কোন বয়সে কতটা হাঁটবেন? ছবি: ফ্রিপিক।
শরীরচর্চার সহজ উপায় হাঁটা, বলেন চিকিৎসকেরা। যাঁরা নিয়ম করে ব্যায়াম করেন না, তাঁরাও যদি সময় করে খানিক ক্ষণ হাঁটেন, সুস্থ থাকবে শরীর। হাঁটলে শুধু মেদ কমে না, ব্যায়াম হয় সারা শরীরেই। রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়, হার্ট ভাল থাকে। কিন্তু হাঁটবেন কত ক্ষণ? এই নিয়েই প্রশ্ন থাক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, হেঁটেই উচ্চ রক্তচাপ কমানো যায়। তবে হাঁটতে হবে নিয়ম মেনে ও সময় ধরে। বয়স অনুপাতে তা আলাদা। ১৮ বছরের তরুণ বা তরুণী যতটা হাঁটবেন, ষাটের বৃদ্ধ নিশ্চয়ই ততটা হাঁটবেন না। কাজেই কোন বয়সে কতটা হাঁটলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তার নির্দিষ্ট হিসাব আছে।
কারা কতটা হাঁটলে রক্তচাপ কমবে?
হাঁটারও ব্যাকরণ আছে। তা না মানলে হেঁটে কোনও লাভই নেই। গবেষণা বলছে, ২০ থেকে ৩০ বা ৪০ বছরের মধ্যে যাঁদের বয়স, তাঁরা যদি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তা হলে প্রতি দিন ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটতেই হবে। শুরুটা হতে পারে ৩০ মিনিট দিয়ে, ধীরে ধীরে ৪৫ মিনিট ও তার পর ১ ঘণ্টায় পৌঁছোবেন। দিনে ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে এমন কড়া নিয়ম নেই। তবে সময় ধরে হাঁটতে হবে।
বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর হলে রোজ ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটতে হবে। বয়স কম হলে ব্রিস্ক ওয়াকিং বা দ্রুতগতিতে হাঁটা ভাল। তবে ইন্টারভাল ওয়াকিংও ভাল। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সে ইন্টারভাল ওয়াকিং কাজে আসবে বেশি। শুরুটা দ্রুত গতিতে করে তার পর খানিক বিশ্রাম নিয়ে আবার হাঁটা। এই পদ্ধতিতে এগোতে হবে।
৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সে দিনে ৩০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা ভাল। মাঝারি থেকে দ্রুত গতিতে হাঁটতে পারেন। চাইলে কেউ ৪৫ মিনিটও হাঁটতে পারেন। নির্ভর করবে শারীরিক সক্ষমতার উপরে। কারণ, এই বয়সে এসে অনেকেরই হাড় দুর্বল হতে শুরু করে, গোড়ালি, হাঁটুতে ব্যথা শুরু হয়। শরীর বুঝে হাঁটার সময় নির্ধারণ করতে হবে।
ষাটের উপরে বয়স হলে দিনে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটলেও হবে। সে ক্ষেত্রে হাঁটার গতি ধীরে হতে হবে। খুব দ্রুত গতিতে হাঁটা বা হন্তদন্ত হয়ে হাঁটা চলবে না। টানা হাঁটলে যদি কষ্ট হয়, তা হলে বিরতি নিয়ে হাঁটা যেতে পারে।