না জেনেই ট্রান্সফ্যাট যুক্ত খাবার খেয়ে ফেলছেন না তো? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
যতই ডায়েট করুন না কেন, দোকানে রং-বেরঙের প্যাকেট ঝুলতে দেখলে কিংবা খাবারের সুগন্ধ নাকে এলে নিজেকে আটকে রাখা মুশকিল। হয়তো সেই সব খাবারের কোনও পুষ্টিগুণ নেই। খেলে উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। তবুও রাস্তার ধারের মুখরোচক খাবারের টান এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। সঙ্গে খুদে থাকলে তো কথাই নেই। চিপ্স, চকোলেট কিংবা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার লোভ সম্বরণ খুব একটা সহজ কাজ নয়। তবে চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদ সকলেই বলছেন, মানুষের পছন্দসই বেশ কিছু খাবার রয়েছে, যা নিয়মিত খেলে ক্যানসার, ডায়াবিটিস, হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা ট্রান্স ফ্যাটের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
ট্রান্সফ্যাট শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। খাবারের সঙ্গে ট্রান্সফ্যাট শরীরে প্রবেশ করলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। ধীরে ধীরে এই ফ্যাট হার্টের ক্ষতি করতে শুরু করে। সাধারণত প্যাকেটজাত আর প্রক্রিয়াজাত খাবারের মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য তেলকে কৃত্রিম ভাবে কঠিন পদার্থে পরিণত করে খাবারের সঙ্গে মেশানো হয়। একেই বলা হয় ট্রান্সফ্যাট। এই ফ্যাটের ব্যবহারে ব্যবসায় লাভ হলেও শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
শিশু থেকে বড়, কারও শরীরের জন্যই ট্রান্সফ্যাট ভাল নয়। ওবেসিটি থেকে ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল থেকে হৃদ্রোগের মতো ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে না চাইলে ট্রান্সফ্যাট যুক্ত খাবার খাওয়া একেবারে বন্ধ করতে হবে। এর জন্য প্যাকেটজাত কিছু কেনার আগেই প্যাকেটের পিছনে উপকরণের তালিকায় চোখ বুলিয়ে নিন। অনেক সময়ে ছদ্মনামেও খাবারের মধ্যে এই ফ্যাট ব্যবহার করা হয়। প্যাকেটের গায়ে যদি হাইড্রোজেটেনেট অয়েল লেখা থাকে তা হলে বুঝতে হবে সেটা ট্রান্সফ্যাটেরই সমগোত্রীয়।
ফ্যাট শরীরের জন্য খারাপ নয়। রোজের ডায়েটে খারাপ ফ্যাট যুক্ত খাবারগুলি বাদ দিয়ে ভাল ফ্যাট যুক্ত খাবার খেতে হবে। বিভিন্ন রকম বাদাম, বীজ, অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডোতে থাকে ভাল ফ্যাট। এগুলি খেলে হৃদ্যন্ত্রের পাশাপাশি পেটও ভাল থাকবে।