‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবির অভিনেতা উদয়বীর সন্ধু। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
একই ছবিতে ২০ বছরের তরুণ এবং ৪০ বছরের মধ্যবয়স্ক পুরুষের ভূমিকায় অভিনয় করতে হয় তাঁকে। ২০ বছরের ব্যবধানকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য শরীর নিয়ে ভাঙাচোরা করতে হয় উদয়বীর সন্ধুকে। দিনকয়েকের মধ্যে ১৫ কেজি বাড়িয়ে, কমিয়ে নজির গড়েন ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবির অভিনেতা। কিন্তু কী ভাবে এই কঠিন লক্ষ্য ভেদ করেন ছবির ‘গুরবাজ় সিংহ’ ওরফে ‘পিন্ডা’?
সমাজমাধ্যমে নিজের চরিত্রের ছবি পোস্ট করে উদয়বীর জানিয়েছেন, চরিত্রটির জন্য তাঁকে ১৫ কেজি প্রথমে বাড়াতে হয়, তার পর কমিয়েও ফেলতে হয়। অভিনেতা লিখেছেন, ‘‘নিজের সমস্ত সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে বেরিয়ে কসরত করেছি। কঠোর নিয়ম মেনে, প্রচুর ঘাম, রক্ত ও চোখের জল ঝরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছেছি। আমার আশা, এই চরিত্র আপনাদের পছন্দ হয়েছে।’’
ছবিতে অভিনয় এবং চরিত্রের খাতিরে এর আগেও একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী ওজন কমিয়েছেন বা বাড়িয়েছেন। যেমন, কৃচ্ছ্রসাধন না করে সঠিক সময়ে সঠিক খাওয়াদাওয়া এবং শরীরচর্চার মাধ্যমেই এক ধাক্কায় ৩০ কেজি ওজন বাড়িয়ে আবার ৩৫ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছিলেন ভূমি পেডনেকর। ‘ডার্টি পিকচার’ ছবির জন্য ১২ কেজি ওজন বাড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী বিদ্যা বালন। ‘দঙ্গল’ ছবিতে অভিনয়ের সময়ে চরিত্রের প্রয়োজনে আমির খানকে ২২ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছিল। আমির যেমন জানিয়েছিলেন, ওজন বাড়াতে তাঁকে কসরত করতে হয়নি, কিন্তু কমানোর সময়ে বার বার মনোবল হারাচ্ছিলেন তিনি। তবে প্রবল শরীরচর্চা এবং কঠোর ডায়েট করে লক্ষ্য ভেদ করেছিলেন আমির। উদয়বীরের মতো আমিরকেও একই ছবির জন্য ওজন বাড়ানো-কমানোর পথে হাঁটতে হয়েছিল। তাই তাঁরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শরীরের ভোলবদল করার তাড়া ছিল। আর সেখানেই থেকে যায় আসল চ্যালেঞ্জ।
দ্রুত ওজন বৃদ্ধি এবং হ্রাস কখনওই সহজ নয়। ক্যালোরির বাড়তি ও ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ করা, ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট পরিকল্পনা করা বা তীব্র প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে যাওয়া, এ সবই সেই যাত্রার অংশ। পর্দায় যা দেখা যায়, তা শুধুমাত্র চূড়ান্ত ফলাফল। এই ধরনের ওঠানামার সময়ে শরীর যে শারীরবৃত্তীয় চাপের মধ্যে দিয়ে যায়, তা সহজে বোঝা যায় না। তবে হঠাৎ অনেকটা ওজন বাড়ালে শরীরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। আবার এক ধাক্কায় অনেকখানি ওজন কমিয়ে ফেললে পেশির ক্ষয় হতে পারে, ক্লান্তি থাকতে পারে, আবার পুষ্টির ঘাটতিও হতে পারে। তাই এই ধরনের ভোলবদলের সময়ে চিকিৎসক ও প্রশিক্ষকের নজরদারিতে থাকা খুব জরুরি।