করিনার চা পানের অভ্যাস কেমন? ছবি: সংগৃহীত।
সারা দিনের কাজের চাপ, যানজট, সংসারের দৌড়ঝাঁপ পেরিয়ে সন্ধ্যায় এক কাপ গরম, ধোঁয়া ওঠা চায়ে চুমুক যেন একটু নিজের যত্নের কথা বলে। অভিনেত্রী করিনা কপূর খানও নিজেকে সেই দলের মানুষ বলেই মানেন। এক কাপ দুধ চা, আর সেই সঙ্গে সাদামাঠা দু’টি মিষ্টি বিস্কুট নিয়ে ছবি পোস্ট করলেন সইফ-পত্নী। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন ওঠে, সন্ধ্যায় দুধ চা আর বিস্কুট খাওয়া কি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল?
চা-বিস্কুট নিয়ে করিনার ইনস্টাগ্রাম স্টোরি। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
পুষ্টিবিদদের মতে, চা পাতায় উপকারী উপাদান থাকলেও দুধ-চিনি মেশালে তার কিছু প্রভাব কমে যেতে পারে। বিশেষ করে, অনেকে যে ভাবে চা বেশি ক্ষণ ধরে ফুটিয়ে, দুধ-চিনি দিয়ে ঘন করে খান, তাতে ক্যালোরি বাড়ে। সন্ধ্যার সময়ে শরীরের বিপাকক্রিয়া একটু ধীর হয়ে আসে। তখন বেশি চিনি বা ময়দা জাতীয় বিস্কুট খেলেও অতিরিক্ত ক্যালোরি জমতে পারে।
এ দিকে চিনি ছাড়া লাল চায়ে অনেক উপকারিতা রয়েছে। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং যৌগ থাকে যা কোষকে সুরক্ষা দেয়। শরীরের প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে, কারণ ক্যাটেচিন, থিয়াফ্ল্যাভিন এবং থিয়ারুবিজিনের মতো পলিফেনল থাকে। হজমেও অসুবিধা হয় না। তাই এই চা সবচেয়ে নিরাপদ। কিন্তু যদি দুধ চা খেতেই হয়, তা-ও আবার সন্ধ্যায়, তা হলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। যাঁদের অম্বল ও গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, যাঁদের রাতে ভাল ঘুম হয় না, যাঁরা সারা দিনে প্রচুর চা খান, তাঁদের জন্য এই অভ্যাস স্বাস্থ্যকর নয়। চায়ে থাকা উত্তেজক উপাদান অনেকের ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে। যাঁদের ঘুম হালকা বা দেরিতে ঘুম আসে, তাঁদের ক্ষেত্রে সন্ধ্যার পর দুধ চা সমস্যা বাড়াতে পারে। আবার খালি পেটে চা খেলেও অম্বল বা গ্যাসের ঝুঁকি থাকে।
সন্ধ্যার পর দুধ চা খেলেও সচেতন ভাবে খেতে হবে, তা হলেই শরীরে বিরূপ প্রভাব পড়বে না। যেমন, জল ফুটিয়ে তাতে চা পাতা দিন। লিকার তৈরি হয়ে গেলে নামানোর ১-২ মিনিট আগে কম ফ্যাট যুক্ত বা স্কিমড দুধ মেশান। চা পাতার সঙ্গে দুধ দীর্ঘ ক্ষণ ফোটালে হজমের সমস্যা হতে পারে। হজমশক্তি বাড়াতে আদা, এলাচ বা লবঙ্গ ফুটিয়ে চা করতে পারেন। স্বাস্থ্যকর করতে চায়ে চিনির পরিবর্তে অল্প মধু বা গুড় মেশাতে পারেন। মিষ্টি বিস্কুটের বদলে বাদাম বা স্বাস্থ্যকর বিস্কুটও খেতে পারেন।