Harmful Bubble tea

গরমে ঠান্ডা ক্যাফেতে বসে ‘বাবল টি’-এ চুমুক দিচ্ছেন? ৫টি ক্ষতির কথাও মাথায় রাখুন

মার্চ পেরিয়ে তাপমাত্রার পারদ যখন এপ্রিল মুখী তখন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বাতানুকূল ক্যাফেতে বসে অনেকেই ওই সুস্বাদু পানীয়ের দিকে হাত বাড়াবেন। তার আগে জেনে নিন, তা শরীরে কতটা প্রভাব ফেলবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ২১:০২

ছবি: সংগৃহীত।

গরমে এক গ্লাস বরফ শীতল 'বাবল টি' বা বোবা টি প্রাণে আরাম জোগাবে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই কিন্তু কোনও ক্ষতি করবে কি?

Advertisement

বাহারি রঙ, মিষ্টি স্বাদ আর নিচের দিকে থাকা নরম তুলতুলে ট্যাপিওকা বল বা ‘পার্ল’ চিবিয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা, সন্দেহ নেই। হয়তো সে জন্যই জেন জ়ির কাছে বোবা টি জনপ্রিয়ও। মার্চ পেরিয়ে তাপমাত্রার পারদ যখন এপ্রিল মুখী তখন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বাতানুকূল ক্যাফেতে বসে অনেকেই ওই সুস্বাদু পানীয়ের দিকে হাত বাড়াবেন। তার আগে জেনে নিন, তা শরীরে কতটা প্রভাব ফেলবে। কারণ পুষ্টিবিদদের মতে, সাময়িক তৃপ্তি দিলেও নিয়মিত বাবল টি পান করলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে দীর্ঘমেয়াদী নানা রোগ।

১. অতিরিক্ত চিনির উপস্থিতি ও ওজন বৃদ্ধি

এক গ্লাস বাবল টি-তে গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ গ্রাম পর্যন্ত চিনি থাকতে পারে, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত চিনি সরাসরি রক্তে মিশে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে খুব দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পায় এবং পেটে মেদ জমতে শুরু করে। নিয়মিত এটি পানে স্থূলতা বা ওবিসিটির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

২. টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

বাবল টি-তে ব্যবহৃত সিরাপ এবং ট্যাপিওকা পার্ল—উভয়ই উচ্চ মাত্রার কার্বোহাইড্রেট ও চিনি সমৃদ্ধ। মাঝে মধ্যেই তা খেলে অগ্ন্যাশয়ের ওপর চাপ পড়বে, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সেরও কারণ হতে পারে। ফলে কম বয়সেই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

৩. হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য

বাবল টি-র মূল আকর্ষণ হলো এর ভেতরে থাকা কালো রঙের ট্যাপিওকা পার্ল। এগুলি মূলত স্টার্চ দিয়ে তৈরি এবং বেশ আঠালো প্রকৃতির। অনেক সময় এই পার্লগুলো ঠিকমতো চিবিয়ে না খেলে এবং অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে তা হজমে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে পেটে ব্যথা, বদহজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হতে পারে।

৪. পুষ্টিহীন ক্যালরি

বাবল টি-তে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকলেও এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ বা ফাইবার নেই বললেই চলে। এতে যে দুধ বা নন-ডেয়ারি ক্রিমার ব্যবহার করা হয়, তাতে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স-ফ্যাট থাকে। যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

৫. দাঁতের ক্ষয়রোগ

মিষ্টি পানীয় দাঁতের এনামেলের শত্রু। বাবল টি-র আঠালো চিনি এবং ট্যাপিওকা পার্ল দাঁতের ফাঁকে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে। ফলে মুখে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে, যা দাঁতে ক্যাভিটি বা ক্ষয়রোগ তৈরি করে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি হতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন