Micronutrient deficiency

‘লুকোনো খিদে’-ই শিশুর বিকাশে বাধা হতে পারে, পেট ভরে খেলেও তা হয় কি? কেন সতর্ক হবেন?

‘লুকোনো খিদে’ বা ‘হিডন হাঙ্গার’ শব্দটি ক্রমশই জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে চর্চিত হয়ে উঠছে। এ নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসকেরাও। ‘লুকনো খিদে’ কেন শিশুর বিকাশে বাধা হতে পারে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৮
পেট ভরে খাওয়ার পরে শিশুর বিকাশ থমকে যেতে পারে। সমস্যা কেন হয়?

পেট ভরে খাওয়ার পরে শিশুর বিকাশ থমকে যেতে পারে। সমস্যা কেন হয়? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

পেট ভরে খাচ্ছে শিশু। স্বাস্থ্যও খারাপ নয়। তবুও অপুষ্টির শিকার হতে পারে সে!

Advertisement

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে, পেট ভরে খেয়েও, পুষ্টির অভাবে ভুগছে শিশুরা। আর তাকেই বলা হচ্ছে ‘হিডন হাঙ্গার’ বা ‘লুকোনো খিদে’। অতীতে হু-এর দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্ব জুড়ে প্রায় ২০ লক্ষ শিশু এমন ভাবেই অপুষ্টির শিকার হয় প্রতি বছর। আয়রন, জ়িঙ্ক-সহ ভিটামিন এবং খনিজের অভাব তাদের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস অর্থাৎ যে সমস্ত উপাদান খুব অল্প মাত্রায় প্রয়োজন হলেও শরীরের জন্য জরুরি, তার খামতি হলেই সমস্যা শুরু হয়। এ থেকেই ‘হিডন হাঙ্গার’ শব্দটি ক্রমশই জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, এ, ডি, ই, কে, জ়িঙ্ক, আয়রন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম— এগুলি স্বল্প মাত্রায় প্রয়োজন হলেও তা অপরিহার্য। এর মধ্যে কোনও একটির ঘাটতিও শিশুর মানসিক এবং শারীরিক বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, কমিয়ে দিতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আয়রনের অভাবে রক্তল্পতা হতে পারে, ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে হাড় মজুবতই হবে না।

তবে শুধু কম খেলেই বা না খেলেই যে তা হয়, এমন নয়। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, শিশুর শরীরে আপাত ভাবে অপুষ্টির কোনও ছাপও নেই, এমনকি দিনভর তার খাওয়া ঠিক হওয়া সত্ত্বেও এমন হতে পারে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকেরা।

সমস্যার সমাধান কী ভাবে সম্ভব

ছোটদের ছোট পেট ভরানো কঠিন নয়, কিন্তু খাবারে পুষ্টিগুণ রয়েছে কি? পুষ্টিবিদেরা বার বার পুষ্টির ভারসাম্যে জোর দেন। খাবারে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ রাখতে বলেন। সেই শর্ত পূরণ করা জরুরি।

কোন ভুল এড়াবেন?

প্রক্রিয়াজাত খাবার: শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্যাকেটজাত নানা খাবারের প্রতি তাদের আকর্ষণ বাড়ে। পু্ষ্টিবিদেরা বলছেন, বাজারচলতি, প্যাকেটজাত এই ধরনের খাবার সব সময় পুষ্টির মাত্রা ঠিক রাখে না। তা ছাড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাস্থ্যের পক্ষেও ভাল নয়। সিরিয়াল, চিপ্‌স, কেক— এই ধরনের খাবার খেয়ে পেট ভরলেও তাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটে না।

বেছে বেছে খাওয়া: বেশির ভাগ শিশুই সব ধরনের খাবার খেতে চায় না। বিশেষত সব্জি, ফল খাওয়ায় ঘোরতর আপত্তি থাকে তাদের। সব্জি, ফল একেবারেই না খেলে বা বেছে বেছ কয়েকটি খাবার খেলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ বাদ পড়তে পারে। তাই কৌশলে হলেও, নানা রকম সব্জি তাদের স্বাদের উপযোগী করে রান্না করতে হবে। অতিরিক্ত খাওয়া নয়, বরং যেটুকু তাকে খাওয়ানো হচ্ছে তাতে পুষ্টিগুণ কী থাকছে, সেটা বুঝে নেওয়া জরুরি।

রংচঙে মোড়ক: চিপ্‌স থেকে হেলথ ড্রিংক, নানা রকম খাবার বিক্রির জন্য শিশুদের পছন্দের জিনিস খাবারের সঙ্গে ফ্রি দেওয়া হয়। তা ছাড়া, রংচঙে প্যাকেট, আকর্ষণীয় আঁকাবুকিতে ভুলে শিশুরা সেই খাবারটি খেতে চায়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এই ধরনের খাবারগুলির কোনও রকম স্বাস্থ্য উপযোগিতা নেই, বরং তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকরই।

ব্যস্ততা: ব্যস্ত জীবনে অভিভাবকেরাও চটজলদি সমাধান খোঁজেন। ফলে ছোটরা যা পছন্দ করে, সেটাই খাইয়ে দেন। সেই খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে মাথা ঘামানোর সময়ও থাকে না। যেমন খুদেরা নুড্‌লস, পাস্তা পছন্দ করে। বিশেষত ময়দার নুড্‌লস যা আবার প্যাকেটজাত মশলা দিয়ে তৈরি, তা মোটও স্বাস্থ্যকর নয়। পিৎজ়া, পাস্তা বা এই ধরনের খাবার সপ্তাহে এক দিন চলতে পারে, রোজ নয়।

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, দৈনন্দিন যে সমস্ত ঘরোয়া খাবার সকলে খান, সেগুলি ছোটদের খাওয়াতে। মরসুমি ফল, শাকসব্জি, বাদাম, আমিষ খেলে মাছ, মাংস, ডিম— শিশুর স্বাস্থ্য ভাল রাখতে এবং প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহে সাহায্য করবে।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস কেন জরুরি?

· শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখার ক্ষমতা, শেখার কৌশল, কোনও বিষয় বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার জন্য মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষা একান্ত প্রয়োজন। জ়িঙ্ক, ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজের অভাব ঘটলে মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।

· কমে যেতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। ভিটামিন সি, এ, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ভিটামিনের অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে।

· মনঃসংযোগের অভাব হবে, শিশু অল্পে ক্লান্ত হয়ে পড়বে।

· আচরণগত সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

· দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট কিছু খনিজের অভাব টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, হার্টের অসুখের সমস্যাও তৈরি হতে পারে এতে।

প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। শিশুর খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মনে চলাই সবচেয়ে ভাল উপায়।

Advertisement
আরও পড়ুন