সজনে দিয়ে রকমারি পদ। ছবি: সংগৃহীত।
রান্নাঘরের অতি পরিচিত এই গাছের পাতা, ডাঁটি, ফুল সবই নাকি ‘সুপারফুড’-এর তালিকায় পড়তে পারে। ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ভিটামিন, খনিজ, উদ্ভিজ্জ যৌগ— কী নেই সজনে গাছে! কেবল রান্নার স্বাদবৃদ্ধি নয়, শরীরের জন্যও দারুণ উপকারী এটি। সজনে ওজ়েম্পিক বা মেদ কমানোর চটজলদি সমাধান নয়। তবে, যদি প্রতি দিনের খাবারে যোগ করা যায়, তা হলে শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়ম করে সজনে খেলে হজম ভাল হয়, পেট দীর্ঘ ক্ষণ ভরা থাকে, বার বার খিদে পাওয়ার প্রবণতাও কমে। ঠিক এই কারণেই অনেকে ওজন কমানোর ডায়েটে সজনে রাখেন।
কী ভাবে খাদ্যতালিকায় সজনে যোগ করবেন? ছবি: সংগৃহীত
১. সজনের জল- সকালে খালিপেটে অনেকেই মধু জল, লেবু জল, মেথি জল ইত্যাদি পান করেন। তার পাশাপাশি সজনের গুঁড়ো মেশানো ঈষদুষ্ণ জল পান করলে দারুণ উপকার মিলতে পারে। সকাল সকাল ফাইবার ভর্তি এই জল পান করলে পেট পরিষ্কার হয়। পাশাপাশি, দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরা থাকে।
২. সজনের ডাল- সজনে খাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হল, সজনে পাতা দিয়ে ডাল। বাড়িতে যে ভাবে ডাল রান্না করেন, তার মধ্যে শেষের দিকে সজনে পাতা কুচি দিয়ে দিন। এতে ডালের স্বাদও বাড়বে, পুষ্টিগুণও যুক্ত হবে।
৩. সজনেফুল ভাজা- সজনের ফুল হালকা তেতো বলে অনেকেরই অপছন্দ। কিন্তু যদি পেঁয়াজ, আলু আর বড়ি দিয়ে ভাজেন, তা হলে স্বাদ পাল্টে যাবে। বাড়ির ছোটরাও তৃপ্তি করে খেতে পারবে।
৪. সজনের পরোটা/রুটি- রুটি বা পরোটার জন্য আটা-ময়দা মাখার সময় সজনের গুঁড়ো বা সজনে পাতা কুচি করে দিতে পারেন। তা দিয়ে লেচি কেটে পরোটা বা রুটি বানিয়ে ফেলুন।
৫. স্যালাডে সজনেগুঁড়ো- রকমারি স্যালাড, চাট ইত্যাদি বানানোর পর অল্প সজনে গুঁড়ো উপর দিয়ে ছড়িয়ে দিলে সেই খাবারের পুষ্টিগুণ এক নিমেষে বেড়ে যাবে। অল্প খিদে পেলে এই খাবার খেতে পারেন।
৬. সজনে ডাঁটার চচ্চড়ি- অনেকেই ডাঁটা খেতে পারেন না। কিন্তু সজনের ডাঁটার উপকারিতা অনেক। ডাঁটা চচ্চড়ি রান্না করলে তার সঙ্গে অল্প সর্ষে বাটা বা পোস্ত বাটা মিশিয়ে দিলেই পদের স্বাদ অনেক বেড়ে যাবে। অথচ খাবারের ক্যালোরি খুব বাড়বে না।
৭. ডিটক্স ওয়াটারে সজনে- ওজন কমানোর জন্য শসা, পুদিনা, লেবু, আদা বা অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ডিটক্স ওয়াটার বানান? তা হলে এ বার থেকে সেই জলে পুদিনার সঙ্গে সজনেপাতা মেশান অথবা সজনে গুঁড়ো ঢেলে দিন। এতে ওজন দ্রুত কমতে পারে।