মাচা না কফি, কোনটি খাবেন? ছবি: এআই।
ভারতীয়রা মেজাজ চাঙ্গা করতে চায়ের পরে কফিতেই ভরসা রেখে এসেছেন এত কাল। তবে ইদানীং স্বাস্থ্য সচেতনদের বাড়িতেই হোক বা ক্যাফের মেনুতে, কফির পাশাপাশি জাগয়া করে নিয়েছে মাচা। সবুজ রঙের পানীয় খেলে কফির মতোই শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি আসে। তবে বার বার কফির কাপে চুমুক দিলে শরীরের যে ক্ষতিটা হয়, সেটা কিন্তু মাচায় হয় না।
বার বার কফি খেলে অনেকেরই হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, হঠাৎ করে শরীরে অনেকটা শক্তির সঞ্চার হতে শুরু করে। তবে অনেকেই ভাবেন যে ক্যাফিনের মাত্রা কী ভাবে কমাবেন। সে ক্ষেত্রে মাচা কিন্তু ভাল বিকল্প হতেই পারে।
এক কাপ কফিতে প্রায় ৯৫ মিলিগ্রাম ক্যাফিন থাকে, যেখানে মাচায় প্রায় ৭০ মিলিগ্রাম থাকে। হ্যাঁ, কফিতে ক্যাফিনের পরিমাণ বেশি থাকে। তবে কতটা ক্যাফিন খাচ্ছেন কেবল তা নয়, বরং শরীর কী ভাবে তা গ্রহণ করছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। কফির ক্যাফিন রক্তপ্রবাহে দ্রুত এবং জোরে আঘাত করে, যা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরির কারণ হতে পারে। অন্য দিকে, মাচা তার ক্যাফিন ধীরে ধীরে নিঃসরণ করে। আর মাচায় ক্যাফিনের মাত্রা ধীর গতিতে নিঃসরণ হয় বলেই কফির মতো ততটাও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না।
ক্যাফিন ছাড়াও, মাচায় এল-থিয়ানিন নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। এল-থিয়ানিন মস্তিষ্কে আলফা তরঙ্গ উৎপাদনে সাহায্য করে, যা মস্তিষ্ক শান্ত রাখতে সাহায্য করে। কফিতে কার্যত কোনও এল-থিয়ানিন থাকে না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে এল-থিয়ানিন শারীরিক এবং মানসিক উভয় চাপ কমাতে পারে। মাচায় এল-থিয়ানিন ক্যাফিনের সঙ্গে মিশে মেজাজ চাঙ্গা করবে, তবে উদ্বেগ তৈরি করবে না।
মাচা চা খেলে অ্যাসিডিটির ঝুঁকিও কম। গবেষণা বলছে, জাপানের এই চায়ে ক্যাটেসিন নামের এক ফ্ল্যাভনয়েড রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। এই ফ্ল্যাভনয়েড আদতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের খনি। আবার প্রদাহনাশকও বটে। অতিরিক্ত প্রদাহ থেকে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। আর শরীরের বহু রোগ সামলাতে কার্যকরী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। সেই কারণেই মাচাকে চায়ের দুনিয়ায় সবচেয়ে উঁচু মানের চা মনে করা হয়। শারীরিক উপকারিতার বাইরে নিয়মিত মাচা খাওয়ার মানসিক উপকারিতাও রয়েছে। এ ছাড়া এই চা ত্বকের জন্যও বেশ ভাল। সম্ভবত সেই জন্যই এই চায়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে নয়া প্রজন্মের কাছে এবং শৌখিনীদের দুনিয়াতেও।