Apricot Health Benefits

চোখ-পেটের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে, ত্বকে ফিরবে জেল্লা! আর কী গুণ আছে শুকনো অ্যাপ্রিকটের?

কিউয়ি, অ্যাভোকাডো, পার্সিমন-সহ নানা রকম নতুন ধরনের ফলের ভিড়ে বহু দিন হল জায়গা করে নিয়েছে শুকনো অ্যাপ্রিকট। এই ফলের গুণ জানলে অবাক হবেন। কেন তা নিয়মিত ডায়েটে রাখতে পারেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৪
How Dried Apricots Improve Gut Health

রোজকার ডায়েটে শুকনো অ্যাপ্রিকট রাখলে কী কী লাভ হবে? ছবি: সংগৃহীত।

কলা, পেঁপে, কমলালেবু, খেজুরের ভিড়ে বাক্সবন্দি আরও একটি ফল দেখে থাকবেন। ইষৎ কমলা, চ্যাপ্টা গোছের। ফলটি টাটকা নয়, শুকনো। খেতে টক-মিষ্টি। পাহাড়ি এই ফলটি খেয়েছেন কি কখনও?

Advertisement

কিউয়ি, অ্যাভোকাডো, পার্সিমন-সহ নানা রকম নতুন ধরনের ফলের ভিড়ে বহু দিন হল জায়গা করে নিয়েছে শুকনো অ্যাপ্রিকট।ভারতে হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলেই এই ফলের চাষ। টাটকা ফল বছরভর মেলে না। তাই সেই ফল শুকিয়ে দেশের নানা প্রান্তে বিক্রি হয়।এই ফল শুধু সু্স্বাদু নয়, উপকারীও। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন এ, সি, কে, পটাশিয়ামের মতে খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে এতে। ডায়েটে এই ফল জুড়লে কী কী লাভ হবে?

হজমে সহায়ক: অ্যাপ্রিকটে সলিউবল এবং ইনসিউবল ফাইবার রয়েছে। ফাইবার খাবার হজমে সাহায্য করে। সলিউবল ফাইবার কোষ্ঠের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে এবং পেট পরিষ্কারে সাহায্য করে। তা ছাড়া, এতে রয়েছে সরবিটল নামে প্রাকৃতিক শর্করা, যা মৃদু ল্যাক্সেটিভের কাজ করে, ফলে কোষ্ঠ পরিষ্কার হয় সহজে। নিয়ম করে ২-৩টি অ্যাপ্রিকট খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে।

চোখের জন্য ভাল: ল্যাপটপ থেকে মোবাইল— স্ক্রিন টাইম যে ভাবে বাড়ছে তাতে চোখ ভাল রাখা খুব জরুরি। দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে এই ফলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ, এই ফলে যথেষ্ট মাত্রায় ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন মেলে। এতে রয়েছে লুটেইন এবং জিয়্যাক্সঅ্যান্থিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা চোখের সুরক্ষাবর্ম হিসাবে কাজ করে। তা ছাড়া, দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে ভিটামিন এ ভীষণই দরকারি।

হার্টের জন্য ভাল: শুকনো অ্যাপ্রিকটে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম পাওয়া যায়। এই খনিজটি শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের নির্দিষ্ট তরলের ভারসাম্য নষ্ট হলে হৃৎস্পন্দনে প্রভাব পড়তে পারে। পটাশিয়াম সেই ভারসাম্য রক্ষাতেও সাহায্য করে।

ত্বকের জেল্লা ফেরাতে কার্যকর: ত্বকের অন্যতম প্রোটিন উপাদান হল কোলাজেন। বয়স হলে বা সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগনি রশ্মির প্রভাবে কোলাজেনের মাত্রা কমলে ত্বকে বলিরেখা পড়ে।ত্বকের জেল্লাও কমে। ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনের জন্য জরুরি। ফলটিতে মেলা ভিটামিন সি এবং ই— ত্বকের জেল্লা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও এতে মেলে পলিফেনল, যা ত্বকের জন্য উপকারী।

রক্তাল্পতার ঝুঁকি কমায়: এই ফলে প্রচুর আয়রন পাওয়া যায়, যা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। হিমোগ্লোবিন সারা শরীরে অক্সিজেন সংবহনে সাহায্য করে। কোনও কারণে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে তাই ক্লান্তি, দুর্বলতা দেখা দেয়। সাধারণত উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া আয়রন মানব দেহ সহজে শোষণ করতে পারে না। তবে অ্যাপ্রিকটে থাকা কপার সেই কাজ সহজ করে দেয়। ফলে, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে এই ফলটি খাওয়া ভাল।

Advertisement
আরও পড়ুন