কিডনির রোগ থাকলে কি কলা খাওয়া যায়? ছবি: সংগৃহীত।
জল কম খাওয়া, সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া, বাইরের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া— এমন কিছু কারণে কিডনি সংক্রান্ত নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। কিডনিতে সংক্রমণ হওয়ার, পাথর জমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যে কোনও বয়সে ধরা পড়তে পারে এই রোগ। এক বার কিডনির সমস্যা ধরা পড়লে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে খাওয়াদাওয়ায়।
কিডনির সমস্যা থাকলে প্রথমেই জরুরি প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা করে প্রোটিন, ক্রিয়েটিনিন, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, শর্করা ইত্যাদির পরিমাণ দেখে নেওয়া। অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি, না কি ক্রনিক কিডনি ফেলিয়োর, তা জানা ভীষণ জরুরি। সেই অনুযায়ী পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে রোজের ডায়েট স্থির করতে হবে। অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরির সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের প্রোটিন খাওয়ার বিষয়ে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হয় না। তবে ক্রনিক কিডনি ডিজ়িজ়ে প্রোটিনের সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। আবার রোগীর ডায়ালিসিস চললে তখন খাবারে প্রোটিনের মাত্রা বাড়ানো হয়। অনেক কিডনি রোগীর মনেই প্রশ্ন জাগে, তাঁরা কলা খেতে পারবেন কি না। কলা খেলে কি সমস্যা বাড়তে পারে?
কলা শুনলেই সবার আগে মাথায় আসে পাকা কলার কথা। পাকা কলায় ফাইবার থাকে, অনেক ক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রাতরাশেই হোক বা হালকা খিদে পেলে কলা খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তী বলছেন, ‘‘কলায় কিন্তু উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম থাকে। আর কিডনির রোগীদের জন্য উচ্চ পটাশিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত নয়। মাঝেমধ্যে অর্থাৎ মাসে এক, দু’বার কলা খাওয়া যেতে পারে, তবে রোজের ডায়েটে এই ফলটি রাখা চলবে না।’’
পুষ্টিবিদের মতে, কিডনির রোগীরা কাঁচকলা খেতে পারেন। শ্বেতা বলেন, ‘‘কাঁচকলায় পটাশিয়ামের মাত্রা পাকা কলার তুলনায় কম। আর রান্না করে নিলে পটাশিয়ামের মাত্রা আরও খানিকটা কমে যায়। খুব ভাল হয় যদি কাঁচকলা সেদ্ধ করে নিয়ে সেই জলটি ফেলে তার পর তা রান্না করা হয়। তাই বলে কিন্তু এটিও রোজ রোজ খাওয়া চলবে না। পরিমাণের উপর অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। এতেও পটাশিয়াম রয়েছে, তা ভুললে কিন্তু চলবে না।’’