অভিনেত্রী মিনি মাথুর। ছবি: সংগৃহীত।
বয়স বাড়ার সঙ্গে মহিলাদের শরীরে হরমোনের ওঠাপড়া খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে ৪০ পেরোলেই অনেক মহিলার শরীরে হরমোনজনিত নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। এর ফলে কখনও ঘুমের সমস্যা, কখনও ক্লান্তি, মেজাজের ওঠানামা, হাড় দুর্বল হওয়া বা হজমের গোলমাল দেখা দিতে পারে। এই সময়ে সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন খুবই জরুরি। তাতেও ঘাটতি থেকে যেতে পারে নানা পুষ্টি উপাদানের। সেই সময়ে অনেকের ক্ষেত্রেই সমস্যার সুরাহা হিসেবে আসে সাপ্লিমেন্ট।
অভিনেত্রী ও সঞ্চালিকা মিনি মাথুর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ৫০ বছর বয়স পেরোনোর পর থেকে নিজের শরীরের যত্নে তিনি কয়েকটি সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত গ্রহণ করেন। কয়েক মাস অন্তর অন্তর আবার সেগুলি পরিবর্তনও করতে থাকেন তিনি। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টও বদলায়। মিনি কোন কোন সাপ্লিমেন্ট নেন, সেগুলির কাজ কী?
ইসবগুল
ইসবগুল। ছবি: সংগৃহীত
ইসবগুল হজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। এতে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রের কাজ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ইসবগুল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে যায়। এটি পেট পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করে। পাশাপাশি পেটফাঁপা বা অস্বস্তির সমস্যাও কিছু ক্ষেত্রে কমাতে পারে।
ম্যাগনেশিয়াম
ম্যাগনেশিয়াম। ছবি: সংগৃহীত
শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এটি পেশি ও স্নায়ুর কাজ স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসকদের মতে, ম্যাগনেশিয়াম ঘুমের মান ভাল রাখতেও সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো, মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করা এবং শরীরের ক্লান্তি কমাতেও এটি কার্যকরী হতে পারে।
ভিটামিন ডি
ভিটামিন ডি। ছবি: সংগৃহীত
হাড় মজবুত রাখতে ভিটামিন ডি অত্যন্ত জরুরি। শরীরে ক্যালশিয়াম ঠিক ভাবে শোষিত হতে এই ভিটামিনের প্রয়োজন রয়েছে। অনেকেই পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়ার কারণে ভিটামিন ডি-র ঘাটতিতে ভোগেন। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে এই সাপ্লিমেন্ট নিলে অনেক সময় উপকারী হতে পারে।
ভিটামিন সি
ভিটামিন সি। ছবি: সংগৃহীত
ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, এটি ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিন শরীরে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসাবে কাজ করে। ফলে কোষের ক্ষতি কমাতে এবং শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি সহায়ক ভূমিকা নিতে পারে।
ক্রিয়েটিন
ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
এটি একটি প্রাকৃতিক যৌগ যা লিভার, কিডনি এবং অগ্ন্যাশয়ের অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে তৈরি হয়। পেশি এবং মস্তিষ্কের টিস্যুতে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। এটি খেলাধুলোর শক্তিবৃদ্ধি এবং পেশির ক্ষমতাবৃদ্ধির জন্যও প্রয়োজনীয়। পেশিক্ষয় রোধ করতেও এটি কার্যকরী।
ক্যালশিয়াম
ক্যালশিয়ামের অভাব। ছবি: সংগৃহীত
শরীরের হাড় মজবুত রাখা, দাঁত শক্ত রাখা এবং পেশি ও স্নায়ুর কাজ ভাল ভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য ক্যালশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে ক্যালশিয়ামের প্রয়োজন বেশি, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। ছবি: সংগৃহীত
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে যে সব পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রয়োজন হয়, তার মধ্যে অন্যতম হল ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। হার্টের স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে, হাড় এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যরক্ষাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। ট্রাইগ্লিসারাইড এবং প্রদাহ কমাতেও উপকারী এটি।
তবে চিকিৎসকদের মতে, সাপ্লিমেন্ট কখনওই সুষম আহারের বিকল্প নয়। এগুলি শুধুমাত্র তখনই নেওয়া উচিত, যখন শরীরে কোনও নির্দিষ্ট ঘাটতি থাকে বা চিকিৎসক তা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাই নিজের ইচ্ছায় সাপ্লিমেন্ট শুরু করার বদলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।