Fruit Juice and Obesity in Children

ফলের রস কি শিশুর স্থূলতা ও ডায়াবিটিসের কারণ হতে পারে? কেমন ভাবে খেলে তা ক্ষতিকর হবে?

বাজারচলতি প্যাকেটজাত ফলের রস বা নরম পানীয় শিশুর জন্য ক্ষতিকর। কিন্ত ঘরে টাটকা ফলের রস খেলেও কি শিশুর ওজন ও রক্তচাপ বাড়তে পারে? গবেষণা বলছে, ফলের রস ভুল পদ্ধতিতে ও ভুল সময়ে খেলে তা শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর হবে না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১২:৪৯
New research says, why Your Child’s Favorited Fruit Juice Could Lead to Obesity

ফলের রস কী ভাবে ছোটদের খাওয়ালে তা ক্ষতিকর হতে পারে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য ফল বা ফলের রস খাওয়ারই পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। বাজারচলতি প্যাকেটজাত ফলের রস ক্ষতিকর। বদলে ঘরেই টাটকা মরসুমি ফল দিয়ে রস বানিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী বলেই জানা ছিল এতদিন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, টাটকা ফলের রস খুবই উপকারী, তবে কী ভাবে ও কোন সময়ে ছোটদের খাওয়ানো হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল পদ্ধতিতে ফলের রস খাওয়ালে তা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এর থেকে যেমন শিশুর ওজন বৃদ্ধি হতে পারে, তেমনই বেড়ে যেতে পারে রক্তচাপও।

Advertisement

আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিকাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে, ফলের রস ভুল পদ্ধতিতে খাওয়ালে তা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যে শিশুদের ফলের রসে চিনি বা মধু মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বা সকালে খালি পেটে খাওয়ানো হয়, তাদের ওজন দ্রুত বাড়ে এবং ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবিটিস হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়।

ফলের রস কী খেলে উপকারের চেয়ে অপকার হবে বেশি?

ফল গোটা খেলে যতটা ফাইবার শরীরে ঢুকবে, তা ব্লেন্ড করে খেলে ফাইবারের মাত্রা অনেকটাই কমে যাবে। আপেল, আঙুর, পেয়ারা, শশা, স্ট্রবেরি জাতীয় ফলগুলিতে ক্যারোটিনয়েড, ফ্লাভোনয়েড থাকে যা উপকারী। কিন্তু খোসা ছাড়িয়ে রস করলে এই উপাদানগুলির পরিমাণ অনেক কমে যাবে, কমবে ফাইবারের মাত্রাও। ফাইবার যেহেতু কমবে, তাই ফলের প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুক্টোজ় রক্তে মিশলেই তা শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। কাজেই ছোটদের রোজ ফলের রস না খাইয়ে, গোটা ফল খাওয়ানোরও অভ্যাস তৈরি করুন।

এক গ্লাস রস তৈরি করতে একাধিক ফলের প্রয়োজন হয়। এতগুলি ফলে থাকা ফ্রুক্টোজ় লিভারে গিয়ে পৌঁছোলে হজমপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়। ফলে ক্যালোরির মাত্রা বাড়তে থাকে। হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

সকালে বা দীর্ঘ ক্ষণ খালি পেটে থাকার পর শিশুকে ফলের রস দিলে তা দ্রুত ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত এমনটা হতে থাকলে শরীরে ‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’ তৈরি হয় যা পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবিটিসের প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

ফল টক হলে অনেক সময়েই অভিভাবকেরা স্বাদ বৃদ্ধির জন্য বাড়তি চিনি বা মধু মেশান। সিরাপও মিশিয়ে দেন। এটি শরীরে ক্যালোরির মাত্রা দ্বিগুণ করে দেয়, যা স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

ব্লেন্ডারে টানা ঘুরিয়ে ফল থেকে রস বার করার সময়ে তাতে থাকা ভিটামিন সি ও কয়েক প্রকার উৎসেচক নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শিশু কেবল মিষ্টিটুকুই পায়, পুষ্টি নয়।

কী ভাবে খাওয়াতে হবে?

শিশু যদি গোটা ফল খেতে না চায়, তা হলে ফলের রস না ছেঁকে শাঁস সমেতই স্মুদি বানিয়ে দিন। এতে ফাইবারের মাত্রা ঠিক থাকবে।

ফলের রস বা ফল দিয়ে তৈরি স্মুদির সঙ্গে কিছুটা টক দই, চিয়া বীজ ও বাদাম বা ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে ফলের রসের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট মিশে যাবে যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে দেবে না।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিশুর বয়স এক বছরের কম হলে কোনও ভাবেই ফলের রস খাওয়ানো যাবে না। ১ থেকে ৬ বছর বয়সে দিনে আধ গ্লাস বা তারও কম ফলের রস খাওয়াতে পারেন। তবে দিনে একবারই খাওয়াতে হবে।

বাজারচলতি প্যাকেটবন্দি ফলের রস বা ‘নো অ্যাডেড সুগার’ লেখা ফলের রসও শিশুকে দেবেন না। এগুলিতে এমন প্রিজ়ারভেটিভ থাকে যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

Advertisement
আরও পড়ুন