Protein Effect on Kidney

রোগা হওয়ার ডায়েটে প্রোটিনের ছড়াছড়ি! তাতে অজান্তে কিডনির ক্ষতি করে ফেলছেন না তো?

কিডনির স্বাস্থ্য নিয়ে যাঁরা চিন্তায় থাকেন, ইদানীং একটি ভয় তাঁদের ভাবাচ্ছে। প্রোটিনকে অধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে কিডনির স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে না তো?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫৭
কিডনি ভাল রাখতে প্রোটিন সামলাবেন কারা?

কিডনি ভাল রাখতে প্রোটিন সামলাবেন কারা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রোগা হওয়ার জন্য ডায়েট করতে গেলে যে দু’টি শর্তে প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা হল— শর্করা জাতীয় খাবারের ভাগ কমানো এবং প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া। ফলে সকাল থেকে রাত খাবারের থালায় হয় মাছ-ডিম-মাংস, নয় বিভিন্ন ধরনের ডাল, বীজ, বাদাম অথবা সয়াবিনের বড়ি, পনিরের ভিড় বাড়ে। তাতে রোগা হওয়া যায় হয়তো কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিডনির কি কোনও ক্ষতি হয়?

Advertisement

কিডনির স্বাস্থ্য নিয়ে যাঁরা চিন্তায় থাকেন, সমাজমাধ্যমের কিছু ভিডিয়োর দৌলতে ইদানীং একটি ভয় তাঁদের ভাবাচ্ছে। প্রোটিনে অধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে কিডনির স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে না তো?

প্রোটিন কি কিডনির ক্ষতি করে?

যদি সম্পূর্ণ সুস্থ হন এবং কিডনিতে কোনও রকম সমস্যা না থাকে, তবে যে সমস্ত খাবারে প্রোটিন বেশি, যেমন—মাছ, মাংস, ডিম, পনির, সয়াবিন বা ডাল, ইত্যাদি খেলে কিডনির ক্ষতি হয় না। কারণ, শরীর স্বাভাবিক ভাবেই অতিরিক্ত প্রোটিন হজম করতে সক্ষম। কিন্তু যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ, কিডনি দুর্বল হলে প্রোটিন বিপাকের প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া বর্জ্য— ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি শরীর থেকে সহজে বেরোতে পারে না। ফলে কিডনির উপর চাপ আরও বাড়ে এবং অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে।

কতটা প্রোটিন খাওয়া নিরাপদ?

ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করে প্রোটিনের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়। এ ব্যাপারে নীচের তালিকা থেকে একটি আন্দাজ পাওয়া যাবে।

সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি— শরীরের ওজনের প্রতি কেজিতে ০.৮ গ্রাম থেকে ১.০ গ্রাম।

যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন— প্রতি কেজিতে ১.২ গ্রাম থেকে ১.৫ গ্রাম।

খেলোয়াড় বা পেশাদার শরীরচর্চাকারীদের— প্রতি কেজি ওজনে ১.৬ গ্রাম থেকে ২.২ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।

কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে (ডায়ালিসিস ছাড়া)— প্রতি কেজি ওজনে ০.৬ গ্রাম থেকে ০.৮ গ্রাম প্রোটিন খেতে পারেন তা-ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই।

প্রোটিন বেশি খেলে কী কী বিষয় মাথায় রাখা জরুরি?

১. প্রোটিন বেশি খেলে শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য বার করে দেওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে জল পান করা দরকার। জল কম খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

২. রেড মিট বেশি না খেয়ে চর্বিহীন প্রোটিন যেমন— মুরগির মাংস, মাছ, ডিম এবং ডাল, বাদামের মতো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খান। সেগুলি কিডনির জন্য বেশি নিরাপদ।

৩. ডায়েটে প্রোটিন বেশি থাকলে তার সঙ্গে প্রচুর নুন বা সোডিয়াম বেশি থাকা খাবার না খাওয়াই ভাল। কারণ, তাতে রক্তচাপ বেড়ে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

৪. যদি ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে প্রোটিন ডায়েট শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। কারণ, ওই দু’টি রোগ থেকেই কিডনি সমস্যার বাড়তে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন