Raw Garlic Vs. Garlic Powder

গোটা রসুন না কি গুঁড়ো, নিজের হেঁশেলে কোনটি রাখবেন, কিসে বেশি উপকার?

এক দিকে কাঁচা রসুনের ঝাঁঝালো গন্ধ, অন্য দিকে রসুনগুঁড়োর সহজ ব্যবহার। কিন্তু এই দু’টির মধ্যে পার্থক্য শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণ আর শরীরে কাজ করার ধরনেও। তাই এই প্রশ্ন এখন অনেকেরই— কোনটি বেশি ভাল?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ২০:৫৩
রসুনের কোন রূপ বেশি উপকারী?

রসুনের কোন রূপ বেশি উপকারী? ছবি: সংগৃহীত।

গোটা, তেল, রস বা গুঁড়ো— একটি কাঁচা আনাজের কত রূপ! মূলগত বৈশিষ্ট্য এক থাকলেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে উপকারিতায় হেরফের দেখা যায়। এক একটি প্রকার এক একটি কাজে ভাল, বেশি কার্যকরী। তাই আপনার জন্য কোনটি ভাল, তা বুঝে নেওয়া দরকার।

Advertisement

একটি গোটা রসুন থেকে আর্দ্রতা বার করে নিয়ে গুঁড়ো তৈরি করা হয়। প্রথমে শুকিয়ে নিলে আনাজ থেকে সমস্ত জলীয় পদার্থ বার করে নেওয়া হয়, তার পর মিহি করে পিষে নিলে তৈরি হয় গুঁড়ো বা পাউডার। এ ভাবেই রসুনের পাউডার তৈরি হয়। এক দিকে কাঁচা রসুনের ঝাঁঝালো গন্ধ, অন্য দিকে রসুন গুঁড়োর সহজ ব্যবহার। কিন্তু এই দু’টির মধ্যে পার্থক্য শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণ আর শরীরে কাজ করার ধরনেও। তাই এই প্রশ্ন এখন অনেকেরই— কোনটি বেশি ভাল? টাটকা রসুন, না কি রসুনগুঁড়ো? এদের পার্থক্য কী?

রসুনের উপকারিতা কিসে বেশি?

রসুনের উপকারিতা কিসে বেশি? ছবি: সংগৃহীত

১. সবচেয়ে বড় পার্থক্য লুকিয়ে রয়েছে অ্যালিসিন নামের একটি উপাদানে। কাঁচা রসুন কুচি করলে বা থেঁতো করলে এই যৌগ তৈরি হয়। রসুনের ঝাঁঝালো গন্ধের নেপথ্যে রয়েছে এই অ্যালিসিন। পাশাপাশি, রসুনের স্বাস্থ্যগুণের জন্যও দায়ী অ্যালিসিন। হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখা, প্রদাহ কমানো বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোয় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু রসুনগুঁড়ো তৈরি করার প্রক্রিয়ায় এই অ্যালিসিন অনেকটাই কমে যায়। ফলে রসুনগুঁড়োয় কিছু অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও খনিজ থাকলেও, টাটকা রসুনের মতো গুণসম্পন্ন নয়।

২. কিন্তু এই রসুনগুঁড়ো অকাজের নয়। বরং এর সবচেয়ে বড় শক্তি হল, এটি ব্যবহার করা খুব সুবিধাজনক। খোসা ছাড়ানোর ঝামেলা নেই, কাটা বা বাটার দরকার নেই, হাতে গন্ধও থাকে না। ব্যস্ত জীবনে রান্না শেষ করার তাড়া থাকলে, এই পাউডার ব্যবহার করলে সুবিধা হয়। এর স্বাদ তুলনামূলক ভাবে মৃদু ও রান্নায় সমান ভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। অন্য দিকে, রান্নায় গোটা রসুন ব্যবহারের সময়ে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়। একে আনাজ কাটাকুটির খাটনি, তায় তীব্র ও ঝাঁঝালো স্বাদকে সামাল দেওয়ার ঝক্কি রয়েছে।

৩. রসুনগুঁড়োর মেয়াদ অনেক বেশি। সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে পাউডার প্রায় দু’বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। অন্য দিকে টাটকা, গোটা রসুন দ্রুত নষ্ট হতে পারে বা শুকিয়ে যেতে পারে।

সুতরাং, স্বাস্থ্যগুণের কথা ভাবলে টাটকা রসুনের পাল্লা ভারী। বিশেষ করে কাঁচা বা হালকা রান্না করা রসুনে সক্রিয় উপাদান বেশি থাকে। অনেক পুষ্টিবিদ পরামর্শ দেন, রসুন কুচিয়ে রান্নার আগে ১০ মিনিট রেখে দিতে। এর ফলে অ্যালিসিন আরও ভাল ভাবে তৈরি হয়। অন্য দিকে সুবিধানজক, টেকসই বললে জয়ী হবে রসুনের পাউডারই। তাই প্রয়োজন বুঝে দু’টিই ব্যবহার করা যেতে পারে হেঁশেলে।

Advertisement
আরও পড়ুন