উৎকণ্ঠার রোগে শরীরে কী প্রভাব পড়ে? ছবি: সংগৃহীত।
আপনি একা নন। ভয় পাওয়ার এই রোগে ভুগছে গোটা পৃথিবী। ঠিক যেন এক প্রকার অতিমারিতে আক্রান্ত দুনিয়া। এই রোগে আতঙ্ক গ্রাস করে থাকে মস্তিষ্ক। মুহূর্তের মধ্যে সেই অনুভূতি পৌঁছে যায় শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে। উদ্বেগে, উৎকণ্ঠায় নানাবিধ পরিবর্তন লক্ষ করা যায় শরীরে। অনেকেই সেই রোগের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো রোগের উপসর্গকে গুলিয়ে ফেলেন। আর তখন সেই আতঙ্কের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে নিরাপত্তাহীনতা বাড়তেই এই ধরনের রোগের প্রকোপ বেড়েছে। আট থেকে আশি, বেশির ভাগ মানুষই এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে আজকাল। ভয়ের এই রোগই যখন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন তা ‘অ্যাংজ়াইটি অ্যাটাক’ বা ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এর রূপ নেয়। তার স্পষ্ট প্রভাব পড়ে শরীরে।
উদ্বেগের সময়ে শরীরে কী কী হতে পারে? ছবি: সংগৃহীত
কোন কোন উপলক্ষ দেখা যায় উৎকণ্ঠার রোগে?
১. বুকে চাপ: এই রোগের প্রভাব সবার প্রথমে শরীরের যে অংশে পড়ে, তা হল হার্ট এবং বুক। হার্টের স্পন্দন দ্রুত হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বুকে চাপ ব্যথা হতে পারে। অনেক সময়ে, হার্ট অ্যাটাকের ভয়ও হতে পারে।
২. হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি: হৃৎস্পন্দনের গতি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। বুক ধড়ফড় থেকে শুরু করে পাল্সের গতিও বেড়ে যায় এ সময়ে। এর সঙ্গে মাথা ঘোরা, মাথা ঝিমঝিম করা, ক্লান্ত লাগার অনুভূতি দেখা দিতে পারে।
৩. পেটের গোলমাল: মানসিক চাপের সময়ে বদহজম, মলত্যাগের তাড়না, পেটফাঁপা, বমি ভাব ইত্যাদি নানা ধরনের উপসর্গ লক্ষ করা যায়। এগুলি একই সূত্রে বাঁধা।
৪. পেশির আড়ষ্টতা: শরীর সেই মুহূর্তে নিজেকে বাঁচানোর জন্য পেশিকে আড়ষ্ট করে তোলে। এক প্রকার জড়তা চলে আসে সারা দেহে। ঘাড়, কাঁধ, বাহুতে ব্যথা হতে পারে। পাশাপাশি, এই সমস্ত অংশের পেশিও শক্ত হয়ে উঠতে পারে।