ফ্যাটি লিভার নির্মূল হবে, অম্বল কমবে, কী পানীয় সকালে খাবেন? ছবি: ফ্রিপিক।
গ্যাস-অম্বলের সমস্যা চিরন্তন। বাঙালি এই রোগেই বেশি কাবু। সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার পরেই গলা-বুক জ্বালার সমস্যা অনেকেরই। তার উপর ফ্যাটি লিভার যদি চাগাড় দিয়ে ওঠে, তা হলে তো কথাই নেই। কিছ খেলেই গ্যাস, বদহজম হবে। খাবার হজম তো হবেই না, সবসময়েই বমি ভাব থাকবে। চিকিৎসকেরা বলেন, পাকস্থলীর ভিতরে হাইড্রোকোলিক অ্যাসিড স্বাভাবিক ভাবেই নিঃসৃত হয়। কিন্ত যখন খাওয়াদাওয়ায় লাগাতার অনিয়ম হতে থাকে, তখন অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর সংযোগস্থলে গঠনগত ত্রুটি থাকলেও পাকস্থলীতে নিঃসৃত অ্যাসিড উপরে উঠে আসে এবং অম্বল হতে থাকে। এ সব সমস্যার পাকাপাকি সমাধান শুধু ওষুধে হয় না, এর জন্য ঘরোয়া পথ্যও জরুরি।
গ্যাস-অম্বল বা লিভারের রোগ যদি সারাতে হয়, তা হলে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চা বা কফি পান করলে চলবে না। খালি পেটে ক্যাফিন শরীরে ঢুকলে তা হজমপক্রিয়াকে দুর্বল করে দেবে। ফলে দিনভর অম্বলের সমস্যা ভোগাবে। তাই সকালে খালি পেটে খেতে হবে এক বিশেষ পানীয়। অনেকেই মেথি ভেজানো জল বা জিরের জল খান। সেগুলিও শরীরকে ডিটক্স করে। তবে অম্বল বা ফ্যটি লিভার সারাতে হলে, সেই পানীয় তৈরি করতে হবে আদা, কালোজিরে, মধু ও গোলমরিচ দিয়ে।
আদা-কালোজিরে-গোলমরিচের পানীয় কেন উপকারী
আদার দুই মূল উপাদান জিঞ্জারল ও শোগাওল হজমে সহায়ক, প্রদাহ কমায়। আদার রস তাই বমি ভাব দূর করে, গলা-বুক জ্বালার সমস্যা কমাতেও কার্যকরী হয়।
কালোজিরে শরীরে কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিয়মিত আধ চা-চামচ কালোজিরে রক্তচাপ বজায় রাখতে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। কয়েক মাসের মধ্যে ওজন ঝরাতেও দারুণ কার্যকর এই মশলা।
মধু প্রদাহনাশক। এর অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি কমায়।
গোলমরিচে ‘পাইপেরিন’ নাম উপাদান থাকে যা হজমে সহায়ক এবং অন্ত্রে ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এই উপাদানের প্রদাহনাশক গুণ রয়েছে এবং এটি শরীরে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবেও কাজ করে। তাই গোলমরিচ খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পায়।
কী ভাবে তৈরি করবেন পানীয়?
উপকরণ:
এক গ্লাস জল
আধ ইঞ্চির মতো আদা
আধ চামচ কালোজিরে
২-৩টি গোটা গোলমরিচ
এক চামচ মধু
প্রণালী:
আদা ও গোলমরিচ থেঁতো করে নিন। তার পর একটি পাত্রে এক গ্লাস জল দিয়ে তাতে থেঁতো করা আদা ও গোলমরিচ দিয়ে ফোটাতে হবে। জল খানিকটা গরম হলে তাতে কালোজিরে দিয়ে দিতে হবে। ৫-৭ মিনিট ফোটার পরে জলের রং পরিবর্তন হলে নামিয়ে নিন। এ বার ছেঁকে নিয়ে তাতে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন।
দীর্ঘসময় ধরে গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় যাঁরা নাজেহাল, তাঁরা এই পানীয় খেলে উপকার পাবেন। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা নির্মূল করতেও এই পানীয় উপকারী। ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্জি বা সর্দি-কাশির সংক্রমণে বেশি ভুগলে, এই পানীয় খেলে উপকার পেতে পারেন। তবে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের এই পানীয় পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।