Soft Drinks Risks

গরমে জলের বদলে ঘন ঘন সোডা দেওয়া পানীয়ে চুমুক দিচ্ছেন? জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে অজান্তেই!

নিয়ম করে রোজ জলের বদলে সোডা দেওয়া পানীয় খেলে শরীরে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্ত রোগের সূ্ত্র খুঁজলে হয়তো রোজের এই অভ্যাসের দিকেই আঙুল উঠবে। কী রোগ হতে পারে সে ক্ষেত্রে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১৩:৩২
সোডাজাতীয় পানীয়ের ক্ষতিকর দিক।

সোডাজাতীয় পানীয়ের ক্ষতিকর দিক। ছবি: সংগৃহীত।

বাইরে বেরোলেই দরদর করে ঘাম হচ্ছে? সঙ্গে থাকা জলও রোদে তেতে রয়েছে। সে সময়ে ঠান্ডা পানীয়, বিশেষ করে সোডাজাতীয় পানীয়ে চুমুক দিলেই মিলছে আরাম? বিভিন্ন সংস্থার কোল্ড ড্রিঙ্ক হোক বা সাধারণ ফ্রেশ লাইম সোডা (সোডা দেওয়া লেবুর জল)। কিন্তু এই সোডাজাতীয় পানীয় থেকেই নানা রোগের সূত্রপাত হতে পারে।

Advertisement
সফ্‌ট ড্রিঙ্ক নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।

সফ্‌ট ড্রিঙ্ক নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোলজিস্টদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের জন্য বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিডনিতে পাথরের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। গ্রীষ্মে কমবয়সিদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি পরিলক্ষিত হয়। এগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভেবে উৎসের সন্ধানে দেরি হয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্ত রোগের সূ্ত্র খুঁজলে হয়তো রোজের এই অভ্যাসের দিকেই আঙুল উঠবে। কিন্তু কী ভাবে সোডাজাতীয় পানীয়ের কারণে মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ছে?

কোনও এক দিন সোডাজাতীয় পানীয়ে চুমুক দিলে মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিডনিতে পাথর হয়ে যাবে— এমন ধারণা ভুল। বরং নিয়ম করে রোজ জলের বদলে সোডা দেওয়া পানীয় খেলেই এই সমস্যাগুলি চাগাড় দেয়। আর এই অভ্যাসের নির্দিষ্ট ধরন রয়েছে। তা হল, অনেক ক্ষণ জল পান না করা, জলের বদলে কার্বোনেটেড পানীয়, চা, কফি ইত্যাদিতে চুমুক দেওয়া, ব্যস্ততার কারণে প্রস্রাব আটকে রাখা, প্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত সোডিয়ামে ভরা খাবার খাওয়া এবং শুরুর দিকের উপসর্গ এড়িয়ে যাওয়া।

কিডনির স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে।

কিডনির স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে প্রচুর জল বেরিয়ে যায়। এই সময়ে পর্যাপ্ত জল না খেলে শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে। আর যদি তার বদলে বার বার চিনিযুক্ত বা কার্বনেটেড পানীয় পান করেন, তা হলে সমস্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। কম জল খেলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। ফলে যে খনিজগুলি শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা, সেগুলি ক্রিস্টালে পরিণত হতে শুরু করে। এর ফলে কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এমন পরিবেশে মূত্রনালিতে ব্যাক্টেরিয়ার বাড়বৃদ্ধিও দেখা যায়। অন্য দিকে, অনেক সফ্‌ট ড্রিঙ্কে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফিন থাকে, যা শরীরকে আরও শুষ্ক করে তুলতে পারে। এর ফলে মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আর এই সমস্ত ঘটনা খুব নীরবে, ধীরে ধীরে ঘটতে থাকে। সহজে চোখে পড়ে না। ফলে রোগের তীব্রতাও বাড়তে থাকে অজান্তেই।

তাই যাঁরা সারা দিনে খুব কম জল খান, এ দিকে বার বার সোডাজাতীয় পানীয় পান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা বলছেন চিকিৎসকেরা। সাধারণ জলের অন্য কোনও বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করা উচিত নয়, বিশেষ করে এই গরমের সময়ে। আর প্রস্রাবের সময়ে জ্বালা, বার বার প্রস্রাবের বেগ, তলপেটে অস্বস্তি, প্রস্রাব ঘোলা হয়ে যাওয়া, কখনও জ্বর ইত্যাদি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisement
আরও পড়ুন