুত্রের মৃত্যুর খবর পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন রাহুলের মা। জানিয়েছেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। আনন্দবাজার ডট কম-কে জানান, তিনি এই মুহূর্তে রাহুলের বাড়িতেই রয়েছেন।
সুদীপ্তা নিজেও অশ্রুবিহ্বল কণ্ঠে বলেন, “রাহুল অতীত হয়ে গিয়েছে, এটা ভাবতে পারছি না। বলার ভাষা নেই আমার কাছে। আমার সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।”
পরিচালক অরিন্দম শীলের ‘ব্যোমকেশ গোত্র’-ছবিতে অজিতের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রাহুল। রবিবার ‘কর্পূর’-এর জন্য হল ভিজ়িট করতে গিয়েছিলেন পরিচালক। তখনই এই খবর পান তিনি। অরিন্দমের প্রতিক্রিয়া, “ও তো আমার অজিত। ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ ছবিতে অজিতের চরিত্রে অভিনয় করেছিল। খুব আনন্দ করে শুটিং করেছিলাম আমরা। পড়াশোনা করতে ভালবাসত। বইয়ের নেশা ছিল রাহুলের। ‘কর্পূর’-এর হল ভিজ়িট করতে গিয়েছিলাম আজ। প্রেক্ষাগৃহে ঢোকার সময়ে আচমকাই খবর পেলাম। এক মিনিট নীরবতা, শুধু এটুকুই করতে পারলাম রাহুলের জন্য।”
রাহুলের মৃত্যুতে বাক্রুদ্ধ চন্দন সেনও। পড়াশোনা নিয়ে রাহুল তাঁর সঙ্গে প্রায়ই আলোচনা করতেন। তাই মৃত্যুর খবরে অভিনেতার প্রতিক্রিয়া, “বহু দিনের সঙ্গী চলে গেল। আবার থিয়েটার করা শুরু করেছিল ও। ভাল কাজ করছিল। এমনকি, বহু দিন আগে ও নেশা করাও বন্ধ করে দিয়েছিল। সৃজনশীল কাজ নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছিল। কাজ নিয়ে বহু পরিকল্পনা ছিল ওর।” আর্টিস্ট ফোরামের কাছ থেকে খবর পেয়েছেন চন্দন সেন।
চৈতি ঘোষাল এই খবরে শোকস্তব্ধ। অভিনেত্রী বলেন, “আমাকে যে ওঁর মৃত্যুর খবরে প্রতিক্রিয়া দিতে হচ্ছে, তাই অকল্পনীয়। কিছু দিন আগে ও আমাকে পডকাস্টে ডেকেছিল। ও খুবই পড়াশোনা করা মানুষ ছিল। রাহুলের সঙ্গে দেখা হলেই আন্তরিক বাক্যালাপ হত। ওর লেখা পড়ে ওকে জানাতাম। এখন রাহুল বলে ডাকছি ওকে। কিন্তু আমি তো ওকে অরুণ বলে ডাকতাম। আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। তাই কাঁদতে চাই না।”
রাহুলের জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘সহজ কথা’র প্রথম পর্বে অতিথি হয়ে এসেছিলেন সঙ্গীতশিল্পী রূপম ইসলাম। অভিনেতার মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ রূপম। গায়কের কথায়, “রাহুলকে নায়ক হিসাবে অনেক আগে থেকেই চিনি। কিন্তু, ওর মতামত, ওর লেখালিখি, আমাদের আলাপ ও আলোচনার ভিত্তিতে ওকে একটা স্বতন্ত্র কণ্ঠ হিসাবে চিনি। সবসময়েই মনে হয়েছে যে ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে থেকেও ও যেন একটা অন্য মত। খানিকটা ইন্ডাস্ট্রির বাইরের লোক। যার ফলে ওর এই স্বাতন্ত্র্য। তার পরে ও যখন 'সহজ কথা' শুরু করে, তখন ওর দাবি ছিল যে, প্রথম পর্বে আমাকে থাকতে হবে। এর কারণ হয়তো আমাকে একটু বেশিই ভালবাসত। আমি জানতাম না যে ও কতটা খোঁজ রাখে। কিন্তু, গিয়ে দেখলাম যে, সব বিষয়ে যেমন ও পড়াশোনা করে, ওর সেই বৃত্তের মধ্যে আমিও কোথাও রয়েছি। ও আমাকে যা যা প্রশ্ন করেছিল, সেগুলি অত্যন্ত ইউনিক। কলকাতার বিনোদন জগতের মধ্যে এক জন যে এ রকম প্রশ্ন আমাকে করতে পারবে, বা আদৌ করবে বা করা প্রয়োজন বলে মনে করবে, আমি ভাবতে পারিনি। উত্তর দিয়েছিলাম বটে। তবে বিস্মিত হয়েছিলাম অনেক বেশি। এ সব কথা স্মৃতিতে ভিড় করে আসছে। আরও অনেক কিছু মনে পড়ছে। শেষ দেখা হয়েছিল আমাদের নতুন অ্যালবামের উদ্যাপনের পার্টিতে। সেখানে এসে জানিয়েছিল ‘সহজ কথা’ খুব ভাল চলছে, সবকিছুই ভাল চলছে। এই খবরটা আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। কোনও কথাই বলতে পারছিলাম না। এখন স্মৃতিচারণের সূত্রেই কিছু কথা বলে ফেললাম।”