ছবি: সংগৃহীত।
বাঙালি রান্নাঘরে বাজারের থলিতে পুষ্টিকর খাবার হিসাবে বরাবরই কদর রয়েছে মানকচুর। তবে ইদানীং ওই ধরনের খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই ওই ধরনের কন্দ জাতীয় খাবার খান না। অথচ বহু গুণসম্পন্ন ঔষধি কন্দ মানকচু খুঁজলে শহুরে বাজারেও পাওয়া যায়। হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে চাইলে এই খাবারটি হতে পারে ‘মহৌষধ’।
পুষ্টিগুণে ঠাসা
মানকচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি এবং সি থাকে। এছাড়া এটি আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফসফরাসের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানেরও ভাল উৎস। এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও ভাল কাজ করে।
কী কী উপকার পাওয়া যায়?
হাড় ও দাঁতের সুরক্ষা: প্রচুর ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস থাকায় মানকচু হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে এবং দাঁত মজবুত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অল্প বয়সিরা তো বটেই, বেশি বয়সে যখন হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, তার আগে এই ধরনের ক্যালশিয়াম এবং ফসফরাসে ভরপুর কন্দ হাড়ের সুরক্ষা বলয় হয়ে থাকতে পারে।
ব্যথা ও ফোলাভাব কমায়: মানকচু প্রদাহনাশক। এটি শরীরের ভেতরের প্রদাহ বা ফোলাভাব কমাতে ব্যথা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। বাতের ব্যথা উপশমেও প্রাচীনকাল থেকে এর ব্যবহার হয়ে আসছে।
রক্তস্বল্পতা দূর করে: মানকচুতে প্রচুর আয়রন থাকায় এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যারা রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন সংক্রমণ থেকেও রক্ষা করে।
যা মনে রাখবেন
মানকচুতে ক্যালশিয়াম অক্সালেট নামক এক ধরণের উপাদান থাকে, যার কারণে অনেক সময় গলা চুলকাতে পারে। তাই মানকচু রান্নার সময় লেবুর রস, তেঁতুল বা টক জাতীয় কিছু ব্যবহার করা উচিত। এটি অক্সালেটের প্রভাব কমিয়ে দেয়।