Healthy Tea Making Tips

শরীরের কথা ভেবে দুধ চা ছাড়তে হয়েছে? ৫ পদ্ধতি মানলেই সেটিও হতে পারে স্বাস্থ্যকর

নিয়মিত খালি পেটে দুধ-চা খাওয়ার অভ্যাস শরীরে বিভিন্ন ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। যেমন প্রথমত, প্রতি দিন খালি পেটে দুধ চায়ে চুমুক দিলে শরীরে জলশূন্যতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। দিনে কাপের পর কাপ দুধ চা খেলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও বাড়ে। দুধ চা-ও খাবেন, আবার স্বাস্থ্যের তেমন ক্ষতিও হবে না, তা কী ভাবে সম্ভব?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৫২
দুধ চা স্বাস্থ্যকর করবেন কী ভাবে?

দুধ চা স্বাস্থ্যকর করবেন কী ভাবে? ছবি: শাটারস্টক।

সকালে উঠে এক কাপ গরম ধোঁয়া ওঠা চা চাই-ই চাই। সেটা লাল চা না হয়ে ঘন দুধের চা হলে বেশ হয়। নইলে সকালটাই যেন মাটি। অনেকেই ‘বেড টি’ খেতে ভালবাসেন, মানে, চোখ খুলেই চায়ে চুমুক। নইলে আবার ঘুম কাটে না।

Advertisement

সকালের প্রথম চা হবে কড়া লিকার, স্বাদমতো মিষ্টি আর বেশ খানিকটা দুধ— তবে না চনমনে হবে শরীর এবং মন! কিন্তু দুধ চা খেতে যতটা মধুর, তার উপকারিতা সকলের জন্য সমান নয়। পুষ্টিবিদদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে দুধ চা খেলে তা সহ্য না-ও হতে পারে অনেকের। তা ছাড়া, খালি পেটে চা খাওয়া মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। চা কখন খাওয়া হচ্ছে, কী ভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ।

দুধ চা খাওয়া ভাল নয়, এটা আমরা সকলেই জানি। তা-ও মন মানতে চায় না। সকালে উঠেই দুধ চা খাওয়া ভাল না খারাপ, সে নিয়ে চর্চাও কম হয় না। পুষ্টিবিদেরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত খালি পেটে দুধ-চা খাওয়ার অভ্যাস শরীরে বিভিন্ন ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। যেমন প্রথমত, প্রতি দিন খালি পেটে দুধ চায়ে চুমুক দিলে শরীরে জলশূন্যতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। দিনে কাপের পর কাপ দুধ চা খেলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও বাড়ে। খালি পেটে কড়া করে দুধ চা খাওয়ার অভ্যাস পেপটিক আলসারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। দুধ চা মানেই তাতে একগাদা চিনি দিয়ে স্বাদ বাড়ানো। চিনি ছাড়া দুধ চা খেতে ভালও লাগে না। সমস্যাটা হল, এই চিনি কিন্তু শরীরের জন্য মোটেও ভাল নয়। রোজ নিয়ম করে মিষ্টি মিষ্টি দুধ চা খেলে রক্তে শর্করা বাড়তে বাধ্য। ডায়াবিটিসের রোগীদের তো এমন চা খাওয়া চলবেই না।

দুধ চা খাওয়ার অভ্যাস পেপটিক আলসারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

দুধ চা খাওয়ার অভ্যাস পেপটিক আলসারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। ছবি: সংগৃহীত।

দুধ চা-ও খাবেন, আবার স্বাস্থ্যের তেমন ক্ষতিও হবে না, কী ভাবে সম্ভব?

১) স্বাস্থ্যকর দুধ চা বানাতে হলে সবার আগে দুধে বদল আনতে হবে। ফুল ফ্যাট দুধের বদলে স্কিম্‌ড মিল্ক বা টোন্‌ড মিল্ক দিয়ে চা বানাতে হবে। উদ্ভিজ্জ দুধ, যেমন আমন্ড মিল্ক, সয়া মিল্ক বা ওট্‌স মিল্ক ব্যবহার করলে স্বাদও হবে, আবার স্বাস্থ্যও বজায় থাকবে।

২) চিনি বন্ধ। না, মিষ্টি ছাড়া চা খেতে হবে না। চিনির বদলে ব্যবহার করুন প্রাকৃতিক চিনি স্টিভিয়া।

৩) চায়ে আদা, দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। হজমেও সাহায্য করে এই মশলাগুলি। ভাল ফল পেতে জলে বেশ কিছু ক্ষণ মশলাগুলি দিয়ে ফুটিয়ে নিন, তার পর দুধ আর চা পাতা দিন।

৪) ইনস্ট্যান্ট টি পাউডার, বা ‘ডিপ’ চা ব্যবহার করে দুধ চা বানাবেন না। এগুলিতে অনেক সময় চিনি, ট্রান্সফ্যাট আর স্বাদবৃদ্ধি করতে রাসায়নিক উপাদানও মেশানো থাকে। বাজার থেকে ভাল মানের চা কিনে এনে তবেই চা বানান।

৫) স্বাস্থ্যকর উপায় চা বানাচ্ছেন বলেই একটা বড় কাপ ভরে সকাল সকাল খেয়ে নিলেন, এমন ভুল করা যাবে না। ছোট কাপে চা খান। স্বাদ পেতে অল্প অল্প করে চুমুক দিন সাধের চায়ে।

Advertisement
আরও পড়ুন