Diabetes from smelling Dessert

শুধু মিষ্টি খাওয়া নয়, মিষ্টি দেখা, মিষ্টি শোঁকাও সমস্যা হতে পারে ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য!

শাস্ত্রে আছে, ঘ্রাণে অর্ধভোজন। কথাটা যে পুরোপুরি অসত্য নয়, তার যুক্তি দিচ্ছে বিজ্ঞানই। এ বিষয়ে নানা গবেষণা হয়েছে, আর তাতে দেখা গিয়েছে, কেউ যদি কোনও প্রিয় খাবারের দিকে তাকান অথবা তার ঘ্রাণ নেন, তাতেও প্রভাব পড়তে পারে শরীরে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩৬
মিষ্টি দেখলেও ‘ক্ষতি’ হতে পারে ডায়াবিটিসের রোগীদের?

মিষ্টি দেখলেও ‘ক্ষতি’ হতে পারে ডায়াবিটিসের রোগীদের? ছবি: সংগৃহীত।

মিষ্টি খাওয়া বারণ। কিন্তু মিষ্টির দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রিয় মিষ্টির ট্রের দিকে তাকিয়ে মুখ রসসিক্ত হলে দোষ কিসের! বেকারির কেকের ভ্যানিলার গন্ধ নাকে এলে বা নলেন গুড়ের গন্ধ পেয়ে মন উচাটন হওয়াতেও কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। এই দৃশ্যসুখ বা ঘ্রাণের সুখকে নির্দোষ বাসনা বা লোভের প্রকাশ বলে মনে হতেই পারে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ব্যাপারটা ততখানি নির্দোষও নয়। বরং ওইটুকু দৃশ্য বা ঘ্রাণ শরীরে নানাবিধি দোষের কারণ ঘটাতে পারে।

Advertisement

শাস্ত্রে আছে, ঘ্রাণে অর্ধভোজন। কথাটা যে পুরোপুরি অসত্য নয়, তার যুক্তি দিচ্ছে বিজ্ঞানই। এ বিষয়ে নানা গবেষণা হয়েছে, আর তাতে দেখা গিয়েছে, কেউ যদি কোনও প্রিয় খাবারের দিকে তাকান অথবা তার ঘ্রাণ নেন তবে শরীরে ইনসুলিনের ক্ষরণ শুরু হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ওজন বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া এতটাই জোরালো হয় যে তা কখনওসখনও ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা কমিয়েও দিতে পারে। ইনসুলিন যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে তার নিঃসরণ বন্ধ হয়ে গেলে বা সঠিক সময়ে ক্ষরণ না হলে সরাসরি তার প্রভাব পড়বে শর্করার মাত্রায়। যার উপর নির্ভর করছে ভাল বা মন্দ থাকার অনেকটাই। নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত বাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণাপত্রে তেমনই বলা হচ্ছে।

ডায়াবিটিস সংক্রান্ত এক আন্তর্জাতিক আলোচনা সভায় ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আবার বলছেন, ‘‘মনে মনে প্রিয় খাবারের আশা করলে, তা আমাদের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে, যা ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কারণ শরীর মনে করে অন্ত্রে গ্লুকোজ় ঢুকতে চলেছে। যাঁরা টাইপ টু ডায়াবিটিসের রোগী, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি পরোক্ষে টাইপ টু ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

একই কথা বলছেন ডায়াবেটোলজিস্ট কণিকা মলহোত্র-ও। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যাঁরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী তাঁদের শরীরে ওই ইনসুলিনের ক্ষরণ সেভাবে কোনও সমস্যা তৈরি করে না। বরং, প্রিয় মিষ্টির গন্ধ শুঁকলে বা প্রিয় মিষ্টি খাবার দেখলে তাঁদের মন ভাল হতে পারে। মনে পড়ে যেতে পারে সেই খাবারের সঙ্গে জুড়ে থাকা সুখ স্মৃতি। সমস্যা হতে পারে তাঁদের, যাঁরা প্রয়োজনের থেকে অতিরিক্ত স্থূল অথবা যাঁরা ডায়াবিটিসের রোগী।’’

কখন সমস্যা হতে পারে? ডায়াবেটোলজিস্টের মতে প্রিয় মিষ্টির গন্ধ নিলে বা চোখের সামনে দেখলে মস্তিষ্কের পুরস্কার পাওয়ার অংশটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাতে পেট ভরা থাকলেও নতুন করে খিদে পেতে পারে। ডায়াবিটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে যেহেতু মেপে খাওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং না খেলে সুগারস্পাইক অর্থাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, তাই প্রিয় খাবারের দৃশ্য বা ঘ্রাণ তাঁদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে মনে করছেন কণিকা। আর স্বাস্থ্যকর ডায়েট ভাঙলে রক্তে শর্করার মাত্রাও হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন