ছবি: সংগৃহীত।
সুস্থ থাকতে ড্রাই ফ্রুটস বা শুকনো ফলের জুড়ি নেই, তবে হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে সব ধরনের ড্রাই ফ্রুটস সমান উপকারী নয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সঠিক ড্রাই ফ্রুটস নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পদ্ধতি ও পরিমাপ মেনে খেলে ড্রাই ফ্রুটস হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
কোনগুলো খাবেন?
হৃদরোগীদের জন্য কাঠবাদাম, আখরোট এবং পেস্তা সবচেয়ে বেশি উপকারী। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে অসম্পৃক্ত চর্বি ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া কিসমিস এবং খোবানি বা অ্যাপ্রিকট পটাশিয়ামের চমৎকার উৎস, যা সরাসরি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কী কী খাবেন না?
বাজারে পাওয়া অনেক ড্রাই ফ্রুটস নুন দিয়ে রোস্ট করা বা চিনি দিয়ে মোরব্বা বা ক্যান্ডির মতো করে বানানো থাকে। পুষ্টিবিদ সে ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন যে, অতিরিক্ত সোডিয়াম বা চিনি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তাই যদি খেতেই হয়, তবে ওই সমস্ত প্রক্রিয়াজাত ড্রাই ফ্রুটসের বদলে চিনি-নুন হীন ড্রাই ফ্রুটস বেছে নেওয়া উচিত। দরকার হলে প্রত্যেক বার কেনার আগে প্যাকেটের লেবেল পরে নেওয়া উচিত। সেখানে যদি লেখা থাকে সুগার কোটেড বা ক্যান্ডিড বা সল্টেড, তবে তেমন ড্রাইফ্রুটস না কেনাই ভাল। এক্ষেত্রে খাবারের প্যাকেটে দেওয়া পুষ্টি তালিকায় অ্যাডেড সুগার এর প্যানেলটি দেখলেই বোঝা যাবে আলাদা করে চিনি দেওয়া হয়েছে কি না। একই ভাবে সোডিয়াম কতটা তা দেখলেও বোঝা যাবে নুন আলাদা করে মেশানো হয়েছে কি না।
এ ছাড়া খালি পেটে কিশমিশ, খোবানি, খেজুরের মতো মিষ্টি স্বাদের ড্রাই ফ্রুটস না খাওয়াই ভাল। কারণ তাতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। ভেজানো বাদামের সঙ্গে মিশিয়ে অথবা খাবারের পর খেলে সমস্যা কম হবে।
কতটা খাবেন?
অতিরিক্ত কোনও কিছুই ভালো নয়। ড্রাই ফ্রুটস ক্যালরি সমৃদ্ধ হওয়ায় বেশি খেলে ওজন বাড়তে পারে। দিনে ৫-১০টি বাদাম বা ১-২ টেবিল চামচ শুকনো ফল একজন সুস্থ মানুষের জন্য যথেষ্ট। নিয়মিত ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসই পারে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখতে।
হার্টের রোগীরা যা মনে রাখবেন
ড্রাই ফ্রুটস ক্ষতিকর নয়। তবে তা পরিমিত পরিমাণে খেলে। তবে যাঁরা রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডের মতো হার্টের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের খাদ্যতালিকায় কোনও বড় পরিবর্তন আনার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভাল।