Prostate Cancer

প্লাস্টিককণা জমে গজাচ্ছে টিউমার! ৯০ শতাংশ প্রস্টেট ক্যানসারের রোগীর রক্তে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

ক্যানসার কোষেও ঢুকে পড়েছে প্লাস্টিকের কণা? না কি গুঁড়ো প্লাস্টিক জমেই তা ক্যানসারের রূপ নিচ্ছে? গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্রস্টেট ক্যানসারের জন্যও দায়ী হতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিকই। ৯০ শতাংশ এমন রোগীর রক্তে প্লাস্টিকের কণাই পাওয়া গিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩২
Microplastics have now been found inside most prostate cancer tumours, New study says

প্রস্টেট ক্যানসারের কারণও কি প্লাস্টিক? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রক্তে প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গিয়েছে আগেই। মানুষের মস্তিষ্কেও প্রবেশ করেছে তারা। এমনকি, মায়ের গর্ভেও প্লাস্টিকের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। আর এখন বিপদ নাকি আরও বেড়েছে। ডিম্বাণু ও শুক্রাণুতেও ঢুকে পড়েছে প্লাস্টিক। শুক্রাশয়ে এত পরিমাণ প্লাস্টিকের কণা যে জমা হতে পারে, তা চিন্তারও বাইরে। এমনই জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। একটি গবেষণায় প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্টেট ক্যানসারের রোগীর রক্তে ও টিউমার কোষে পাওয়া গিয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এই প্লাস্টিক শরীরে জমা হয়ে তা ক্যানসারের রূপ নিয়েছে বলেই ধারণা গবেষকদের।

Advertisement

আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজ়িজ় প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (সিডিসি)-এর গবেষণাও চমকে দেওয়ার মতোই। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, প্রস্টেট ক্যানসার হয়েছে, এমন রোগীর শরীরে তৈরি টিউমার কোষের নমুনা নিয়ে তা বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, প্রতি গ্রাম কোষে অন্তত ৪০ মাইক্রোগ্রামের বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, গোটা টিউমারটিতে সেই হিসেবে কী পরিমাণ প্লাস্টিকের কণা রয়েছে। রক্তে এক বার মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকে গেলে, তা বিভিন্ন অঙ্গে যে সহজে পৌঁছে যেতে পারে, তা বোঝা কঠিন নয়। বিপদ সেখানেই।

এই গবেষণাটির সমীক্ষায় যাঁরা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের কারও শরীরে পাওয়া গিয়েছে পেট প্লাস্টিক যা দিয়ে তৈরি হয় জলের বোতল, কারও শরীরে মিলেছে পলিস্টেরাইন, যা থাকে খাবারের কন্টেনারে। আবার কয়েক জন রোগীর রক্তে পাওয়া গিয়েছে পলিইথাইলিন, যা দিয়ে তৈরি হয় প্লাস্টিকের ছোট ব্যাগ। এক-এক জনের শরীরের রক্তে আবার দু’-তিন রকমের প্লাস্টিকও পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু কী ভাবে তা রক্তে প্রবেশ করছে, এখনও গবেষণাসাপেক্ষ।

জলের বোতল, খাবারের প্যাকেট, দুধের প্যাকেট থেকে শুরু করে প্রসাধন সামগ্রী, এমনকি প্রাণদায়ী ওষুধও বিকোচ্ছে এখন প্লাস্টিক কন্টেনারে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্লাস্টিকের কণা শরীরে ঢুকে পড়ছে। এর আগেও ৫০ মাইক্রনের নীচে প্লাস্টিকের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও তা বহাল তবিয়তে বেঁচে রয়েছে পাড়ার দোকানে, গৃহস্থালিতে। আর এখন তা পেরিয়ে মানুষের রক্তে, কোষে-কলায়।

মাইক্রোপ্লাস্টিক দিনের পর দিন শরীরে ঢুকে রক্তে মিশতে থাকলে তা শুধু ক্যানসার নয়, আরও নানা জটিল রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। প্লাস্টিকের কণা রক্তে মিশে ইনসুলিনের ক্ষরণে প্রভাব ফেলে। যা পরবর্তী সময়ে ডায়াবিটিসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। শুধু তা-ই নয়, প্লাস্টিক শরীরে হরমোনের ভারসাম্যও বদলে দিতে পারে। আর জনন কোষ যদি প্লাস্টিকের কবলে পড়ে, তা হলে প্রজননের প্রক্রিয়াই ব্যাহত হবে, তেমনই জটিল রোগ নিয়ে জন্মাবে শিশু।

Advertisement
আরও পড়ুন