Health Benefits of Longan

লিচু নয়, তবে লিচুর মতো স্বাদ, নতুন করে ফর্দে রাখুন পুরনো ফল, পুষ্টিগুণের ভাণ্ডার ছোট্ট এই খাবার

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ফল। সম্প্রতি স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে এই ফল নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। কারণ মিষ্টি স্বাদের পাশাপাশি এতে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ। কী কী ভাবে স্বাস্থ্যের উপকার করতে পারে এই ফল?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১৪:৩১
লিচুর সঙ্গে এর পার্থক্য কী?

লিচুর সঙ্গে এর পার্থক্য কী? ছবি: সংগৃহীত।

লিচুর মতো দেখতে, ভিতরের শাঁসের স্বাদও প্রায় একই রকম। মিষ্টি। তফাত কেবল পুষ্টিগুণে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ফলের বাংলা নাম আঁশফল। সম্প্রতি স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে এই ফল নিয়ে আগ্রহও বাড়ছে। কারণ মিষ্টি স্বাদের পাশাপাশি এতে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ। তবে যে কোনও খাবারের মতো আঁশফলও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত খেলে কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এই ফলের উপকারিতা এবং সীমাবদ্ধতা— দুই দিকই জানা প্রয়োজন।

Advertisement

কী এই আঁশফল?

আঁশফল একটি উষ্ণমণ্ডলীয় ফল। এর বাইরের খোসা হালকা বাদামি রঙের এবং ভিতরে সাদা, রসালো শাঁস থাকে। মাঝখানে থাকে একটি চকচকে কালো বীজ। দেখতে অনেকটা লিচুর মতো হলেও এর স্বাদ তুলনামূলক মৃদু। এটি লিচু প্রজাতিরই ফল, লিচুর মতো খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয়। প্রায় ৭২ শতাংশ জলে ভরা এই ফল খেলে শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ হয়৷ তাই গরমে আঁশফল খাওয়ার চল রয়েছে।

আঁশফলের উপকারিতা।

আঁশফলের উপকারিতা। ছবি: সংগৃহীত

লিচুর সঙ্গে আঁশফলের পার্থক্য কী?

১০০ গ্রাম লিচুতে ১৫ গ্রামের বেশি প্রাকৃতিক চিনি থাকে, কিন্তু আঁশফলে তার পরিমাণ ১২ গ্রাম। আঁশফলে ভিটামিন সি-র পরিমাণও খানিক বেশি। আঁশফলে পটাশিয়ামের পরিমাণও বেশি। ১০০ গ্রাম আঁশফলে প্রায় ৩২৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে। লিচুতে সেই পরিমাণ খানিক কম। লিচুতে ফাইবারের মাত্রা আঁশফলের চেয়ে বেশি। দেখতে হুবহু এক নয় এই দুই ফল। একটি লাল, একটি হলুদ। লিচুর তুলনায় আঁশফল আকারে ছোট হয়।

এই ফলের উপকারিতা কী?

আঁশফলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিশেষ করে এতে পাওয়া যায় ভিটামিন সি, বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, অল্প পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার, পটাশিয়াম, কপার, ফসফরাস, বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ। এই উপাদানগুলি শরীরের নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আঁশফলের অন্যতম বড় গুণ হল এতে থাকা ভিটামিন সি। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

২. অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের উৎস

শরীরে প্রতিনিয়ত কিছু ক্ষতিকর অণু তৈরি হয়, যেগুলি কোষের ক্ষতি করতে পারে। আঁশফলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এই ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভাল হয়।

৩. ত্বকের জন্যও উপকারী

ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, যা ত্বকের গঠন ও টানটান ভাব বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে আঁশফল খেলে ত্বকে স্বাভাবিক জেল্লা আসে।

৪. শক্তির জোগান দেয়

আঁশফলে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে, যা দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। গরমের দিনে বা প্রবল ক্লান্তির সময়ে এই ফল শরীরকে কিছুটা চাঙ্গা করতে পারে তাৎক্ষণিক ভাবে।

৫. মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে এটি দারুণ কার্যকরী। প্রাচীন কালে চিনে চিকিৎসায় উদ্বেগ কমানোর ওষুধ বা টনিক হিসাবে ব্যবহৃত হত। এটি মস্তিষ্কের স্নায়বিক স্বাস্থ্য ঠিক রেখে ভবিষ্যতে অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গিয়েছে।

অতিরিক্ত আঁশফল খেলে কী হতে পারে?

যে কোনও ফলের মতো আঁশফলও অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। কারণ, এতে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে যা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে, কারও কারও ক্ষেত্রে হজমের সমস্যাও দেখা দেয়। পাশাপাশি অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাঁদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভাল।

কী ভাবে খাবেন?

আঁশফল সাধারণত গোটা অবস্থাতেই খাওয়া হয়। এ ছাড়া ফলের স্যালাডে, বিভিন্ন মিষ্টান্নে, ঠান্ডা পানীয়, স্মুদিতে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন