Thalassemia

বাবা-মা দু’জনের শরীরেই থ্যালাসেমিয়ার জিন, সন্তানের ঝুঁকি কতখানি? কী ভাবে বিপদ এড়ানো যাবে?

থ্যালাসেমিয়া মানেই জীবন শেষ নয়। ঠিক চিকিৎসা করালে স্বাভাবিক জীবনযাপনও সম্ভব। চিকিৎসকদের দাবি, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তেরাও আর পাঁচজনের মতো বাঁচতে পারেন। বিয়ে করে ঘরসংসারও করতে পারেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ০৯:৫১
Experts Explain the Genetic Risks for Their Children if Both Parents Are Thalassemia Carriers

বাবা-মা থ্যালাসেমিয়ার বাহক, সন্তানের বিপদ কতটা? ছবি: ফ্রিপিক।

থ্যালাসেমিয়া কি ছোঁয়াচে? থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর কি মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী? এমন নানা প্রশ্ন বহু বারই উঠে আসে। সেই সঙ্গে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়, তা হল বাবা ও মা উভয়ের শরীরেই যদি থ্যালাসেমিয়ার জিন থাকে এবং দু’জনেই রোগটির বাহক হন, তা হলে কি সন্তানেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে?

Advertisement

থ্যালাসেমিয়া কী ভাবে হয়?

এটি আসলে রক্তের অসুখ। অবশ্যই জিনগত রোগ। বংশ পরম্পরায় শিশুর শরীরে বাসা বাঁধে। এই রোগের ফলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমতে থাকে। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের রক্তে লোহিত কণিকা ও হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ মারাত্মক কমে যায়। খুব স্বাভাবিক ভাবেই রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দেয়।

যদি বাবা-মা, দু’জনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, সে ক্ষেত্রে সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। তবে একে প্রতিরোধ করাও সম্ভব।

অনেকেই থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করেও সম্পূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন করেন, এমনকি নিজেরাও জানেন না যে তাঁরা এই রোগের বাহক। সমস্যাটি তখনই গুরুতর আকার ধারণ করে, যখন বাবা-মা, দু'জনেই এই রোগের বাহক হন। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের যে রোগটি হতে পারে, তা হল ‘থ্যালাসেমিয়া মেজর’।

চিকিৎসকেরা বলছেন, যখন বাবা-মা, দু'জনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তখন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই জিনগত রোগে আক্রান্ত হতে পারে শিশু। তাই পরিবার পরিকল্পনা করার আগে রক্তের কিছু স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে পরিবারে কারও থ্যালাসেমিয়া থাকলে, তা আরও বেশি প্রয়োজন।

বাবা-মা দু’জনেই বাহক হলে সন্তানের ঝুঁকি কতটা?

দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বাবা ও মা দু’জনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে তিন রকম সম্ভাবনা থাকতে পারে।

১) ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুটি উভয়ের থেকেই ত্রুটিপূর্ণ জিন পাবে ও থ্যালাসেমিয়া মেজর নিয়ে জন্মাবে।

২) ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুটি কেবল একটি অস্বাভাবিক জিন পাবে এবং বাবা-মায়ের মতোই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হবে।

৩) শিশুটি দু’টি স্বাভাবিক জিন পাবে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকবে।

বাবা-মায়ের থেকে প্রাপ্ত চারটির মধ্যে এক বা একাধিক জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে আলফা থ্যালাসেমিয়া হতে পারে। জিন যত ত্রুটিপূর্ণ হবে, সমস্যা তত বাড়বে।

সন্তানের একটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে থ্যালাসেমিয়ার কোনও লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যাবে না। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর সন্তানের মধ্যে এই রোগ ছড়াতে পারে। দু’টি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে হালকা উপসর্গ দেখা যাবে। একে বলে আলফা থ্যালাসেমিয়া মাইনর বা আলফা থ্যালাসেমিয়া ট্রেট। তিনটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ মাঝারি থেকে মারাত্মক আকার ধারণ করে। একে বলা হয় হিমোগ্লোবিন এইচ ডিজ়িজ়। চারটি জিনই ত্রুটিপূর্ণ হলে বলা হয় আলফা থ্যালাসেমিয়া মেজর বা হাইড্রোপস ফিটালিস।

এই রোগ নির্ণয়ের জন্য এইচপিএলসি পরীক্ষা করা দরকার। পরীক্ষাটির পুরো নাম হাই পাওয়ার লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি। এ ছাড়াও কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, ডিএনএ টেস্ট, হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস টেস্ট রয়েছে। সন্তান নেওয়ার কথা ভাবলে, এই পরীক্ষাগুলি আগে করিয়ে নেওয়া জরুরি। কোরিয়োনিক ভিলাস স্যাম্পলিং টেস্টও জরুরি। গর্ভাবস্থার ১০ থেকে ১২ দিনের মাথায় পরীক্ষাটি করতে হয়। তাতেও ধরা পড়ে গর্ভস্থ ভ্রূণ জিনগত রোগ নিয়ে জন্মাবে কি না।

Advertisement
আরও পড়ুন