Tiredness Reasons

দিন কয়েক ধরে ক্লান্তি চেপে বসছে, থিয়ামিনের অভাব নয় তো? বুঝবেন কী ভাবে

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫৮
ঘুম আসে না আর ক্লান্ত লাগে, সমস্যার নেপথ্য কোন কারণ থাকতে পারে?

ঘুম আসে না আর ক্লান্ত লাগে, সমস্যার নেপথ্য কোন কারণ থাকতে পারে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ক্লান্তি, ঘুমের অভাব খুব সাধারণ সমস্যা। তবে আপাত অর্থে সাধারণ লক্ষণই কিন্তু ইঙ্গিত দেয়, শরীর ঠিক নেই। ক্লান্তির নেপথ্যে যেমন হরমোনের ওঠাপড়া থাকতে পারে, তেমনই থাকে ভিটামিনের অভাবও। চিকিৎসকেরা বলছেন, কখনও কখনও শরীরে এমন ভিটামিন বা খনিজের অভাব হতে পারে, যা নিয়ে তেমন চর্চা হয় না।

Advertisement

ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন ডি বা বি কমপ্লেক্স নিয়ে আলোচনা হলেও, কখনও কখনও শরীরে ভিটামিন বি১ বা যাকে বলা হয় থিয়ামিন, তার অভাবও ঘটতে পারে। প্রয়োজনের চেয়ে তার মাত্রা অনেকটাই কমে গেলে, ক্লান্ত, অবসন্ন হয়ে পড়তে পারে শরীর। মুশকিল হল, এই ভিটামিনের অভাব হয়েছে কি না, তা খুব বেশি পরীক্ষা করানো হয় না। এ নিয়ে সচেতনতা কম। অথচ থিয়ামিন কমে গেলে নানা ভাবেই জানান দিতে পারে শরীর। তবে উপসর্গ অন্য পাঁচটা সাধারণ রোগলক্ষণের মতো হওয়ায় আলাদা করে ভিটামিনটির ঘাটতি বোঝা যায় না।

কার্বোহাইড্রেট বিপাক, শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য থিয়ামিনের দরকার হয়। এটি হৃৎপিণ্ডের ছন্দ ঠিক রাখতেও সাহায্য করে। এক জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২৫ মিলিগ্রামের মতো থিয়ামিনের প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, থিয়ামিনের অভাব হলে ক্লান্তি তো বটেই, ঘুমের অভাব হয়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। আবার এই সব উপসর্গ সাধারণ মানসিক চাপ হলেও হতে পারে। ফলে, চিকিৎসকদের পক্ষে বা রোগীর পক্ষেও বোঝা মুশকিল হয়, তা থিয়ামিনের অভাবে হচ্ছে কি না।

থিয়ামিনের অভাবের কারণ কী

অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এবং শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া, মদ্যপানের ফলে থিয়ামিনের অভাব হতে পারে। ময়দা, চিনি, সিম্পল কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলে, তা থেকে শক্তি উৎপাদনের জন্য বাড়তি থিয়ামিনের দরকার হয়। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ভিটামিনের জোগান না থাকলেই শুরু হয় সমস্যা। ক্লান্তি চেপে বসে।

কোন লক্ষণে সতর্ক হওয়া দরকার

থিয়ামিনের অভাবের প্রাথমিক লক্ষণগুলি হল—

· খিদে কমে যাওয়া, ঘুম না হওয়া, খিটখিটে মেজাজ, ক্লান্তি ভাব।

· স্মৃতিশক্তিও কমতে পারে, স্নায়বিক ক্ষমতা হ্রাস হতে পারে।

· থিয়ামিনের অভাব খুব বেশি হলে বেরিবেরির মতো অসুখ হতে পারে।

সমাধান

· পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। এড়াতে হবে অতিরিক্ত চিনি, কার্বোহাইড্রেট।

· বাদাম, টাটকা সব্জি, দানাশস্য, কড়াইশুঁটি, সয়াবিন, সামুদ্রিক মাছ খাদ্যতালিকায় রাখলে এই ভিটামিনের অভাব হবে না।

· ঘাটতি বেশি হলে চিকিৎসক সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন।

· অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা দরকার।

Advertisement
আরও পড়ুন