Regenerative Skin Therapy

বোটক্স এখন অতীত, ত্বকের যৌবন ফেরাতে ‘রিজেনারেটিভ’ থেরাপি পছন্দ করছেন কমবয়সিরা, কী এই পদ্ধতি?

রিজেনারেটিভ অ্যাসথেটিক্স থেরাপি পছন্দ করছেন অল্পবয়সিরা। ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখতে এই থেরাপি টেক্কা দিচ্ছে বোটক্সকেও। বয়স যতই হোক, ত্বকের কোষকে যৌবনের মতোই সতেজ ও টানটান রাখতে রিজেনারেটিভ থেরাপির দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।

Advertisement
শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০১
New Science of Anti-Aging, how Regenerative Therapy is changing Skin Care

রিজেনারেটিভ থেরাপি কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বয়স বাড়লে ত্বক কুঁচকে যাওয়া, বলিরেখা পড়ার সমস্যা স্বাভাবিক। কিন্তু এখনকার সময়ে বয়সের সেটুকু ছাপ রাখতেও অনেকে রাজি নন। ত্বক হবে যৌবনের মতোই ঝকঝকে ও টানটান। তারকাদের দেখাদেখি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে চেষ্টার অন্ত নেই। কেউ করাচ্ছেন বোটক্স, কেউ লেজ়ার দিয়ে বলিরেখার চিহ্ন মিটিয়ে দিচ্ছেন আবার কেউ নানা রকম রেডিয়েশন থেরাপির দিকে ঝুঁকছেন। এক সময়ে বোটক্স নিয়ে মাতামাতি ছিল বেশি। কিন্তু এখন বোটক্সও অতীত হয়েছে। সে জায়গায় চলে এসেছে রিজেনারেটিভ অ্যাসথেটিক্স।

Advertisement

রিজেনারেটিভ থেরাপি আসলে কী?

রিজেনারেটিভ কোনও এক ধরনের থেরাপি নয়। এটি করা হয় বুড়িয়ে যাওয়া বা মৃতপ্রায় কোষকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলার জন্য। এই থেরাপির মূল লক্ষ্যই হল ত্বকে কোলাজেনের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। রিজেনারেটিভ থেরাপি করালে ত্বকের যৌবন দীর্ঘ সময় ধরে রাখা সম্ভব, যা কেবল বোটক্সে হয় না।

রিজেনারেটিভ অ্যাসথেটিক্স থেরাপির একটি হল প্লেটলেট রিচ প্লাজ়মা থেরাপি। ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক মেরামত করতে প্লেটলেট-রিচ প্লাজ়মা থেরাপি (পিআরপি)-র প্রয়োগ করেন চর্মরোগ চিকিৎসকেরা। কোনও দুর্ঘটনায় যাঁদের ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অথবা জটিল রোগের চিকিৎসা চলাকালীন ত্বক বুড়িয়ে গিয়েছে অথবা কম বয়সেই ত্বকে বলিরেখা বা মেচেতার দাগ পড়ে গিয়েছে, তাঁদের ত্বকের কোষের পুনর্গঠনের জন্য এই থেরাপি করা হয়। এই থেরাপি ত্বকের বাকি থেরাপিগুলির থেকে অনেকটাই আলাদা। প্রথমে শরীর থেকে রক্ত নিয়ে তা থেকে রক্তকোষ ও রক্তরস (প্লাজ়‌মা) আলাদা করা হয়। প্লাজ়মার মধ্যে যে পরতটা উপরে থাকে, তাতে অনেক রকম গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে। এই অংশটা অণুচক্রিকা বা প্লেটলেটে পরিপূর্ণ। এই গ্রোথ ফ্যাক্টরগুলিই ত্বকের ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। প্লাজ়মা থেকে ওই পরতটা তুলে নিয়ে তা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ত্বকে প্রয়োগ করা হয়। এতে কোষে কোষে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ে। ত্বক টানটান হয় ও ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে। মেচেতা থাকলে তা-ও কমে যায়। পিআরপি-র মাধ্যমে ত্বকের তারুণ্য ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় বলে দাবি করেন চিকিৎসকেরা। সেশন প্রতি এমন থেরাপির খরচ ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। কাকে কতগুলি থেরপি নিতে হবে, সেটা চিকিৎসকেরাই বলতে পারেন।

রিজেনারেটিভ থেরাপির আরও একটি ধরন হল বায়ো-রিমডেলিং থেরাপি। ত্বকের কাটাছেঁড়া বা কোনও রকম অস্ত্রোপচার নয়, সুচ ফুটিয়ে ত্বকের নানা জায়গায় সামান্য পরিমাণে হায়ালুরনিক অ্যাসিড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে ত্বকের যে জায়গায় বলিরেখা পড়েছে, দাগছোপ রয়েছে অথবা কোনও ক্ষত তৈরি হয়েছে, সেখানকার কোষ পুনর্গঠনের জন্যই এই থেরাপি করা হয়। হায়ালুরনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং তারুণ্য ধরে রাখে। শুষ্ক, নিষ্প্রাণ ত্বকে জেল্লা ফেরাতে পারে খুব তাড়াতাড়ি। পাশাপাশি, ত্বকে পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখে। ত্বক থেকে বার্ধক্যের ছাপ মুছতে তাই এই থেরাপি করান অনেকেই। ৪ থেকে ৬ মাস অন্তর ইঞ্জেকশন নিতে হয় ত্বকে। তবে এর স্থায়িত্ব ১ বছর। এ দেশে এই থেরাপির এক একটি সেশনের জন্য খরচ পড়ে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

Advertisement
আরও পড়ুন