অবিনাশ তিওয়ারির খাদ্যাভ্যাস। ছবি: সংগৃহীত।
তারকাদের ফিটনেস রুটিন নিয়ে সাধারণত দু’প্রকার ধারণা কাজ করে। প্রথমত, তাঁরা সারা ক্ষণ জিমে কাটান। দ্বিতীয়ত, তাঁদের খাবারের তালিকা এতই জটিল এবং কেতাদুরস্ত হয়, যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা মেনে চলা অসম্ভব। কিন্তু বলিউড অভিনেতা অবিনাশ তিওয়ারি সেই ধারণাকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে। কারণ, তাঁর সাত বছরের ফিটনেস রহস্য লুকিয়ে রয়েছে একেবারে সাধারণ, ঘরোয়া খাবারে। আর সেটি বানাতে সময় লাগে মাত্র ১৫ মিনিট।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অবিনাশ জানালেন, ৫-৭ বছর ধরে রোজ দুপুরে ও রাতে একই খাবার খাচ্ছেন তিনি। পর্দার ‘মজনু’র কথায়, ‘‘খুব অল্প তেলেই রান্না হয়ে যায়। আধ চামচই যথেষ্ট। পেঁয়াজ, আদা, রসুন, হলুদ আর কয়েকটি মশলা দিয়ে বানানো হয় এটি। প্রেশার কুকারে এই সমস্ত মশলা, মুরগির মাংস, জল আর ব্রাউন রাইস ভরে গ্যাসে বসিয়ে দিতে হয়। ৩-৪টি সিটিতেই রান্না সম্পন্ন। দুপুর এবং রাতের খাবারের বন্দোবস্ত হয়ে যাবে এক বারেই। এটাকে চিকেন পোলাও বলা যেতে পারে।’’
অবিনাশের যাপনের জন্য এই রেসিপির অবদান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এত বছরের অভ্যাস। দ্বিতীয়ত, রান্না করা সহজ। তৃতীয়ত, সময় কম লাগে। চতুর্থত, তাঁর নৈশভোজ এবং মধ্যাহ্নভোজে যে খাবারটি পাতে থাকে, তার মধ্যে পুষ্টির ভারসাম্যের হেরফের হয় না। সব পুষ্টি উপাদানই রয়েছে এর মধ্যে। পঞ্চমত, এই পদ অত্যন্ত সুস্বাদু হতে পারে রান্নার গুণে। খাবারে বৈচিত্রহীনতার সঙ্গেই মানিয়ে নিয়েছে অবিনাশের শরীর। এতেই তিনি সুস্থ থাকেন। যদিও ডায়েটে সাধারণত বৈচিত্রের সুপারিশ করা হয়, কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, যদি এক পদেই সমস্ত পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য সঠিক থাকে, সে ক্ষেত্রে এমন খাবার অনেকের জন্য কার্যকরী হতে পারে। তাতে ওজনও কমে, হজমক্ষমতায় খারাপ প্রভাব পড়ে না।
অভিনেতার খাদ্যাভ্যাসের মূলমন্ত্র হল সারল্য। কম তেলমশলা, বেশি প্রোটিন, সহজ রান্না এবং কম সময় ব্যয়। এমন খাবারই তাঁর পছন্দ, যা বানাতে গিয়ে ক্লান্তি আসে না, আবার খেয়ে শরীর ভারও হয় না। কারণ রাতের খাবার যদি অতিরিক্ত ভারী হয়, তা হলে ঘুম, হজম এবং পরের দিনের শক্তি, তিনটিতেই প্রভাব পড়বে।
উপরন্তু অবিনাশ সাদা চালের বদলে ব্রাউন রাইস ব্যবহার করে বিষয়টিকে ওজন হ্রাসের জন্য উপযুক্ত খাবারে পরিণত করেছেন। ফলে শরীরে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট প্রবেশ করে না। ফাইবারে ভরপুর ব্রাউন রাইস শরীরে ধীরে ধীরে শক্তির জোগান দিতে থাকে। মুরগির মাংস থেকে যথেষ্ট পরিমাণে চর্বিহীন প্রোটিন পায় তাঁর শরীর। এর ফলে পেশি গঠনেও সুবিধা হয় অবিনাশের।