ছবি: সংগৃহীত।
খাবার খেলেন। কিন্তু তার পর থেকেই ভয় চেপে ধরতে শুরু করল। কখন গলা জ্বালা শুরু হবে। কিংবা সেই বিশ্রী স্বাদের উদগার উঠবে কি না!
যাঁরা নিয়মিত গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় ভোগেন বা যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা ক্রমাগত আতঙ্কে ভুগলেও বুঝে উঠতে পারেন না, ঠিক কী ভাবে খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করলে দূরে থাকা যাবে সমস্যা থেকে!
আসলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের জন্য দৈনন্দিন খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস অনেকাংশেই দায়ী। আর তাতে রোজের রান্নায় ব্যবহৃত টম্যাটোর ভূমিকাও কিছু কম নয়। যদি প্রশ্ন করা হয়— টম্যাটো খেলে সত্যিই অ্যাসিড রিফ্লাক্স বাড়ে কি না? তবে জেনে রাখুন, অনেকের ক্ষেত্রেই টম্যাটো অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণ হতে পারে।
কেন টম্যোটো অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণ হতে পারে?
১। টম্যাটো প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত অ্যাসিডিক প্রকৃতির। এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যালিক অ্যাসিড এবং সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে। যখন টম্যাটো বা তা দিয়ে তৈরি করা খাবার খাওয়া হয়, তখন সেই খাবার পাকস্থলীতে পৌঁছে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরিতে প্ররোচনা দেয়।
২। টম্যাটোর অ্যাসিডিক উপাদান পাকস্থলীর ভিতরে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
৩। অ্যাসিড রিফ্লাক্স তখনই হয় যখন পাকস্থলী এবং খাদ্যনালীর মাঝে ঢাকনার কাজ করা পেশি শিথিল হয়ে যায়। টম্যাটোর কিছু উপাদান ওই পেশিকে আরও শিথিল করে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাকস্থলীর অ্যাসিড সহজেই খাদ্যনালীতে উঠে আসে এবং বুকজ্বালা বা অস্বস্তি হয়।
কাঁচা টম্যাটো ক্ষতিকর না কি রান্না করা টম্যাটো
অনেকে মনে করেন রান্না করলে টম্যাটোর অ্যাসিডিক উপাদান কমে যায় কিন্তু বিষয়টি আদতে তা নয়। বরং টম্যাটো সস বা বাটা টম্যাটোর ঘনত্ব এত বেশি থাকে, যে তা কাঁচা টম্যাটোর চেয়েও বেশি ক্ষতিকারক হতে পারে।
কী করবেন?
যদি দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক বা জিইআরডি এর সমস্যা থাকে, তবে টম্যাটো সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভাল। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে টম্যাটো খাওয়া বা টম্যাটো দিয়ে রান্না করা খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল। তবে সবার শরীর একইভাবে কাজ করে না। তাই নিজের হজম ক্ষমতা বুঝে খাবার বেছে নিতে হবে।