Healthy Fuchka Eating Tips

ফুচকা নয়, স্বাস্থ্যের শত্রু অন্য ৩ বিষয়! খাওয়ার সময়ে কোন কোন জিনিস মাথায় রাখা উচিত

বদহজম, পেটফাঁপা, পেটখারাপ, ওজনবৃদ্ধি, এমনকি খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো ঘটনায় বার বার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় ফুচকাকে। কিন্তু দিল্লি নিবাসী পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ বলছেন, শত্রু ফুচকা নয়, খাওয়ার সময় ও পদ্ধতিই এই সব সমস্যার মূলে দায়ী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:২১
ফুচকা স্বাস্থ্যকর হতে পারে?

ফুচকা স্বাস্থ্যকর হতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।

ভারতীয় উপমহাদেশের বাসিন্দাদের স্মৃতিরেখার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে ফুচকা। মুচমুচে ফুচকা, টক টক জল, ঝাল ঝাল আলুমাখা— বিবরণেই জিভে জল চলে আসে আট থেকে আশির। কিন্তু বদহজম, পেটফাঁপা, পেটখারাপ, ওজনবৃদ্ধি, এমনকি খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো ঘটনায় বার বার কাঠগড়ায় দাঁড়ায় এই ফুচকা। কিন্তু দিল্লি নিবাসী পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ বলছেন, শত্রু ফুচকা নয়, খাওয়ার সময় ও পদ্ধতিই এই সব সমস্যার মূলে দায়ী।

Advertisement

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে ফুচকা অস্বাস্থ্যকর নয় বলে দাবি করেছেন পুষ্টিবিদ। তার কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, ফুচকা, টক জল, দেশজ মশলাপাতি, সবই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু নিম্ন মানের উপকরণ ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং অতিরিক্ত খাওয়ার মতো কয়েকটি বিষয় স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।

ফুচকা খাওয়ার সময়ে কী কী মাথায় রাখা দরকার?

ফুচকা খাওয়ার সময়ে কী কী মাথায় রাখা দরকার? ছবি: সংগৃহীত।

ফুচকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল তার জল। এই জল যদি পরিষ্কার না হয়, ঠিক ভাবে বানানো না হয়, তা হলে পেটের সমস্যা হওয়াই স্বাভাবিক। তাই ফুচকা খাওয়ার আগে খেয়াল রাখতে হবে, যেন পরিচ্ছন্ন জল ব্যবহার করা হয়। জল নিয়ে সন্দেহ থাকলে, সে ফুচকা না খাওয়াই ভাল। পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, ফুচকার জল সাধারণত খুবই স্বাস্থ্যকর, কারণ তাতে লেবু, তেঁতুল, পুদিনা, ধনে, জিরে, হিং, গোলমরিচের মতো উপাদান থাকে। এগুলি সবই হজমে সাহায্য করে। সঠিক ভাবে বানানো হলে এই জল পেট ঠান্ডা রাখে এবং পেটফাঁপার সমস্যা কমায়। পুষ্টিবিদের পরামর্শ, অতিরিক্ত মিষ্টি বা অতিরিক্ত ঝাল জল এড়িয়ে চললে পেটের উপর চাপ কম পড়ে।

ফুচকার ভিতরের আলুর পুরও বড় ভূমিকা নেয়। শুধুমাত্র আলু না দিয়ে যদি সেদ্ধ ছোলা বা অঙ্কুরিত ছোলা বা ডাল ব্যবহার করা হয়, তা হলে তাতে পুষ্টিগুণ বাড়ে। এতে পেট ভরে না, কিন্তু অস্বস্তি কম হয়।

তা ছাড়া অম্বল বা কোনও প্রকার সংক্রমণের সময়ে ফুচকা এড়িয়ে যাওয়া উচিত। পাশাপাশি, ৪-৬টির বেশি খাওয়া উচিত নয়। ১২টির বেশি তো একেবারেই নিষেধ করছেন শ্বেতা। অনেকেই অনেকগুলি ফুচকা একসঙ্গে খেয়ে নেন। পুষ্টিবিদের মতে, অল্প অল্প করে, মন দিয়ে চিবিয়ে ফুচকা খেতে হবে। এতে স্বাদও পাওয়া যায়, আবার শরীরও খারাপ করে না। আর দিনের বেলা খাওয়ার পরামর্শ পুষ্টিবিদের। তখন হজম বেশি ভাল হবে।

এই নিয়মগুলি মেনে খেলে ফুচকা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হবে না বলে মত পুষ্টিবিদের।

Advertisement
আরও পড়ুন