ওজন কমানোর ওষুধ নিয়ে নয়া নির্দেশিকা। ছবি: ফ্রিপিক।
ওজন কমানোর ওষুধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো বন্ধের নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ওষুধ নির্মাতা সংস্থাগুলিকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, ওষুধ খেলেই ওজন কমবে, এমন প্রচার করা যাবে না। কোনটি ওজন কমানোর আর কোনটি শুধুই বিশেষ শারীরিক অবস্থার জন্য, তা স্পষ্ট করতে হবে। কেন্দ্রের নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ওষুধ বিক্রি বন্ধ হওয়া জরুরি।
ওজ়েম্পিক এ দেশের বাজারে আসার পর থেকেই উন্মাদনার শুরু। ওষুধটি ইঞ্জেকশনের মতো নিলে কয়েক মাসের মধ্যে ওজন কমে যায় বলে দাবি। তারকা থেকে সাধারণ মানুষ, অনেকেই এই ওষুধটি নিতে শুরু করেন। এর পরে আসে মাইনজ়েরোর মতো ডায়াবিটিসের ওষুধ। সেটি নিলেও ওজন কমছে বলে দাবি করা হয়। গত কয়েক মাসে ওজ়েম্পিক, মাউনজ়েরোর মতো আরও কয়েকটি সেমাগ্লুটাইড ‘জিএলপি-১’ গোত্রের ওষুধও চলে এসেছে দেশের বাজারে। আর এই ওষুধগুলিই এখন হয়ে উঠেছে আলোচনার বিষয়বস্তু। ডায়েট না করে, শরীরচর্চা শিকেয় তুলে কেবল ওষুধের প্রয়োগে ঝটপট ওজন কমিয়ে ফেলার সহজ পন্থায় বিশ্বাসী এখন অনেকে। ফল যেহেতু পাওয়া যাচ্ছে, তাই ওষুধগুলির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নানা অসুখবিসুখ। কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোন ওষুধের কী ভূমিকা, তা না জেনেই মানুষজন সেগুলি নিতে শুরু করেছেন। ফলে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে। কেবলমাত্র বিক্রির জন্য ওষুধ নির্মাতা সংস্থাগুলিও প্রচার শুরু করেছে। সেই বিজ্ঞাপনী প্রচারের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই বিপদে পড়ছেন।
ওজ়েম্পিক, মাউনজ়েরোর মতো সেমাগ্লুটাইড গোত্রের ওষুধ বেশি ব্যবহার করলে হাড়ের ক্ষয় অবধারিত। পাশাপাশি, কিডনির সমস্যা, হৃদ্রোগ, লিভারের জটিল অসুখও হতে পারে। এই ধরনের ওষুধ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে, ফলে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে দেখা দিতে পারে চর্মরোগ।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই ওষুধগুলি মূলত ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য। স্থূলত্ব কমাতে ডায়েট ও শরীরচর্চাতেই নজর দিতে হবে। কেবলমাত্র মুনাফা লাভের জন্য নির্মাতা সংস্থাগুলি ওষুধ নিয়ে প্রচার চালাতে পারবে না। ওষুধ নিলেই ওজন কমবে, এমন বিভ্রান্তি ছড়ানোও বন্ধ করতে হবে। ওষুধের প্যাকেটে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হবে। এমন অনেক ওষুধ রয়েছে, যেগুলির ডোজ়ের ভুল হলে, প্যানক্রিয়াটাইটিস বা অগ্ন্যাশয়ের রোগ, কিডনির রোগ, থাইরয়েডে টিউমারের ঝুঁকি থাকে। সেগুলিও উল্লেখ করতে হবে।
কী কী প্রচার করা যাবে না?
কোনও চটকদার বা বিভ্রান্তিমূলক বিজ্ঞাপনী প্রচার চলবে না।
কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা তারকার উদাহরণ টেনে প্রচার বন্ধ করতে হবে।
ব্যায়াম বা ডায়েট না করে কেবল ওষুধ খেলেই ওজন কমবে, এমন প্রচারও করা যাবে না।