মিষ্টির লোভ পরাস্ত করা কঠিন, জেনে নিন সহজ কৌশল? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
ডায়েট করছেন দিনভর, তবে মিষ্টি দেখলেই, ডায়েটের দফারফা। কিছুতেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না? জেনে রাখুন, এই দলে আপনি একা নন। খানিক আগেই ভরপেট খেয়েছেন, তবু মনের মতো মিষ্টি দেখলে বা কেক, পেস্ট্রির মতো খাবার পেলে নিজেকে সামলাতে পারেন না অনেকেই। পুষ্টিবিদেরা বলেন, এ আসলে পেটের নয়, চোখের বা মনের খিদে। লোভনীয় খাবার দেখলেই জিভে জল আসে, খাই খাই ভাবের কাছে পরাস্ত হয় যাবতীয় সংযম।
আসলে এমন অনুভূতির নেপথ্যে থাকে হরমোনের খেলা। মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে মনে ভাললাগা তৈরি হয়। ডোপামিনে্র মতো হরমোনের নিঃসরণ ঘটে। যা সুখানুভূতি দেয়। মুম্বই নিবাসী পুষ্টবিদ পূজা মাখিজ়া জানাচ্ছেন, মিষ্টি খাওয়ার লোভ সংবরণের এক কৌশল হতে পারে মেন্থল যুক্ত মাজন দিয়ে দাঁত মেজে নেওয়া। বিশেষত রাতের দিকে মিষ্টি খাওয়ার ঝোঁক আরও বাড়ে। সেই সময় দাঁত মেজে নিলে, তৎক্ষণাৎ নিজেকে সামলে নেওয়া যাবে। এর নেপথ্যে রয়েছে ব্যাখ্যাও। মাজনের হালকা মিষ্টি স্বাদ মুখে গেলে, মস্তিষ্কে সেই সঙ্কেত পৌঁছবে, ফলে সামান্য হলেও ডোপামিনের ক্ষরণ এতে বাড়বে। মস্তিস্কে পুরস্কার বা তৃপ্তি অনুভূত হবে।
বেঙ্গালুরুর এক হাসপাতালে দন্তচিকিৎসক সাক্ষী হিন্দুজাও এই বিষয়ে সহমত। তিনি জানাচ্ছেন, মিন্ট বা মেন্থল জাতীয় মাজন দিয়ে দাঁত মাজলে মস্তিষ্কে সঙ্কেত পৌঁছবে, মিষ্টি কিছু একটা স্বাদ মুখে গিয়েছে, কিন্তু তা স্বাদু নয়। তা ছাড়া, যাঁরা খাওয়ার পরেও নিয়ম করে দাঁত মাজেন, তাঁদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক বুঝবে, খাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিক যে মিষ্টি খাওয়ার লোভ, সেটি কমবে।
একই সঙ্গে চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, দিনের শুরুর পাশাপাশি দিনের শেষেও দাঁত মাজা জরুরি। কারণ, খাদ্যকণা লেগে থাকলে দাঁত এবং মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। খাবারের অবশিষ্টাংশ রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ বাড়িয়ে দেয়।