কলা খান, তবে নিয়ম মেনে। ছবি: সংগৃহীত।
বাড়িতে আর কোনও ফল থাকুক না থাকুক, কলা থাকবেই। অনেকেরই প্রাতরাশে একটি করে কলা খাওয়ার অভ্যাস। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে উপকারী পুষ্টিগুণ। খনিজ, ভিটামিন, ফাইবার সমৃদ্ধ কলা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। এ ছাড়াও কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। একটি মাঝারি মাপের কলা থেকে শরীরে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম প্রবেশ করে। পটাশিয়াম হৃদ্যন্ত্র ভাল রাখতে সাহায্য করে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে রোজ একটি করে কলা খাওয়া জরুরি। তবে কলা খাওয়ার সময় কিছু ভুলে কিন্তু শরীরের ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দু’টি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন।
১. অতিরিক্ত পাকা কলা খাবেন না
কলা খাওয়ার আগে সেই কলা কতটা পাকা, সে দিকে নজর রাখতে হবে। পুষ্টিবিদদের মতে, খুব বেশি পাকা কলা খাওয়া কখনওই উচিত নয়। কলা একটু বেশি পেকে গেলেই তার মিষ্টত্ব বাড়ে। আর সেই কারণেই সেটি খেতে পছন্দ করেন অনেকে। কিন্তু তাতে কিছু ক্ষতি হয়। কলা বেশি পেকে গেলে, তার স্টার্চ ভাঙতে শুরু করে এবং সেগুলি চিনিতে পরিণত হয়। সাধারণ হলুদ কলার তুলনায় বেশি পেকে কালচে হয়ে যাওয়া কলায় প্রায় ৩ গ্রাম বেশি চিনি থাকে। এই কলা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়াও বেশি পেকে যাওয়া কলায় ফাইবারের পরিমাণও কমতে থাকে। ফলে তা স্বাস্থ্যের জন্য তেমন ভাল নয়। এ ছাড়া, কলা পচনশীল খাবার। অতিরিক্ত পেকে যাওয়া কলার মধ্যে সহজেই ছত্রাক বাসা বাঁধতে পারে। যা খালি চোখে সহজে দেখা যায় না। ফলে খাবারের সঙ্গে তা পেটের মধ্যে গিয়ে গোল পাকাতে শুরু করে। এই ধরনের মজা কলা খেলে ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
২. খালি পেটে কলা কখনওই নয়
কলায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি। এগুলি শরীরের জন্য নিঃসন্দেহে উপকারী। তবে খালি পেটে এই ফল খেলে কিন্তু উপকারের চেয়ে অপকারেরে সম্ভাবা। কলায় চিনির পরিমাণও অনেক বেশি। অনেক ক্ষণ উপোস থাকার পর কলা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ফলে দিনের শুরুতে কলা খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবিটিসের কারণ হতে পারে। কলা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমায়। পাশাপাশি, খালি পেটে কলা খেলে কিন্তু এই সমস্যা উল্টে বেড়ে যেতে পারে। পুষ্টিবিদেরা জানাচ্ছেন, সকালে কলা খেতে পারেন। তবে অবশ্যই খালি পেটে নয়। কিছু না খেয়ে প্রথমেই কলায় কামড় বসালে অ্যাসিড হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তা ছাড়া খালি পেটে কলা খেলে রক্তে ক্যালশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়তে পারে হৃদ্যন্ত্রের উপরেও। ওটস, পাউরুটি বা অন্য কোনও খাবার খাওয়ার পর কলা খেতে পারেন। তা হলে সমস্যা নেই।