‘অর্গ্যানিক’ লেখা সব পণ্য খাঁটি নয়, নকল চেনার উপায় কী কী? ফাইল চিত্র।
অর্গ্যানিক খাবারের চাহিদা এখন খুব বেশি। অর্গ্যানিক সব্জি, ডাল, মশলা থেকে খাদ্যদ্রব্য— সব রকম পণ্যেরই চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। রাসায়নিক নেই, কীটনাশকের ভয় নেই ভেবে সে সবই বেশি পছন্দ করছেন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষজন। শপিং মল থেকে পাড়ার দোকানে, চাইলেই অর্গ্যানিক খাদ্যদ্রব্য বা মশলার প্যাকেট পেয়ে যাবেন অনায়াসে। তার দাম খানিক বেশি বটে, তবে জনপ্রিয়তা তার চেয়েও বেশি। এখন কথা হল, যে পণ্যটি কেনা হচ্ছে তা আদৌ অর্গ্যানিক কি না, ভেবে দেখেছেন কখনও? সুন্দর মোড়কের উপরে বড় বড় করে লেখা ‘অর্গ্যানিক’ দেখেই যদি কিনে ফেলেন, তা হলে কিন্তু ঠকতে হতে পারে। লেখা যা-ই থাক, সব পণ্য কিন্তু খাঁটি নয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করতে সাধারণ পণ্যের উপরেও 'অর্গ্যানিক' লিখে বাজারে ছাড়ছেন। এ বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশের খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই। কোনটি খাঁটি ও কোনটি নকল, তা চেনার কিছু উপায়ও বলে দিয়েছে তারা।
আসল ‘অর্গ্যানিক’ পণ্য চেনার উপায়
লোগো চেনাবে আসল-নকল
এ দেশে কোনও খাদ্যদ্রব্যকে ‘অর্গ্যানিক’ হিসেবে বিক্রি করতে হলে প্যাকেটের উপর ‘জৈবিক ভারত’ লোগো রাখতে হবে। সরকারের তরফেই এই লোগো তৈরি করা হয়েছে, যা বোঝায় পণ্যটি পুরোপুরি জৈবিক প্রক্রিয়ায় তৈরি। কোনও রকম রাসায়নিক মেশানো নেই তাতে। কিছু ক্ষেত্রে লোগোর নীচে ‘ইন্ডিয়া অর্গ্যানিক’ লেখাও দেখতে পাবেন।
লাইসেন্স নম্বর যাচাই
অর্গ্যানিক পণ্যের প্যাকেটে অবশ্যই একটি বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে, যা এফএসএসএআই দ্বারা স্বীকৃত। যদি পণ্যটি কেনার পরে দেখা যায় তার লেবেলে ‘অর্গ্যানিক’ লেখা আছে ঠিকই, কিন্তু এফএসএসএআই-এর কোনও লাইসেন্স নম্বর নেই, তবে সেটি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই নম্বরটিই পণ্যের বৈধতার প্রাথমিক প্রমাণ।
অ্যাক্রেডিটেশন বা শংসাপত্র নম্বর
অর্গ্যানিক পণ্যের প্যাকেটে একটি নির্দিষ্ট শংসাপত্র নম্বর থাকে। এটি কোনও অনুমোদিত সংস্থা প্রদান করে। এই নম্বরটি দেখে বোঝা যায় যে, পণ্যটি তৈরি থেকে তার প্যাকেজিং, প্রতি স্তরেই নিয়ম মানা হয়েছে এবং সেটি আদ্যোপান্ত জৈবিক প্রক্রিয়াতেই তৈরি।
দাম নিয়ে বিভ্রান্তি
দাম বেশি মানেই জিনিসটি খাঁটি নয়। জৈব পণ্যের দাম নির্ধারিত থাকে। যদি দেখা যায়, মোড়কটি খুব চকচকে বা আকর্ষণীয় এবং দামও অস্বাভাবিক রকম চড়া, তা হলে ভাল করে যাচাই করে নিতে হবে। সবচেয়ে আগে লোগো ও এফএসএসএআই নম্বর যাচাই করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করার জন্য অনেক সময়েই দাম খুব বাড়িয়ে পণ্যটি অর্গ্যানিক বলে বিক্রি করেন। তাই সতর্ক হতেই হবে।