Deepika Padukones Hydration Routine

সকালে কোলাজেন ডিটক্স, বেলায় ইলেকট্রোলাইট, কী ভাবে সারা দিন নিজেকে তরতাজা রাখেন দীপিকা

শরীর সতেজ থাকলেই ত্বকে জেল্লা ফুটে উঠবে। শরীর জলশূন্য হয়ে পড়লেই ত্বক আর্দ্রতা হারাবে। এমনই জানিয়েছেন অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের ফিটনেস কোচ ইয়াসমিন করাচিওয়ালা। সতেজ ও তরতাজা দেখাতে শুধু ব্যায়াম নয়, রোজ কী কী পানীয় খান দীপিকা?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৩:০১
Deepika Padukons Pilates coach recently shared her daily hydration routine

যৌবন ধরে রাখতে প্রয়োজন কিছু পানীয়, দীপিকাও খান। ফাইল চিত্র।

চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে হলে শরীর ভিতর থেকে সতেজ রাখতে হবে। তার জন্য শরীর আর্দ্র বা হাইড্রেটেট রাখা খুব জরুরি। দীপিকা পাড়ুকোনের উজ্জ্বল ও জেল্লাদার ত্বকের কারণ হিসেবে হাইড্রেশনকেই এগিয়ে রাখলেন তাঁর ফিটনেস কোচ ইয়াসমিন করাচিওয়ালা। তিনি বর্ষীয়াণ অভিনেত্রী হেলেনেরও শরীর-স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখেন। ইয়াসমিন জানিয়েছেন, চেহারায় যৌবন ধরে রাখতে হলে ত্বক আর্দ্র রাখতেই হবে। শরীর যদি জলশূন্য হয়ে পড়ে, তা হলেই বুড়োটে ছাপ পড়বে চেহারায়। শুধু জল খেয়ে এই আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। গতানুগতিক ডিটক্স পানীয়েও হবে না। এর জন্য দিনের নানা সময়ে নিয়ম করে কিছু পানীয় পান করতে হবে যা শুধু শরীর সুস্থ রাখবে তা নয়, ত্বক ও চুলেরও খেয়াল রাখবে।

Advertisement

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে কোলাজেন সমৃদ্ধ পানীয় পছন্দ দীপিকার। ইয়াসমিন জানালেন তিনি নিজেও একই রুটিন মেনে চলেন। খুব সামান্য উপকরণ দিয়ে ঘরেই এমন পানীয় বানিয়ে নেন। কিছু না থাকলে নুন ও লেবুর রস দিয়েই কোলাজেন পানীয় বানান যা তাঁর ত্বকের খেয়াল রাখে। এর পরে জিরে বা ধনে ভেজানো জল পান করেন যা পেটের জন্য উপকারী। পেট ভাল থাকলে চেহারাতেও তার ছাপ পড়বে। শরীরচর্চার পরে ইলেকট্রোলাইট পানীয় খেতেই হবে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যায়াম করার পরে শরীর থেকে ঘাম ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। ঘাটতি হয় প্রোটিনেরও। তাই ওই সময়ে ইলেকট্রোলাইট পানীয়ই জরুরি। দুপুরে খাওয়ার আগে সজনে পাতা, আমলকি ও কারি পাতা ভেজানো জল হজমশক্তি বাড়াবে আর খেয়ে উঠে হজমের জন্য জলে মিশিয়ে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার খেতেই হবে।নানা রকম সব্জির রসও পছন্দ ইয়াসমিনের। দীপিকার জন্যও তেমনই রুটিন বেঁধে দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, যাঁরা ওজন কমাতে চান এবং নানা রকম ডায়েট করছেন, তাঁদের শরীর সতেজ রাখতে সময় ধরে এই সব পানীয় খেতেই হবে।

দীপিকার ফিটনেস কোচ যে ভাবে বলছেন, তেমন পানীয় বাড়িতেই তৈরি করা যায়। বেশি খাটনিরও প্রয়োজন নেই। কী ভাবে তা বানানো যায়, রইল কিছু রেসিপি।

কোলাজেন পানীয়

আমলকি ও অ্যালো ভেরার জুস

২টি টাটকা আমলকি পিষে নিতে হবে। তার সঙ্গে মেশাতে হবে চার চামচ অ্যালো ভেরার রস ও এক চামচ মধু। খালি পেটে এই পানীয় রোজ খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

ইলেকট্রোলাইট পানীয়

লেবু-মধুর ইলেকট্রোলাইট

খুবই সাধারণ ঘরোয়া উপায়ে এই পানীয় বানানো যায়। জ্বর বা পেটখারাপের সমস্যা হলে এক গ্লাস জলে একটি গোটা পাতিলেবু ও মধু মিশিয়ে নিন, তাতে মেশান এক চিমটে ব্ল্যাক সল্ট। এই পানীয় দিনে দু’বার খেলে শরীরে জলশূন্যতা হবে না।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার হাইড্রেশন টনিক

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার শরীরে পিএইচের ভারসাম্য ধরে রাখতে বড় ভূমিকা নেয়। এক গ্লাস জলে এক চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার, এক চামচ লেবুর রস, ১ চামচ মধু ও আধ চামচ পিঙ্ক সল্ট মিশিয়ে খেলে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দূর হবে। এটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি এনার্জি ড্রিঙ্ক। ভাইরাল জ্বরে দুর্বল হয়ে পড়লে এটি খেলে উপকার পেতে পারেন।

প্রোটিন শেক

আখরোট-চিয়া বীজের প্রোটিন শেক

এটি বানাতে প্রয়োজন হবে ১ চামচ প্রোটিন পাউডার, আধ গ্লাস কাঠবাদামের দুধ, ৫টি আখরোট, ১ চামচ পিনাট বাটার, ১ চামচ তিসির গুঁড়ো, ১ চামচ ভেজানো চিয়া বীজ। এই সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে যে পানীয়টি প্রস্তুত হবে তার ক্যালোরির মান মাত্র ৩৪০। এই প্রোটিন শেক খেলে দীর্ঘ সময় পেটও ভর্তি থাকবে এবং ওজনও কমবে।

ছাতু ও দইয়ের শেক

৩ চামচ ছোলার ছাতু, ১ কাপ টক দই, সামান্য বিট নুন, লেবুর রস এবং ভাজা জিরে গুঁড়ো নিতে হবে। সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। ছোলার ছাতু ও দই মিশিয়ে ভাল করে নেড়ে নিয়ে তাতে লেবুর রস, বিটনুন ও ভাজা জিরে গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে। এই প্রোটিন শেক সুস্বাদু ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।

Advertisement
আরও পড়ুন