ছবি : সংগৃহীত।
যে রকম কনকনে শীত পড়েছে, তাতে সকাল-বিকেলে গরম গরম চা আর স্রেফ নেশার টানে নয়, ঠান্ডায় শরীরকে উষ্ণ রাখার প্রয়োজনেই খেতে হচ্ছে।
সর্দি-কাশি, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, ঠান্ডা লেগে কান ব্যথা কিংবা হাত-পা-পিঠ-কোমরের ব্যথা— সবকিছুই ক্ষনিকের জন্য বিরাম নিচ্ছে শরীরে গরমগরম পানীয় গেলে। জবুথবু হয়ে থাকা শরীর খানিক চনমনে বোধ করছে। বিশেষ করে সারা দিনের কাজের পর বিকেলে যখন তাপমাত্রার পারদ আবার নিম্নমুখী হতে শুরু করছে এবং শরীর জুড়ে নামছে ক্লান্তিবোধ, তখন গুছিয়ে বসে এক কাপ চা ‘এনার্জি বুস্টার’ পানীয়ের কাজ করতে পারে।
শীতের বিকেলে তেমন চা-পান আরও কার্যকরী হতে পারে যদি রান্নাঘরে ব্যবহার করা বিভন্ন মশলা দিয়ে ওই চা বানানো যায়। কী কী মশলা শীতকালীন সমস্যাকে আরাম দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও সাহায্য করবে? জেনে নিন ধাপে ধাপে শীতকালীন মশলা চা বানাবেন কী ভাবে?
১। শীতকালীন মশলা চায়ের জন্য লাগবে আদা, তুলসী, লবঙ্গ, গোলমরিচ, এলাচ, দারচিনি এবং সম্ভব হলে কয়েক দানা বড় এলাচ। এ ছাড়া কেউ কেউ সুগন্ধের জন্য এতে তারামৌরিও ব্যবহার করেন।
২। চায়ের জন্য চা পাতা আর জল। এ ছাড়া দুধ দিয়ে চা বানালে দুধ আর মিষ্টি খেলে রাখুন চিনি বা গুড়। তবে এই চায়ে ব্যবহৃত অধিকাংশ মশলা যেহেতু মিষ্টি স্বাদের, তাই চিনি ছাড়াও খেয়ে দেখতে পারেন। তাতে চা আরও বেশি স্বাস্থ্যকর হবে।
৩। প্রথমে একটি প্যান শুকনো অবস্থায় গরম করুন তার মধ্যে দিন লবঙ্গ, দারচিনি, ছোট এলাচ, বড় এলাচ এবং অল্প তারা মৌরী। সুগন্ধ বেরোলে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। তারপরে মিক্সারে মিহি করে গুঁড়িয়ে নিন। এই মিশ্রণটি একটি বায়ুরোধক জারে ভরে রাখুন। ভবিষ্যতেও কাজে লাগবে।
৪। ২ কাপ জল গরম করুন। এবার তৈরি করা মশলা থেকে আধ চা চামচ মশলা চায়ের জলে দিন। সঙ্গে দিন আদা কুচি, তুলসী পাতা এবং চায়ের পাতা। এ বার ফুটতে দিন। চায়ের রং গাঢ় বাদামি হয়ে এলে আঁচ বন্ধ করুন।
৫। যখন চা পরিবেশন করবেন, তখন প্রতি এক কাপ এই চায়ের নির্যাসের সঙ্গে এক কাপ দুধ ফুটিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে মশলাদার দুধ চা। চিনি বা গুড় ফোটানোর সময়েই মিশিয়ে নিতে পারেন।
৬। তবে যদি দুধ ছাড়া চা খেতে চান, তবে প্রতি কাপ মশলা চায়ের নির্যাসের সঙ্গে মিশিয়ে নিন এক কাপ জল। তার পরে ফুটিয়ে নিলেই তৈরি হবে দুধ ছাড়া মশলা চা।
৭। বাড়তি স্বাদের জন্য দ্বিতীয়বার চা ফোটানোর সময় অল্প জায়ফল গুঁড়ো দিয়ে দিতে পারেন।