Karimpur Election Result 2026

প্রথমে এগিয়ে থেকেও হেরে গেলেন করিমপুরের তৃণমূলপ্রার্থী সোহম! জয় এল না ইন্দ্রনীল-অর্পিতারও

এই নিয়ে পর পর তিন বার বিধানসভা ভোটে লড়লেন সোহম চক্রবর্তী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন। তবে জয়ের ধারা বজায় রইল না ২০২৬-এ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ ২২:৩৪
পরাজিত তৃণমূলের সোহম চক্রবর্তী, ইন্দ্রনীল সেন, অর্পিতা ঘোষ।

পরাজিত তৃণমূলের সোহম চক্রবর্তী, ইন্দ্রনীল সেন, অর্পিতা ঘোষ। ছবি: সংগৃহীত।

রাজ্য জুড়ে গেরুয়া ঝড়। একাধিক ‘নিশ্চিত’ কেন্দ্রও হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। নদিয়ার করিমপুর থেকে গত বিধানসভা ভোটে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সেই ছবিও বদলে গেল ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে। করিমপুর কেন্দ্র থেকে এ বার তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়েছিলেন তারকা প্রার্থী, অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। সর্বশেষ রাউন্ডের গণনার শেষে ১০,১৮৫ ভোটে তাঁকে পিছনে ফেলে জয়ী বিজেপির সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। গণনা শুরু যখন হয়, তখন যদিও এগিয়ে ছিলেন সোহম। মাঝে ব্যবধান কমতে থাকে। শেষমেশ হারলেন তিনি।

Advertisement

প্রথম দিকে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূলপ্রার্থী। চতুর্থ রাউন্ড শেষে করিমপুর বিধানসভায় ১৪,৭৫৩ ভোটে এগিয়ে যান সোহম। ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২১,৪৯৭। আবার অষ্টম রাউন্ডের শেষে ব্যবধান কমে হয় ১৮,৩৯৩। দশম রাউন্ড গণনার শেষে সেই ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৯,৮৩৫। ১৫ রাউন্ডের শেষে সমরেন্দ্রের থেকে ৮৮৫ ভোটে পিছিয়ে যান সোহম। সেই ব্যবধান আরও বাড়তে থাকে। ২১ রাউন্ডের শেষে সমরেন্দ্রের থেকে ৮৫৯৬ ভোটে পিছিয়ে যান সোহম। ২৩ অর্থাৎ সর্বশেষ রাউন্ডের গণনার শেষে ১০,১৮৫ ভোটে হেরে গেলেন সোহম। করিমপুর কেন্দ্র থেকে ২০২১ সালেও বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়েছিলেন সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। তবে জিতেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়।

এই নিয়ে পর পর তিন বার বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে লড়লেন সোহম। ২০১৪ সালে তৃণমূলে যোগ দেন অভিনেতা। তখন রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হয় তাঁকে। ২০১৬ সালে প্রথম ভোটের ময়দানে নামেন সোহম। বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়েন। কিন্তু, প্রায় ৬১৬ ভোটে হারেন বামপ্রার্থী সুজিত চক্রবর্তীর কাছে। এর পরের বিধানসভা নির্বাচনে বদলে দেওয়া হয় তাঁর কেন্দ্র। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন তিনি। জেতেন বিজেপি প্রার্থী পুলককান্তি গুড়িয়াকে ১৩,৪৭২ ভোটে পিছনে ফেলে। ২০২৬ সালের ভোটে ফের তাঁর কেন্দ্র বদল হয়।

এই পাঁচ বছরে একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেতা। এই বিধানসভা নির্বাচনের মুখেই, ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন আর এক অভিনেতা-রাজনীতিবিদ শাহিদ ইমাম। আনন্দবাজার ডট কম-কে শাহিদ জানান যে, সোহম তাঁর কাছ থেকে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। ঋণের সামান্য অংশ ফেরত দিয়ে নীরব হয়ে যান অভিযুক্ত অভিনেতা। বদলে শাহিদকে নাকি হুমকি দিতে থাকেন সোহম। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিনেতা। অন্য দিকে, শাহিদ নিজেও নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে জেল খেটেছেন। এর আগে নিজের আপ্ত সহায়কের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন সোহম নিজেই। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পরেই ২০২২ সালে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হন সোহমের আপ্ত সহায়ক সজল মুখোপাধ্যায়। সজলের বিরুদ্ধে তিনি বলেছিলেন, “আমারই পিছনে সে আমাকে লুঠ করছিল। এমনকি, মানুষের সঙ্গে প্রতারণাও করছিল। এটা আমি মেনে নিতে পারিনি। তাই আমার মনে হয়েছে প্রশাসনের হাতে তাকে তুলে দেওয়া উচিত। তা-ই করেছি।’’

শুধু এইটুকুই নয়। এর আগে, ২০২৪ সালের জুন মাসে নিউ টাউনের এক রেস্তরাঁর মালিককে মারধর করার অভিযোগ ওঠে অভিনেতার বিরুদ্ধে। বিস্তর জলঘোলা হয় সেই সময়ে। এক শুক্রবার সন্ধ্যায় রেস্তরাঁর মালিককে মারধর করে রেস্তরাঁ বন্ধের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে চণ্ডীপুরের তৎকালীন বিধায়কের বিরুদ্ধে। ওই রেস্তরাঁর একটি ফ্লোরে শুটিং চলছিল সোহমের। সেই সময়েই রেস্তরাঁর সামনে শুটিং ইউনিটের গাড়ি রাখা নিয়ে সোহমের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বচসা শুরু হয় মালিক আনিসুল আলমের। আনিসুলের দাবি, একটি পার্কিং খালি করতে বললে সোহমের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁর উপর চড়াও হন। অভিযোগ, এর পর সোহমও তাঁকে মারধর করেন। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পরে অবশেষে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি।

অন্য দিকে, বালুরঘাটে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ। প্রথম থেকেই ছিলেন পিছিয়ে। সম্পূর্ণ গণনার শেষে ৪৭,৫৭৬ ভোটে তাঁকে পিছনে ফেলে জয়ী বিজেপি-র বিদ্যুৎকুমার রায়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালেও এই আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। তৃণমূলের শেখর দাশগুপ্তকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী অশোককুমার লাহিড়ি। তবে, নিজের পুরনো কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়িয়েও পরাজিত তৃণমূলের অপর তারকা প্রার্থী, গায়ক ইন্দ্রনীল সেন। ২০২১ সালে চন্দননগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়ে বিধায়ক হন ইন্দ্রনীল। এ বারে প্রায় ১৩ হাজার ৪৪১ ভোটে তাঁকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি-র দীপাঞ্জন কুমার গুহ।

Advertisement
আরও পড়ুন