রোগা হওয়ার অন্যরকম ডায়েট! ছবি: সংগৃহীত।
মোটা নন। অথচ ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে মনে হতে পারে আপনি স্থূল। ছবির থেকেও বেশি ভিডিয়োয় এই সমস্যা হয়। যার ভয় পান অভিনেত্রীরাও। তাই পর্দায় রোগা দেখানোর জন্য তাঁরা পরিশ্রম করতেই থাকেন। খাওয়াদাওয়ার সময়ে প্রতিটি দানা মুখে তোলেন হিসাব কষে। জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী কৃতি সেনন জানালেন, পর্দায় রোগা দেখানোর জন্য তিনি কী নিয়ম অনুসরণ করেছিলেন।
চলতি বছর জুন মাসে আসতে চলেছে কৃতি অভিনীত নতুন ছবি ‘ককটেল ২’। কৃতি দীর্ঘাঙ্গী। চেহারাও প্রায় নির্মেদ। কিন্তু ছবিটি তৈরির সময়ে চরিত্রের প্রয়োজনে আরও রোগা হওয়ার দরকার ছিল তাঁর। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, চরিত্রটির জন্য ক্যালোরি ডেফিসিট ডায়েট করতে হয় তাঁকে।
ক্যালোরি ডেফিসিট ডায়েট কী?
‘ডেফিসিট’ অর্থাৎ ঘাটতি। দৈনন্দিন কাজের জন্য শরীরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালোরির প্রয়োজন হয়। বয়স ভেদে, লিঙ্গ ভেদে সেই প্রয়োজন বদলেও যায়। কৃতির বয়স ৩৫। তাঁর বয়সে এক জন মোটামুটি সক্রিয় মহিলার দৈনিক ১৬০০-২২০০ ক্যালোরি পর্যন্ত দরকার পড়ে। ক্যালোরি ডেফিসিট ডায়েটের মূল বক্তব্য হল শরীরকে তার প্রয়োজনীয় ক্যালোরির জোগান না দেওয়া। যদি দৈনিক ১৬০০ ক্যালোরির প্রয়োজন থেকে থাকে, তবে শরীরকে খুব বেশি হলে ৮০০-১০০০ ক্যালোরি দেওয়া। আর এই যে দৈনন্দিন ক্যালোরির ঘাটতি তা শরীর পূরণ করবে শরীরের বাড়তি মেদ ঝরিয়ে। তাতেই আরও স্লিম আর ট্রিম হবে চেহারার আদল।
ককটেল ২ ছবিতে মূলত বিকিনি এবং অন্যান্য খোলামেলা পোশাকে দেখা গিয়েছে কৃতিকে।
ক্যালোরি ডেফিসিট ডায়েট করে কৃতি কী বলছেন?
কৃতি জানিয়েছেন, তিনি নিজে ভাবতেন ওই ডায়েট স্বাস্থ্যকর নয়। বরং জ়িরো সাইজ ফিগারের যে ডায়েট চিকিৎসকেরা করতে বারণ করেন, এটি খানিকটা সেই রকমই। ওই ডায়েট করতে গিয়ে এক এক সময়ে তাঁর মনে হয়েছিল তিনি শাস্তি পাচ্ছেন। কারণ, সিনেমার শুটিংয়ে ইটালি যেতে হলেও তিনি পিৎজ়া বা পাস্তা খেতে পারছিলেন না। কিন্তু একটি বিষয় কৃতি স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই প্রথম ওই ডায়েট করলেন, আর তার ফল দেখে অবাকই হয়েছেন। কারণ ক্যালোরি ডেফিসিট ডায়েট এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করে তিনি যে ফলাফল পেয়েছেন তা চমকে দেওয়ার মতো নিখুঁত।
ক্যালোরি ডেফিসিট ডায়েট কি স্বাস্থ্যকর?
পুষ্টিবিদেরা বলছেন, এই ডায়েট অস্বাস্থ্যকর নয়। বরং রোগা হওয়ার মূল যে নীতি, এটি তার ভিত্তিতেই বানানো। রোগা হতে গেলে যত ক্যালোরি শরীরে যায়, তার চেয়ে বেশি ক্যালোরি খরচ করতে হয়। এখানে বিষয়টি শুধু উল্টে দেওয়া হয়েছে। এখানে যত ক্যালোরি খরচ হয়, তার চেয়ে কম ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাওয়াদাওয়া করতে হবে।
চিকিৎসক আমরিন শেখ যদিও এ ব্যাপারে এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বলছেন, ‘‘ক্যালোরি ডেফিসিট ডায়েট স্বাস্থ্যকর হবে না অস্বাস্থ্যকর, তা নির্ভর করবে, কী খাবার বেছে নিচ্ছি তার উপর। ক্যালোরির ঘাটতি রাখতে গিয়ে পুষ্টির ঘাটতি করে ফেললে মুশকিল। তখন শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই সঠিক পুষ্টির জোগান বজায় রেখে তার পরে ক্যালোরি কমানো উচিত।’’