ষষ্ঠীর ভূরিভোজের পর জামাইকে দেবেন কোন হজমি পানীয়? ছবি:সংগৃহীত।
ষষ্ঠীর ব্রত করে মায়েরা মেয়ে-জামাইয়ের মঙ্গলকামনা করেন জামাইষষ্ঠীতে। শাশুড়িরা নিজে উপোস করলেও, জামাইকে আদর-যত্ন করে খাইয়েই যেন তাঁদের শান্তি। স্বাভাবিক ভাবেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জামাইয়ের পক্ষেও এই দিন খাওয়ার ব্যাপারে সকলের আবদার রাখতেই হয়। আর তার ফলেই খাওয়া শেষে শুরু হয় পেট আইঢাই। সে এক বিষম অবস্থা।
এমন পরিস্থিতিতে হজমের পানীয়ও প্রস্তুত থাক। কী কী এগিয়ে দিতে পারেন শাশশুড়িমায়েরা?
পানের পানীয়
পানপাতা হজমিকারক হিসাবেই চিহ্নিত। মিঠে পান খেতে স্বাদু হলেও, ঝাল পানের হজম করানোর ক্ষমতা কিন্তু মোটেই কম নয়। ঝাল বা মিঠে পাতা, যেটাই মিলুক প্রথমেই কয়েকটি পান মিক্সারে জল দিয়ে ঘুরিয়ে সবুজ রস বার করে নিন। হালকা গরম জলে পানপাতার রস এবং শুকনো খোলায় নেড়ে গুঁড়ো করা জিরে দিন। হালকা গরম জল গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। জিরে হজমের জন্য ঘরোয়া টোটকা হিসাবে বহু দিন ধরেই ব্যবহার হয়ে আসছে।
জিরের জল
জিরে ভেজে গুঁড়িয়ে নিন। ভাজা জিরে গুঁড়ো পেটফাঁপা, গ্যাসের সমস্যায় অত্যন্ত কার্যকর। বলা যায় ঘরোয়া পথ্য। হালকা গরম জলের সঙ্গে ভাজা জিরেগুঁড়ো সামান্য পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলেও স্বস্তি মিলবে। গোটা জিরে জলে ফুটিয়ে সেটিও খাওয়া যায় অবশ্য।
মৌরি চা
নামে 'চা' হলেও এটি আসলে এমন একটি পানীয়, যা ঈষদুষ্ণ অবস্থায় খাওয়া হয়। হজমের জন্য খাওয়ার পরে জোয়ান, মৌরি চিবোনোর চল রয়েছে। মৌরির সেই গুণকে কাজে লাগিয়েই তৈরি পানীয়টি। এক কাপ জলে এক চা-চামচ মৌরি ফুটিয়ে নিন। হালকা গরম অবস্থায় সেই পানীয়টি চায়ের মতো পান করতে হবে। পেটভার হয়ে থাকলে স্বস্তি মিলবে।
পুদিনা চা
চা-পাতার ব্যবহার হবে না। এক মুঠো টাটকা পুদিনা পাতা ফুটিয়ে নিন জলে। পুদিনা চায়ের সুন্দর গন্ধ হয়। পুদিনা পাতায় এমন কিছু উপকরণ রয়েছে, যা হজমে সহায়ক। অম্বল বা বদহজম হলে পুদিনা চায়ে স্বস্তি মিলতে পারে। তবে এই পানীয়ে চিনি কোনও ভাবেই যোগ করা যাবে না।
আদা-জোয়ানের চা
চা-পাতা না দিয়ে বানিয়ে ফেলুন পানীয়টি। এক কাপ জলে এক টুকরো আদা থেঁতো করে আঁচ কমিয়ে ফুটিয়ে নিন। দিয়ে দিন অল্প একটু জোয়ানও। মিশ্রণটি ছেঁকে হালকা গরম অবস্থায় খেলেই ধীরে ধীরে পেট ভার লাগার বোধ কমবে।