Fatty Kidney

নজরে থাক ফ্যাটি কিডনি

ওবেসিটির কারণে আমাদের কিডনিতে মেদ জমে এবং সমস্যা সৃষ্টি করে। এটিকে অনেক সময়ে ভিসেরাল ওবেসিটির অংশ বলে গণ্য করা হয়।

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫১

Sourced by the ABP

অনেকেই ফ্যাটি লিভার নিয়ে আলোচনা করেন, ফ্যাটি কিডনিও একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। মূলত এটি ওবেসিটি সংক্রান্ত। স্থূলতা যে ভাবে বাড়ছে, তাতে এই রোগের প্রকোপও বাড়ছে। আমাদের প্রতিটি অঙ্গে ফ্যাট থাকা স্বাভাবিক এবং জরুরিও। কিন্তু যতটা থাকা দরকার তার চেয়ে বেশি থাকলেই সমস্যা। ফ্যাটি কিডনি কথাটা প্রথম উত্থাপিত হয় ১৮৮৩ সালে ‘ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল’-এ। তার প্রায় এক শতাব্দী পরে প্রমাণিত হয়, ওবেসিটির কারণে আমাদের কিডনিতে মেদ জমে এবং সমস্যা সৃষ্টি করে। এটিকে অনেক সময়ে ভিসেরাল ওবেসিটির অংশ বলে গণ্য করা হয়।

নেফ্রোলজিস্ট ডা. অর্ণব দুয়ারী বলছিলেন, “গবেষণায় দেখা গিয়েছে ভিসেরাল ওবেসিটি আমাদের শরীরে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগের সঙ্গে কিডনির সমস্যা বাড়ায়। স্থূলতার কারণে ক্রনিক কিডনি ডিজ়িজ়ের সম্ভাবনা প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায় ও এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজ়িজ়ের আশঙ্কা তিনগুণ বেড়ে যায়।”

কাকে বলে ফ্যাটি কিডনি? বৃক্কের কেন্দ্রে একটি গহ্বর হল রেনাল সাইনাস, যা রেনাল পেলভিস, রেনাল ক্যালিক্স, আর্টারি, ভেন, লসিকাবাহ স্নায়ুকে ধারণ করে। এই সাইনাসের মধ্য দিয়ে কিডনির রক্ত সঞ্চালন হয় এবং দূষিত পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। এটি অনেকটা কিডনির দরজার মতো কাজ করে। “ওবেসিটির কারণে রেনাল সাইনাসের অভ্যন্তরে এবং চারদিকে মেদ জমতে শুরু করে। ফলে সেখানে অবস্থিত ধমনি, শিরা, লসিকাবাহ ক্রমশ মূত্রনালির উপরে চাপ বাড়াতে থাকে। এতে রক্তসঞ্চালন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিডনির ভিতরে চাপ তৈরি হয় এবং মূত্রের প্রবাহে সমস্যা দেখা দেয়,” বললেন ডা. দুয়ারী।

এ ছাড়া ওবেসিটির কারণে কিডনির উপরে কাজের চাপ বাড়ে। এর ফলস্বরূপ হাইপারফিলট্রেশন ইনজুরি হয়। গ্লোমেরুলাসের পরিবর্তন হয় এবং প্রদাহ হয়, যাকে গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস বলা হয়। অনেক সময়ে স্থূলতার কারণে রেনাল স্টোন হয়। ওবেসিটির সঙ্গে যদি ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তা আরও বেশি ক্ষতি করে কিডনির।

রোগ নির্ণয় স্থূলতা থাকলেই এই সমস্যা দেখা যায়। তা ছাড়া প্রস্রাবের মধ্যে ফেনা, পা ফুলে যাওয়াও কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। মেডিসিনের চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার বলছিলেন, “কম বয়স থেকেই মেদবহুল চেহারা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস থাকলে চিকিৎসকেরা তার উৎস খোঁজার চেষ্টা করেন। দেখা যায়, কিডনি ঠিক মতো কাজ না করার ফলে এগুলো হয়। রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএলের মাত্রা বেশি থাকাও কিডনির জন্য ক্ষতিকর।” আলাট্রাসাউন্ড, এমআরই করলে কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। সাধারণ রুটিন ইউরিন পরীক্ষার মধ্য দিয়েও বোঝা যায় ফ্যাটি কিডনি হয়েছে কি না, জানালেন ডা. দুয়ারি।

নিরাময় ওষুধ দিয়ে এর চিকিৎসা সম্ভব কিন্তু এই রোগে জীবনযাপনে বদল আনা বেশি জরুরি। নিয়মিত শারীরচর্চা করা দরকার। হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং, সাঁতারের মতো কার্ডিয়ো এক্সারসাইজ় করতে হবে। বদল আনতে হবে ডায়েটে। “ফ্যাট শরীরের জন্য প্রয়োজন কিন্তু সেটা গুড ফ্যাট। বাদ দিতে হবে ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড,” মন্তব্য ডা. তালুকদারের। বাদ দিতে হবে প্রসেসড ফুড, বাজারচলতি পানীয়।ছোটদের মধ্যেও ফ্যাটি কিডনির সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই স্কুলে পড়াকালীন নিয়মিত ইউরিন টেস্ট করানোর উপরে জোর দিলেন ডা. দুয়ারি।

আরও পড়ুন