Bengal election celebrity voter

আদর্শ নেই? রাজনীতি কি চাকরি নাকি, যে চাইবে কোম্পানি বদলে অন্য অফিসে চলে যাবে: অনির্বাণ

তাঁরাও ভোটার। তবে তাঁদের ভাবনা-চিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে তেমনই কয়েক জন তারকা ভোটারের কাছে ১৩টি প্রশ্ন নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। এ দফায় উত্তর দিলেন অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৮
রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের আগে নিজের মতামত জানালেন অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী।

রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের আগে নিজের মতামত জানালেন অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?

অনির্বাণ চক্রবর্তী: মুখ্যমন্ত্রী এমন একজন হবেন, যিনি ধর্মনিরপেক্ষ। যিনি শিক্ষার কথা ভাববেন। যিনি সর্ব স্তরের মানুষের মঙ্গল চিন্তা করবেন। যিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাজ করবেন। তিনি মনে রাখবেন, যারা তাঁকে ভোট দিয়েছে, তিনি যেমন তাদের মুখ্যমন্ত্রী, তেমনই যারা তাঁকে ভোট দেয়নি, তিনি তাদেরও মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

২. দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?

অনির্বাণ: দল দেখে। প্রাথমিক ভাবে আমাদের এখানে সেটাই সংস্কৃতি। দল দেখেই ভোট দেওয়া হয়। অনেক সময়ে এ রকম হয় যে, আমি যে দলকে সমর্থন করি, তার বিপরীত দিকে একজন যোগ্য প্রার্থীই দাঁড়িয়েছেন। এই রকম যদি হয়, তা হলেও কিন্তু দলটাই গুরুত্ব পায় আমার ক্ষেত্রে।

৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?

অনির্বাণ: ন্যূনতম কিছু যোগ্যতা দেখে নেওয়া দরকার। একজন প্রার্থী, তিনি যে দলেরই হোন না কেন, যে আদর্শেরই হোন না কেন, তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড, তাঁর রাজনৈতিক পড়াশোনা, তিনি কত দিন রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত থেকেছেন— এই জিনিসগুলো দেখে নেওয়া দরকার। জেতার পর বড় দায়িত্ব সামলানোর আগে তো তাঁর প্রশিক্ষণ নেওয়া অবশ্যই জরুরি। তাঁর হয়তো অভিপ্রায় আছে ভাল কাজ করার, কিন্তু প্রশিক্ষণ না থাকলে তিনি তা বাস্তবায়িত করতে পারবেন না।

৪.নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?

অনির্বাণ: আমি অনেক রকম অবাস্তব পরিস্থিতি কল্পনা করে নিতে পারি। কিন্তু আমি বিধায়ক হয়েছি, এটা কিছুতেই ভাবতে পারছি না। (হাসি)

৫.আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?

অনির্বাণ: আমাদের এখানে বেসিক নিড্স যেগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এত বেশি কাজ করার জায়গা রয়েছে যে, সেখানে বিনোদন আমার মনে হয় অনেকটা পরে আসে। আমাদের দেশের জনসংখ্যা বিশাল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যের মতো প্রাথমিক চাহিদাগুলো মেটানো আগে দরকার।

৬.নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?

অনির্বাণ: খুব কঠিন প্রশ্ন। হয়তো রাজনীতিবিদরা ভাল উত্তর দিতে পারবেন। তবে এটুকু বলাই যায় যে, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চাইলে প্রথমেই যাঁরা এটা কন্ট্রোল করছেন, তাঁদের পক্ষপাতমুক্ত থাকতে হবে। আমি জিতব না হারব, সেটা বাদ দিয়ে প্রক্রিয়াটিকে দুর্নীতিমুক্ত রাখব, এটাই প্রথম কাজ হিসাবে নিতে হবে তাঁদের।

৭.ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

অনির্বাণ: এই জিনিসটা আমার একটু অদ্ভুত লাগে। এই জন্য যে, প্রত্যেকটা দলেরই তো আলাদা আলাদা আদর্শ আছে। এই আদর্শ বিশ্বাস করেই একজন সেই দলটা করেন। এ বার রাতারাতি একদম বিপরীত একটা দলে চলে গিয়ে, সেই দলের আদর্শ বিশ্বাস করা, এটা কেমন ভাবে সম্ভব আমি ঠিক বুঝতে পারি না। তা হলে কি আদর্শ বাদ দিয়ে রাজনীতি স্রেফ একটা কেরিয়ার বা চাকরির মতো? চাইলেই কোম্পানি বদলে অন্য অফিসে চলে যাওয়া যায়!

৮.রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?

অনির্বাণ: অবশ্যই এটা বন্ধ হওয়া জরুরি। যে কোনও দলের প্রার্থী তো নিজের দলের ভাবনাচিন্তা, পরিকল্পনা জনগণের সামনে বলবেন। বিপরীত দলের যিনি প্রার্থী, তাঁকে খারাপ ভাষায় আক্রমণ করা তো কাজের কথা নয়।

৯.দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

অনির্বাণ: তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনটিই প্রয়োজনীয়।

১০.ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?

অনির্বাণ: ভাতায় কিছু জিনিসের হয়তো স্বল্পমেয়াদি সমাধান হয়। ভাতা বন্ধ করে দিলে বহু মানুষ সমস্যায় পড়বেন। তবে ভাতা সব কিছুর সমাধানও করে না। এটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসাবে ধরা যাবে না। তার একটা বড় কারণ হচ্ছে, আমাদের দেশের বিপুল জনসংখ্যা এবং মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা। শিক্ষাও জড়িয়ে আছে ব্যাপারটার সঙ্গে।

১১.প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?

অনির্বাণ: কখনওই স্বাস্থ্যকর নয়। কোনও বিরোধী না থাকলে তো ব্যাপারটা একনায়কতন্ত্র হয়ে যাবে। একটা মত এবং তার বিপরীত মত থাকা জরুরি। সেটাই তো গণতন্ত্রে হওয়া উচিত।

১২.তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?

অনির্বাণ: হচ্ছে যে, তা তো দেখাই যাচ্ছে। তবে খেয়াল করতে হবে তারকারাও যখন কোনও দলের হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তখন কিন্তু দলটাই বড় হয়েছে। মানুষ জানতে চেয়েছে, তুমি কোন দলের হয়ে দাঁড়িয়েছ?

১৩.পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?

অনির্বাণ: অনেকেরই অনেক কাজ আমার ভাল লেগেছে। কিন্তু আমি কোনও বিশেষ রাজনীতিবিদের অন্ধ ভক্ত নই। প্রায় সকলের মধ্যেই ভাল আর খারাপ মিশে আছে।

Advertisement
আরও পড়ুন