Rahul Bose Interview

যে কোনও শৈল্পিক প্রকাশকেই মান্যতা দেওয়া উচিত, অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত নয়: রাহুল বোস

মুম্বই থেকে ছবির ঘোষণায় উড়ে এলেন কলকাতায়। বাংলার পরিচালকদের অন্যতম পছন্দের অভিনেতা রাহুল বোস কথা বললেন আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে।

Advertisement
অনসূয়া বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৯:০২
রাহুল বোসের ‘বং কানেকশন’।

রাহুল বোসের ‘বং কানেকশন’। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলা ছবির প্রথম সারির পরিচালকদের পছন্দের অভিনেতা তিনি। ছবি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রীতিমতো নাকউঁচু। এ বার বন্ধু অনুপম খেরের প্রযোজনায় ফের বাংলা ছবিতে অভিনেতা রাহুল বোস। মুম্বই থেকে উড়ে এলেন ছবির ঘোষণায়। ছবির নাম ‘শুরু থেকে শুরু’। বাংলা ছবি, পরিচালক, ছবির কনটেন্ট থেকে দর্শকের পছন্দ— সব বিষয় নিয়ে কথা বললেন আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে।

Advertisement

প্রশ্ন: বেশ কয়েক বছর পর বাংলা ছবি করতে রাজি হলেন?

রাহুল: হ্যাঁ, আসলে তেমন ভাল চিত্রনাট্য পাইনি এর মধ্যে। আর সম্প্রতি কোনও বাংলা ছবি দেখাও হয়নি। অনেক দিন পর এই চিত্রনাট্যটা বেশ লাগল।

প্রশ্ন: এখন ছবি বাছার ক্ষেত্রে কী কী বিষয় মাথায় রাখেন?

রাহুল: গল্প দেখি। চরিত্রও আমার জন্য জরুরি অবশ্যই। আমি আগে এই ধরনের চরিত্র করেছি কি না, যেন একঘেয়ে হয়ে না যায় — এই সব দিকে নজর থাকে। এই ধরনের চরিত্রে নতুন কিছু যোগ করার আছে কি না, আমার তরফ থেকে সেটা সবার আগে দেখি। বলা ভাল, সেই দিকেই জোর দিই।

প্রশ্ন: ‘শুরু থেকে শুরু’ ছবির চরিত্র কি সেরকমই?

রাহুল: হ্যাঁ, চরিত্রটা ভাল লেগেছে। আর চিত্রনাট্যও একদম অন্যরকম লেগেছে। চরিত্রটি একেবারে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’, এই চরিত্রটা বেশ কঠিন। একটা রোম্যান্টিক ছবিতে এই ধরনের চরিত্র করতে মজা লাগবে। কারণ, এই ধরনের চরিত্র পুরোটা লেখা যায় না। অভিনয়ের সময় অভিনেতাকে তৈরি করতে হয়, যেটা করতে আমার খুব ভাল লাগবে বলে মনে হয়েছে।

একঘেয়ে চরিত্র হলে সেই ছবি করি না: রাহুল।

একঘেয়ে চরিত্র হলে সেই ছবি করি না: রাহুল। ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: অনুপম খেরের সঙ্গে আপনার বন্ধুত্ব গভীর, মতের অমিলও হয়?

রাহুল: আমরা একসঙ্গে চারটে ছবি করেছি। সেই থেকেই বন্ধুত্ব। খুব মজার মানুষ। বাইরে থেকে দেখলে অনুপম খের আর রাহুল বোস মানুষটা মোটেই এক নয়, অনেকটাই আলাদা। কিন্তু দু’জনের ‘সেন্স অফ হিউমার’ মেলে। আমরা দারুণ সময় কাটাই। ওঁর প্রতি খুব ভালবাসা আছে আমার, শিল্পী হিসাবে তো বটেই, মানুষ হিসাবেও।

প্রশ্ন: বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে যোগাযোগ তো ছোট থেকেই আপনার?

রাহুল: হ্যাঁ। আমার ছোটবেলার পুরোটাই তো বাংলায় কেটেছে। আমার বাবা এখানেই ছিলেন। দুর্গাপুজোর সময়, শীতকালে আমরা সপরিবার আসতাম কলকাতায়। আমি অবশ্য মারাঠার সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম, কোলাপুরে। আমি আসলে এই দেশের সঙ্গেই জড়িয়ে। যে যে জায়গায় আমি ঘুরেছি, সেই সব জায়গায় অনেকেই যাননি। বাংলার সিনেমা, বাংলার সাহিত্য, বাঙালি খাবার সব মিলিয়ে একটা সভ্যতা। দারুণ লাগে। শুধু ভারত কেন, এটা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশও। অপ্রতিরোধ্যও বটে। এবং মুম্বইয়ের পর আমার প্রিয় শহর কলকাতা।

প্রশ্ন: বাংলার প্রথম সারির পরিচালকদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

রাহুল: আমি প্রথম থেকেই বাংলার সঙ্গে কাজ করি। প্রায় পঁচিশ বছর হয়ে গিয়েছে। আমি যখন মুম্বই থেকে আসতাম তখন কেউ আসতেন না। অপর্ণা সেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, সুমন ঘোষ, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সকলের সঙ্গে কাজ করেছি। রামকমল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও ‘বিনোদিনী’-তে কাজ করলাম। আমার এখানে কাজ করতে ভাল লাগে। আমি ভাগ্যবান, তাই ফিরে ফিরে আসি।

প্রশ্ন: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকের পছন্দ বদলায়, সেই পছন্দ অনুযায়ী এখন ছবি তৈরির চল হয়েছে। কী ভাবে দেখেন?

রাহুল: আমি বিশ্বাস করি, সিনেমা জীবনের মতোই চক্রাকার। পাঁচ বছর অন্তর অন্তর তা বদলায়। হয় সকলে রোম্যান্টিক ছবি বানাচ্ছেন, নয় তো সোশ্যাল ড্রামা। চক্রাকারে ঘুরতেই থাকে। আমি বিশ্বাস করি, চিত্রনাট্য যদি ভাল হয় সিনেমাও ভাল হবে। আর তা যদি মানুষকে ছুঁয়ে যায়, তা হলে তো কথাই নেই। কী চলবে, কী চলবে না, সেটা অবশ্যই পরের বিষয়।

প্রশ্ন: ছবিতে সৃজনশীল প্রকাশ এই মুহূর্তে কোথায় দাঁড়িয়ে বলে মনে হয়?

রাহুল: আমি বিশ্বাস করি, সব ধরনের শৈল্পিক প্রকাশকে মান্যতা দেওয়া উচিত। প্রত্যেকের সৃজনশীলতা প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তাকে হঠাৎই থামিয়ে দেওয়া হবে, তা একেবারেই উচিত নয়। আর ভাবনা ক্রমে ক্রমে উন্নীত করা উচিত। সমাজ কী নেবে বা নেবে না, সেটা অন্য বিষয়। দেখা বা না-দেখার স্বাধীনতা তো সকলেরই রয়েছে। আর আমাদের তৈরি করার অধিকার রয়েছে। আমরা সমাজে কী ভাবে বাঁচছি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। গ্রহীতা কী ভাবে নিচ্ছেন, সেটা তো একেবারেই তাঁদের বিষয়। কিন্তু এর জন্য তো সৃজনশীল কাজ থেমে থাকবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন