ক্রমে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের আশঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত।
অনেকেই মনে করেন, ফ্যাটি লিভারের সমস্যা শুধু অতিরিক্ত ওজন, স্থূলত্ব ও মদ্যপানের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু বাস্তবে এই বিষয়টি অনেকখানি আলাদা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, যাঁদের ওজন খুব বেশি নয়, তবু তাঁরা ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। এই কারণেই চিকিৎসকেরা এখন এই রোগকে ‘নীরব মহামারি’ বলেও উল্লেখ করছেন।
ফ্যাটি লিভার হল এমন এক অবস্থা, যখন লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে এর তেমন কোনও লক্ষণ দেখা না গেলেও দীর্ঘ দিন অবহেলা করলে তা লিভারের প্রদাহ, ক্ষত এবং গুরুতর রোগের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি কানাডা নিবাসী চিকিৎসক তনিশা শেকদার সমাজমাধ্যমে দাবি করলেন, দক্ষিণ এশীয়দের শরীরের গঠন, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং যাপনের কিছু বিশেষ অভ্যাসের কারণে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি তুলনামূলক ভাবে বেশি। ফলে রোগটি অনেক সময়ে এমন কাউকে আক্রমণ করে, যাঁদের দেখে বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলেই মনে হয়। চিকিৎসকের মতে, দক্ষিণ এশিয়া নিবাসীরা মূলত তিনটি ভুল করেন বলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত কি? ছবি: সংগৃহীত
কী কী সেই ভুল?
মধ্যরাতে খাবার খাওয়া: নৈশভোজ সেরে নেওয়ার পরেও রাত জেগে কিছু না কিছু খেয়ে মুখ চালানোর বদভ্যাস রয়েছে অনেকের। তাতে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা উপরের দিকেই থাকে। কিন্তু যখন শরীরের বিশ্রাম চাই, ঘুম চাই, তখন হরমোনের এই হেরফেরের কারণে খারাপ প্রভাব পড়ে। ইনসুলিনের মাত্রা নীচে নামার সুযোগই যদি না পায়, লিভারকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত গ্লুকোজ়কে ফ্যাটে পরিণত করতে হয়। এর ফলে ফ্যাটি লিভারের আশঙ্কা বাড়তে থাকে। কিছু গবেষণায় নাকি দেখা গিয়েছে, জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে শরীরের মধ্যভাগে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়তে পারে এবং ইনসুলিনের প্রতি রেজ়িস্ট্যান্স বেশি থাকতে পারে।
প্রোটিন ছাড়া প্রাতরাশ: অনেকেই সকালে কার্বোহাইড্রেটে ভরা প্রাতরাশ করেন, যাতে প্রোটিন থাকে না, অথবা অত্যন্ত কম থাকে। কিন্তু প্রোটিনে ভরা খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থির থাকে। কারণ, শরীর গ্লুকোজ় কম শোষণ করতে পারে এবং খাওয়ার পর চট করে ইনসুলিনের মাত্রা খুব বেশি বাড়তে পারে না। এতে গ্লাইসেমিক সূচকও নিয়ন্ত্রণে থাকে। দিনের মাঝবেলায় অতিরিক্ত খিদে পাওয়ার প্রবণতাও কমে। তা ছাড়া পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের প্রতি আকর্ষণ সারা দিন তুলনামূলক কম থাকে।
রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিংয়ের অভাব: চিকিৎসকের মতে, দক্ষিণ এশীয়ার মানুষদের অনেকেই জিম থেকে কার্ডিয়ো করে চলে আসেন। কেউ বা দিনভর ডেস্কে বসে বসে ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করেন। রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিং করেন না অধিকাংশই। এই ধরনের ব্যায়াম না করলে ইনসুলিন সেন্সিটিভিটির উন্নতি হয় না কখনও। এই ধরনের শারীরচর্চা না করার ফলে পেশি রক্ত থেকে গ্লুকোজ় শুষে নেওয়ার কাজটিও করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে। শরীর তখন বাধ্য হয়ে এই অতিরিক্ত শর্করাকে লিভারে পাঠিয়ে দেয়, আর লিভার তা চর্বি হিসেবে জমিয়ে রাখে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ইনসুলিনের মাত্রা সব সময়ে বেশি থাকে।