Constipation Reasons

দীর্ঘ দিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? বৃহদান্ত্রের রোগের কবলে পড়েননি তো? কী এই বিশেষ রোগ

দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বৃহদান্ত্রের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিতবহন করতে পারে। বিশেষ করে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নিজে নিজে সেরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয় সে ক্ষেত্রে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১৯:৩৫
কী এই স্লো ট্রানজ়িট কনস্টিপেশন?

কী এই স্লো ট্রানজ়িট কনস্টিপেশন? ছবি: সংগৃহীত।

মানসিক চাপ, খাওয়াদাওয়া, আবহাওয়া পরিবর্তন, জলশূন্যতা, এমন নানা কারণে মাঝেমধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা যায়। কিন্তু যদি বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে একনাগাড়ে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগতে থাকেন, তা হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কখনও কখনও দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বৃহদান্ত্রের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। বিশেষ করে, কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নিজে নিজে সেরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয় সে ক্ষেত্রে। দীর্ঘ দিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে থাকলে তা কেবল জীবনযাপনের সমস্যা হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া যায় না। এই রোগই ধীরে ধীরে স্লো ট্রানজ়িট কনস্টিপেশন বা এসটিসি-তে পরিণত হয়ে যেতে পারে বলে মত চিকিৎসকদের।

Advertisement
কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগের কারণ কী?

কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগের কারণ কী? ছবি: সংগৃহীত

কী এই স্লো ট্রানজ়িট কনস্টিপেশন?

এটি এমন এক রোগ, যেখানে বৃহদান্ত্র বা কোলন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ধীর গতিতে বর্জ্য পদার্থ বা মল সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য ফাইবার বা জলের অভাবকে দায়ী করা হয়, কিন্তু এসটিসি-র ক্ষেত্রে সমস্যাটি মূলত কোলনের নিজস্ব পেশি বা স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে কোলনের সঙ্কোচন বা গতির ছন্দ ব্যাহত হওয়ার ফলে মল অন্ত্রে দীর্ঘ ক্ষণ আটকে থাকে।

কী কারণে হতে পারে এই রোগ?

· দীর্ঘ সময় বসে থাকা

· হরমোনজনিত সমস্যা বা মানসিক চাপ

· অতিরিক্ত ক্যাফিন বা চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়া

· অনিয়মিত ঘুমোনো

কোন কোন উপসর্গ সঙ্কেতবার্তা হতে পারে?

মলে রক্ত: কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অনেক সময়ে অর্শ বা মলদ্বার চিরে যাওয়া থেকে রক্তপাত হতে পারে। কিন্তু তা ছাড়াও অনেক কারণে মলের সঙ্গে রক্ত দেখা যায়। তার পাশাপাশি মলের রং কালচে হয়ে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই ধরনের লক্ষণকে কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়।

ওজন হ্রাস: কোনও বিশেষ চেষ্টা ছাড়াই যদি ওজন কমতে থাকে, তা হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। ধরা যাক, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন হয়নি বা শারীরচর্চার পরিমাণ বাড়েনি, তবুও ওজন দ্রুত কমছে। এই ধরনের পরিবর্তন বৃহদান্ত্র বা পাচনতন্ত্রের অন্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

পেট ব্যথা: সাময়িক গ্যাস বা অম্বলের কারণে পেট ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যথা যদি দীর্ঘ দিন থাকে, তা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। পেটে মোচড় দেওয়া, তলপেটে চাপ বোধ করা, মলত্যাগের পরেও অস্বস্তি থেকে যাওয়া, সঙ্গে বমি হওয়া ইত্যাদি দেখা দিলে গুরুত্ব দিতে হবে।

পেট ফাঁপা: তলপেট যদি সারা ক্ষণ ফেঁপে থাকে, তা হলে বুঝতে হবে, বৃহদান্ত্রে কোনও সমস্যা হয়ে রয়েছে। আর তখনই চিকিৎসকের প্রয়োজন।

পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারে যদি কারও কোলনের রোগ থেকে থাকে, তা হলে সতর্ক হতে হবে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো উচিত।

Advertisement
আরও পড়ুন