Bloating as Surgincal Emergency Signal

পেট ফাঁপার সমস্যা কি সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের সঙ্কেত দিতে পারে? কখন বুঝবেন সমস্যা গুরুতর?

ব্লোটিং কমানোর জন্য সাধারণত অস্ত্রোপচার করা হয় না, কিন্তু তা যদি কোনও অন্তর্নিহিত গভীর সমস্যার কারণে হয়ে থাকে, তবে সেটি সমাধানের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৩

ছবি: সংগৃহীত।

পেট ফাঁপা বা ব্লোটিং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ গ্যাস বা খাদ্যাভ্যাসের কারণে হলেও, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর সমস্যা। ব্লোটিং কমানোর জন্য সাধারণত অস্ত্রোপচার করা হয় না, কিন্তু তা যদি কোনও অন্তর্নিহিত গভীর সমস্যার কারণে হয়ে থাকে, তবে সেটি সমাধানের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

Advertisement

কখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে?

মনে রাখতে হবে ব্লোটিং বা পেটফাঁপা আসলে নিজে কোনও রোগ নয়, বরং রোগের উপসর্গ। যদি নিয়মিত পেট ফাঁপার সমস্যা হতে থাকে, আর তার নেপথ্যে যদি নিম্নলিখিত কারণগুলি থাকে, তবে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিতে পারেন।

অন্ত্রে বাধা: যদি অন্ত্রের কোনও অংশ পেঁচিয়ে যায় বা সেখানে টিউমার/মাংসপিণ্ড হয়ে পথ বন্ধ হয়ে যায়, তবে গ্যাস বেরোতে পারে না এবং তাতে পেট ফুলে যেতে পারে। এমন সমস্যা বাড়লে তা একরকম মেডিকেল এমার্জেন্সি।

অ্যাপেনডিসাইটিস: অ্যাপেন্ডিক্সে সংক্রমণ হলে পেটে তীব্র যন্ত্রণার পাশাপাশি পেট ফুলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রেও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়বে।

পিত্তথলিতে পাথর: গল ব্লাডারে স্টোন বা পিত্তথলিতে পাথরের মতো পদার্থ জমার কারণেও হজমের সমস্যা এবং ব্লোটিং হতে পারে। সমস্যা গুরুতর হলে পিত্তথলি অপসারণেরও প্রয়োজন পড়ে।

হার্নিয়া: অন্ত্রে হার্নিয়ার মতো সমস্যা হলেও নিয়মিত গ্যাস জমে পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে।

স্ত্রী রোগের সমস্যায় : মহিলাদর ক্ষেত্রে ওভারিয়ান সিস্ট বা জরায়ুর টিউমারের কারণে দীর্ঘমেয়াদী ব্লোটিং হতে পারে। এক্ষেত্রেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সিস্ট সরানোর প্রয়োজন হতে পারে।

কখন বুঝবেন সমস্যা গুরুতর?

সাধারণ পেট ফাঁপার সমস্যা কয়েক ঘণ্টা বা দু’-এক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু যদি ব্লোটিংয়ের পাশাপাশি কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখেন, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: পেটে অসহ্য মোচড়ানো ব্যথা বা যন্ত্রণা। যা ক্রমাগত বাড়ছে বা কমছে না।

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের সংকেত হতে পারে।

মলের সঙ্গে রক্ত: যদি মলের রঙ কালো হয় বা সরাসরি রক্ত দেখা যায়।

বমি ভাব ও বমি: যদি খাওয়া মাত্র বমিভাব অনুভব করেন বা বমি করে ফেলেন।

জ্বর: ব্লোটিং বা পেট ফাঁপার সঙ্গে জ্বর থাকলে বুঝতে হবে শরীরে কোনও সমস্যা চলছে।

পেট শক্ত হয়ে যাওয়া: স্পর্শ করলে যদি পেট শক্ত মনে হয়। তা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisement
আরও পড়ুন