সুগার ও ওজন কমাতে আইসিএমআরের নতুন ফর্মুলা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ওষুধ খাওয়া অনেকরই পছন্দ নয়। এ দিকে সুগার বেড়ে গেলে ওষুধ ছাড়া গতি থাকে না। শুধু কি সুগার, ওজনও বেড়ে চলেছে পাল্লা দিয়ে? জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত বিবিধ অসুখ এখন ঘরে ঘরে। আর এ সব রোগ সারাতে ওষুধের চেয়ে পথ্যের উপরে জোর দেওয়ারই চিন্তাভাবনা চলছে। কেউ বলছেন, মেথি ভেজানো জল ভাল, কারও মত দারচিনি ও লবঙ্গের নির্যাস ওজন কমাবে, সুগারও। কেউ আবার হলুদ মিশিয়ে দুধ খাচ্ছেন রোজ। আসলে, ভেষজ উপকরণ শরীরের জন্য ভাল হলেও তার নির্ধারিত মাত্রা আছে। পরিমিতি বোধ না থাকলে হিতে বিপরীতই হবে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানিয়েছে, কষ্ট করে মাথা ঘামিয়ে এই সব ঘরোয়া টোটকার খোঁজ করতে হবে না। সে কাজটা দায়িত্ব নিয়ে তারাই করে দেবে। বেশি নয়, হেঁশেলের মাত্র ৫টি মশলা দিয়েই তৈরি হচ্ছে নির্যাস। তাতেই কমবে সুগার, জব্দ হবে স্থূলত্বও।
আইসিএমআর একা নয়, এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছে হায়দরাবাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন (এনআইএন)। দুই প্রতিষ্ঠানের মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে ‘পলি-হার্বাল এক্সট্র্যাক্ট’ (পিএইচই)। আদা, হলুদ, আমলকি, দারচিনি এবং গোলমরিচ— এই পাঁচ মশলা দিয়ে তৈরি এমন এক ভেষজ দাওয়াই, যা দিয়ে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে বলে দাবি গবেষকদের। এই মিশ্রণ ওজনও কমাবে।
ডায়াবিটিসের নানা রকম ওষুধ রয়েছে বাজারে। এখন ওজন কমানোর ওষুধও চলে এসেছে। তা হলে মশলা দিয়ে দাওয়াই বানাতে গেলেন কেন আইসিএমআরের গবেষকেরা? তাঁদের ব্যাখ্যা, বাজারে সহজলভ্য সুগারের ওষুধগুলি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। কিন্তু ‘পলি-হার্বাল এক্সট্র্যাক্ট’ শুধু যে সুগার নিয়ন্ত্রণের কাজ করবে তা নয়, শরীরের ভিতরে তৈরি হওয়া প্রদাহও কমাবে। সুগার বাড়লে রক্তে টক্সিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই টক্সিন নানা ভাবে শরীরে ক্ষতি করে। কারও রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যায়, যাকে বলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি। কারও আবার পায়ে ক্ষত বা আলসার হয়, যাকে বলে ডায়াবেটিক ফুট আলসার। এই ক্ষত বাড়তে থাকলে পা কেটে বাদও দিতে হয়। এ সবই হয় রক্তে বেড়ে চলা টক্সিনের কারণে। এই টক্সিনগুলি আবার রক্তনালির ক্ষতি করে, কিডনির কার্যক্ষমতা কমায়, ক্ষতি করে স্নায়ুরও। তাই ডায়াবিটিস থেকে আরও নানা রোগ তৈরি হয়। আইসিএমআরের তৈরি ভেষজ উপকরণের দাওয়াই এই টক্সিন দূর করার কাজটিই বেশি করে করবে, যাতে সুগারের রোগীকে আর অন্য কোনও অসুখে ভুগতে না হয়।
ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। ওজন যত বাড়বে, ততই এর হাত ধরে আরও নানা রোগ দেখা দিতে থাকবে। যেমন, মেদ জমবে লিভারে, হরমোনের গোলমাল হবে, ক্ষতি হবে হার্টেরও। আইসিএমআরের দাবি, তাদের ভেষজ দাওয়াই বিপাকহার বাড়িয়ে মেদ জমার প্রক্রিয়াটিকেই থামিয়ে দেবে।
‘পলি-হার্বাল এক্সট্র্যাক্ট’ এখনও বাজারে আসেনি। গবেষণাগারে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন গবেষকেরা। ভেষজ উপকরণ যে রোগ সারাতে কার্যকরী হচ্ছে, তা-ও বলা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, মানুষের উপর ট্রায়ালের পরে যদি এর গুণাগুণ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, তা হলে সেটি বাজারে দ্রুত নিয়ে আসা হবে। তবে ওষুধের বিকল্প হিসেবে নয়, সহায়ক চিকিৎসা হিসেবেই এর প্রয়োগ করা হবে।