ছবি: সংগৃহীত।
ত্রিশ বেশ জটিল বয়স। পেশাজীবনে এসে সেই বয়সে হয় নতুন দায়িত্ব ঘাড়ে এসে পড়ে, নয়তো বিগত বছরের পরিশ্রম শেষে পদোন্নতির প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। অন্য দিকে, একে একে কাঁধে এসে পড়ে পারিবারিক দায়ভারও। নতুন বিয়ে, সদ্যোজাত সন্তান কিংবা বয়স্ক বাবা-মায়ের সুস্থতার খেয়াল রাখা ইত্যাদি। আর এই সব কিছুর সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে বাড়তে থাকে মানসিক চাপও। ফলে মস্তিষ্ক যদি হাল ছাড়তে চায়, তবে তাকে দোষ দেওয়া যায় না।
ত্রিশের কোঠায় অনেকের মনে হতেই পারে— ‘মাথা ঠিক কাজ করছে না।’ যে কাজ মিনিটে সামলে নিতেন, তা শেষ করতে কেটে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মনঃসংযোগই করতে পারছেন না কাজে। এমন হলে বুঝতে হবে নানা পারিপার্শ্বিক কারণে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কী করা উচিত?
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ৩০-৪০ বছর বয়সে মস্তিষ্ককে সচল রাখতে মূলত তিনটি অভ্যাসে সবচেয়ে বেশি জোর ,দেওয়া উচিত।
১. শরীরচর্চা
ব্যায়াম শুধু শরীরের মেদ কমায় না, এটি মস্তিষ্কের পরম বন্ধু। প্রতি দিন অন্তত ৩০ মিনিট হনহনিয়ে হাঁটা, জগিং বা যে কোনও শারীরিক পরিশ্রম মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। এটি মস্তিষ্কে নতুন কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সরাসরি সাহায্য করে।
২. ঘুম
মস্তিষ্কের নিজেকে সারিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি হল ঘুম। সারা দিন কাজ করার পর রাতে ঘুমানোর সময় মস্তিষ্ক তার ভিতরের সমস্ত ক্ষতিকর বর্জ্য পরিষ্কার করে এবং সারা দিনের স্মৃতিগুলোকে গুছিয়ে রাখে। তাই প্রতি দিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অত্যন্ত জরুরি, যা মনোযোগের ঘাটতি ও খিটখিটে মেজাজ দূর করে।
৩. চ্যালেঞ্জ
মস্তিষ্ক অলস থাকলেও তার কার্যক্ষমতা কমতে পারে। তাই দিনে যদি ৩-৪ ঘণ্টা সময় টানা হাতে পান, তবে নতুন কোনও ভাষা শেখা, বই পড়া, নিদেনপক্ষে সুদোকু মেলানো কিংবা নতুন কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখলে মস্তিষ্কের নিউরনগুলির মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘কগনিটিভ রিজ়ার্ভ’। যা অভ্যাস করলে বয়স বাড়লেও স্মৃতিশক্তিকে সহজে কমতে দেয় না।
৪. ডায়েট
খাবারও সরাসরি প্রভাব ফেলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার উপর। ৩০ বছর বয়স থেকেই জাঙ্ক ফুড এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে ফলমূল, শাকসব্জি, দানাশস্য, বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাবার বেশি করে দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় রাখা উচিত। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ, আখরোট, তিসির বীজের মতো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্কের কোষগুলিকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়, স্নায়ুপথগুলিকে সচল রাখে, যা বয়স বাড়লেও মানসিক তীক্ষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।